
নবাব স্যার সলিমুল্লাহ
সাইদুল ইসলাম খান:
১৮৭১সালের ৭ই জুন ঢাকার নবাব বাড়ির আহসান মঞ্জিলে জন্ম গ্ৰহন করেন।ঢাকাতেই তার শ্বৈশব কৈশর অতিবাহিত হয়েছে।তৎকালীন অভিজাত ও বিত্তশালী লোকদের সন্তানদের নিজ গৃহে শিক্ষক রেখে লেখাপড়া শিখানো হতো।তদানুযায়ী বৃটিশ এবং জার্মান শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে উত্তম রুপে শিক্ষা লাভ করেন। উর্দু ও ফরাসি বিশেষজ্ঞ দের সহযোগিতা পেয়েছিলেন শিক্ষা ব্যবস্থায়।জড়ি পোষাক খুলে রেখে সাদা পাঞ্জাবি ও পায়জামা পড়ে চক বাজার শাহী মসজিদে নামাজ আদায় করতেন।

লেখক: সাইদুল ইসলাম খান।
নবাব স্যার সলিমুল্লাহ ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলিম জাগরণের অগ্রদূত। সর্বাধিক সম্মানিত নেতা। মাদ্রাসা শিক্ষা সংস্কারক, শ্রেষ্ঠ দানবীর, ইসলামী ভাবধারার সহায়ক একজন আদর্শ বান মহাপুরুষ ও জনদরদী নেতা। অবহেলিত মুসলিম সম্প্রদায়ের অধিকার আদায়ে তিনি আজীবন প্রচেস্টা চালিয়ে গেছেন। একথা ঐতিহাসিক ভাবে সত্য যে নবাব স্যার সলিমুল্লাহ সমর্থন না থাকলে ১৯০৫ সালে বৃটিশ সরকারের বঙ্গ বিভাগ পরিকল্পনা অত সহজে বাস্তবায়িত হতো না। সে সময়, বঙ্গ বিভাগের ফলে ঐতিহাসিক ঢাকা নগরী পূর্ব বাংলা ও আসাম নামক নতুন প্রদেশ রাজধানীর মর্যাদা পায়। উক্ত রাজধানীর প্রয়োজনে অবকাঠামো নির্মাণের সাথে সাথে ঢাকায় তখন উন্নয়নের যে জোয়ার আসে সেটা ঢাকাকে আধুনিক বিশ্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর হিসেবে পরিচিত করে।
সে সময় কংগ্রেস নেতা দের বিরোধীতার মুখে বঙ্গ বিভাগ টিকিয়ে রাখার জন্য মুসলমানদের সংঘবদ্ধ করেন এবং সারা ভারতের মুসলমানদের ঢাকায় একত্রিত করেন।১৯০৬ সালে ৩০ডিসেঃ মুসলিম লীগ গঠন করেন। নবাব স্যার সলিমুল্লাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। তিনি দান করেছেন এই জায়গা।১৯২১সালে কলা,আইন,বিজ্ঞান এই তিনটি অনুষদ নিয়ে চালু হয়েছিল। অনেকেই বলেছিলেন মূর্খের দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের দিয়ে কি হবে।তাদের জন্য স্মরন সভা নিয়মিত ভাবে হয়।অথচ যার দান করা জায়গায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ,যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাব করার সময় বড় লাটের দেহরক্ষী গুলিতে আহত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।কেন গুলি খেতে হয়েছিল নবাব স্যার সলিমুল্লাহ কে? বড় লাটের কাছে অনেকবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাব করার পর,বড় লাট সাহেব চুপ ছিলেন। যেহেতু নবাব স্যার সলিমুল্লাহর হাতে সব সময়ই একটি লাঠি থাকত,সেই লাঠি দিয়ে টেবিলে যখন সজোরে আঘাত করেছিলেন বড় লাটের বডি গার্ড ভয় পেয়ে নবাব স্যার সলিমুল্লাহ কে গুলি করে দেন।তড়িঘরি করে নবাব স্যার সলিমুল্লাহ কে অসুস্থ তার নাম করে কোলকাতা চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।১৯১৫ সালের ১৬ই জানুয়ারি ডঃ বেঞ্জামিন এর অধীনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরন করেন।এই মহান নেতা যদি সেই দিন মুসলিম লীগ গঠন না করতেন ,ইংরেজ রা আমাদের পাকিস্তানের সাথে (মুসলমানদের)ভাগ করে দিতেন না। পাকিস্তানের সাথে পূর্ব পাকিস্তান নামে থাকার কারনে , আমাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ১৯৭১সালে বঙ্গ বন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আন্দোলন করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমরা জাতি হিসেবে পরিচিত লাভ করি।তাই স্বাধীনতা যুদ্ধে জয়ী হয়ে এই লাল সবুজের পতাকা পেয়েছিলাম।আসাম কোলকাতার সাথে থাকলে আজ তাদের মত অবস্থায় থাকতে হতো। আমাদের দেশের আলেম সমাজের নিকট আমার অনুরোধ,যাতে সরকারি ভাবে নবাব স্যার সলিমুল্লাহর জন্য দোয়া ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।
লেখক: সদস্য, ঝিকুট ফাউন্ডেশন।