সোহাগ মনি: পৃথিবী প্রতিনিয়ত পালটে যাচ্ছে, সেই সঙ্গে পালটাচ্ছে মানবসমাজ। আমাদের এই সমাজব্যবস্থার ভিত্তি এক দিনে গড়ে উঠেনি, এর পেছনে রয়েছে কত শত জানা আর না জানা ইতিহাস। মানুষ সংঘবদ্ধ হয়ে বাস করার প্রয়োজনীয়তা থেকেই সমাজ আর সামাজিক ব্যবস্থার উদ্ভব। নিজের প্রয়োজনে অন্যকে আর অন্যের প্রয়োজনে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার প্রবণতাই টিকিয়ে রেখেছে আজকের সমাজ ব্যবস্থাপনা। একুশ শতকের এই সময়ে সমাজব্যবস্থা আর মানুষের প্রয়োজনীয়তার রূপ বদলেছে। আশা-নিরাশা, মিলন-বিরহ, আর চাওয়া-পাওয়ার দ্বান্দ্বিক এক জীবনের দিকে প্রতিনিয়ত আমরা ছুটে চলছি। এই দ্বান্দ্বিক জীবনের ক্ষেত্রে সামাজিক অবক্ষয় আর নৈতিকতার দিক থেকে সরে পড়ছে মানুষ কিংবা স্বার্থের প্রয়োজনে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। সামাজিক বন্ধন আর নিজেদের প্রয়োজনকে ঠিক রেখে আধুনিক সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কিছু দিকের প্রতি গুরুত্বের সময় এসেছে, আর তার মধ্যে অন্যতম হলো সামাজিক সংগঠন। প্রতিটি সমাজেই কোনো না কোনো ধরনের সামাজিক সংগঠনের প্রয়োজন রয়েছে। এক সময় এই সামাজিক সংগঠন সমাজের নানান সমস্যা নিয়ে আলোচনা আর সমালোচনার মাধ্যমে তা সমাধানের পথ বের করেছে। বিশেষ করে নব্বইয়ের দশকে, তখনকার সমাজব্যবস্থায় খুব প্রভাব ছিল সামাজিক সংগঠনের, এমনকি সমাজ পরিবর্তনে অনেক বড় ভূমিকাও রেখেছে সামাজিক প্রেক্ষাপটে। কিন্তু আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা অর্থাত্ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যোগাযোগের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন সাধন করলেও নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছে সামাজিক সংগঠনের মেরুদণ্ডকে। অনলাইন নির্ভর যোগাযোগের মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ থাকছে সামাজিক সংগঠনগুলো, কিন্তু বাস্তবিক অর্থে মাঠে থেকে সমাজের পরিবর্তন সাধনের যে ভূমিকা তা আর হয়ে উঠছে না। সমাজে প্রতিনিয়তই বাড়ছে দ্বন্দ্ব্ব। আর এই দ্বন্দ্ব্বের নিরসনে সামাজিক সংগঠনই রাখতে পারে সবচেয়ে বড় ভূমিকা। সামাজিক সংগঠনের কর্মকাণ্ড সমাজে এক ধরনের প্রবাহ সৃষ্টি করে, যেমন ধরা যাক কোনো এক সমাজে বাল্যবিবাহ রুখতে একটি সংগঠন রয়েছে, আর সেই সংগঠন তাদের কার্যকরী ভূমিকা রাখছে, এক্ষেত্রে সমাজের প্রতিটি মানুষের মনে বাল্যবিবাহ সম্পর্কে একটু হলেও ভীতি সৃষ্টি হবে, মানুষজন একবারের জন্য হলেও ভাববে বাল্যবিবাহ দেওয়ার আগে। একজন থেকে অন্যজনের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়বে, নিজেদের ভেতর আলোচনা হবে। এভাবে সামাজিক সংগঠন থাকলে সমাজের যে কোনো সমস্যা নিয়ে কথা উঠবে, তা থেকে মানুষ কিছুটা হলেও সচেতন হবে, সমাজ পরিবর্তন হবে। এভাবে মাদক, নারী নির্যাতন, নারী পাচারসহ সামাজিক অনেক দিকের প্রতি মানুষের নজর আসবে, সমাজ থেকে দ্বন্দ্ব্ব কমবে, আর প্রসারিত হবে আরো নতুন দিগন্ত। আমাদের এখন উচিত একটু ভিন্নভাবে চিন্তা করা। সমাজকে কীভাবে আরো নতুন করে সাজানো যায় সেই ভাবনা করার এখনই সময়। চারদিকে যখন হত্যা, গুম, ধর্ষণ, আর নৈতিক মূল্যবোধের অভাব সেই সমাজতে আবার জাগিয়ে তুলতে পারে সামাজিক সংগঠন। যেসব সংগঠন নামে মাত্র চলছে, সেসব সংগঠনকে কার্যকরী করার উদ্যোগ নিতে হবে সমাজের মানুষেরই। যেসব নাগরিক জীবন সম্পর্কে সচেতন তাদের হাত ধরেই আসবে পরিবর্তন। আর পরিবর্তনের সূচনা করতে হবে সমাজ থেকেই, তাহলে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে জাতি। সামাজিক সংগঠনগুলোর তালিকাবদ্ধ করে, কীভাবে আরো কার্যক্ষমতা বাড়ানো যায় এ বিষয়ে সরকারকেও নজর দিতে হবে। সরকারি নজরদারি এবং সহায়তা কিছুটা পেলেও সামাজিক সংগঠনগুলো তাদের নিজস্ব কার্যক্রম চালাতে পারবে, যা দেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে রাখতে পারবে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। লেখক :শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র :
স্বেচ্ছাশ্রমে পরিচালিত সামাজিক সংগঠনকে উৎসাহ দেয়া প্রসঙ্গে আখতার হোসেন আজাদ: আমাদের বর্তমান যান্ত্রিক জীবনে সামাজিক সংগঠনগুলো অন্যতম আস্থা ও ভরসার প্রতীক হিসেবে উদীয়মান হয়েছে। শিক্ষিত সচেতন যুবকরা নির্দিষ্ট লক্ষ্য
আল্লামা শেখ ড. ইউসুফ আল-কারযাভী ধ্যান ॥ উচ্চস্তরের ইবাদত সর্বজনমান্য ইসলামি চিন্তাবিদ। ১৯৭৩ সালে আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের উসূল আদ-দ্বীন অনুষদ হতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ড. কারযাভী মিশর সরকারের বোর্ড
শরাফ ইকবাল : আলোড়ণ সৃষ্টিকারী সংগঠন ঝিকুট ফাউন্ডেশন তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এই প্লাটফর্মে আছে তাবড় তাবড় ব্লগার, যশস্বী অনলাইন এক্টিভিস্ট, ডাকসাইটে সাংবাদিক, সম্ভাবনাময় লেখক, সাহিত্যিক, উদিয়মান কলামিস্ট,
সন্ধ্যা নামার আগে সাজ্জাদ খান সাদা কালো মেঘের সমাবেশ যখন চলছিলো, এদিকে পত্র পল্লবের চলছে বিদ্রহ, অনশন; চাঁদ আর সূর্যের গোপন বৈঠক শেষ না হতেই বাতাসে তোমার আমার সদ্য সংবাদ
আশরাফ ইকবাল: শেকড়ের সন্ধানে বিক্রমপুরের বিভিন্ন ঐহিত্যবাহী স্থান দর্শনের জন্য হন্য হয়ে ছুটে চলছি এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায়। বিভিন্ন গ্রাম, সমাজ, পরিবেশ, সংস্কৃতি, ধর্ম, বর্ণ প্রভৃতির সাথে মিশে অভিজ্ঞতার
সবুজ ভূমির দেশ আশরাফ ইকবাল মাঠে মাঠে ফসল ভরা দেখতে যেন মন কাড়া সবুজ ভূমির দেশ। নদ-নদী পানিতে ভরা নীল আকাশে পাখি চড়া দেখতে লাগে বেশ। নিঝুম রাতে হাজার তারা
নবাব স্যার সলিমুল্লাহ সাইদুল ইসলাম খান: ১৮৭১সালের ৭ই জুন ঢাকার নবাব বাড়ির আহসান মঞ্জিলে জন্ম গ্ৰহন করেন।ঢাকাতেই তার শ্বৈশব কৈশর অতিবাহিত হয়েছে।তৎকালীন অভিজাত ও বিত্তশালী লোকদের সন্তানদের নিজ গৃহে শিক্ষক
সিরাজদিখানের কথা একেএম শামসুদ্দীন : ১৯৮৭ সালে ২৫শে ফেব্রুয়ারি মুন্সীগঞ্জ জেলার সিদদিখানে ইউএনও হিসেবে যোগদান করি ৷ ইউএনও-এর পদ শূন্য থাকায় উপজেল ম্যাস্ট্রেট রতন কুমার রায় ভারপ্রাপ্ত ইউএনও ছিলেন। আমি
অক্সিজেন খুঁজি মুহিব বিন ইসহাক সময়টা নয়, আমিই হয়ে গেছি মন্দ! চারিদিকে শুধু কার্বন ডাই-অক্সাইড, তার পাশে মিথেন- হাইড্রোজেন আর হিলিয়ামও আছে কিছু! অক্সিজেন খুঁজি, দক্ষিণা হাওয়ার কাছে শুধাই, সে