1. admin@jhikutpatra.com : সম্পাদক : আশরাফ ইকবাল
  2. atiqnayanmcjdu@gmail.com : atique nayan : atique nayan
  3. sheikhrupu@gmail.com : শেখ রুপু : শেখ রুপু
  4. shahriar40-371@diu.edu.bd : Shahriar Tanvir Refat : Shahriar Tanvir Refat
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ফ্রেন্ডস এসোসিয়েশন অব মালখানগরের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত, সভাপতি সোহেল ও সম্পাদক বাহার পুনর্নির্বাচিত অচেনা সেই আলোর হাত ছটকু আহমেদের সাথে দৈনিক মুন্সিগঞ্জের বার্তার সৌজন্য সাক্ষাৎ ঝিকুট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: তরুণ সমাজকে মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে সামাজিক সংগঠনের ভূমিকা অনস্বীকার্য সাংবাদিক আশরাফ ইকবালের জন্মদিনে শিক্ষার্থীদের গাছের চারা দিলেন তরুছায়া লেখক, সাংবাদিক ও সংগঠক আশরাফ ইকবালের শুভ জন্মদিন এইচনূর ফাউন্ডেশনের সঙ্গে ঝিকুট ফাউন্ডেশনের সৌজন্য সাক্ষাৎ ঝিকুট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন বাহারের শুভেচ্ছা ঝিকুট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এ এন এম হুমায়ূন কবির সাগরের শুভেচ্ছা ঝিকুট ফাউন্ডেশনের নতুন উপদেষ্টা হলেন সৈয়দ হোসেন নয়ন

সিরাজদিখানের কথা

  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৩
  • ২৩৪ বার পঠিত

সিরাজদিখানের কথা

একেএম শামসুদ্দীন :

১৯৮৭ সালে ২৫শে ফেব্রুয়ারি মুন্সীগঞ্জ জেলার সিদদিখানে ইউএনও হিসেবে যোগদান করি ৷ ইউএনও-এর পদ শূন্য থাকায় উপজেল ম্যাস্ট্রেট রতন কুমার রায় ভারপ্রাপ্ত ইউএনও ছিলেন। আমি তাঁর কাছ থেকে দায়িত্বভার গ্রুপ করি। সিরাজদিখানের দ্বিতীয় এবং আমার অব্যবহিত পূর্বের ইউএনও (নাম বলছি না) বেশ কিছুদিন আগেই এখান থেকে চলে যান। উপজেলার প্রথম ইউএনও জনাব ফজলুল হক অফিসের কাছেই একটি মাঠের পশ্চিম পাশে পাকাভবন নির্মাণ করে শিশু নিকেতন নামে একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল এবং তার অদূরেই একটি এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করেন । তিনি উপজেলা পরিষদ থেকে সিরাজদিখান বাজার সীমানা পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে শত শত গাছ লাগানোর ব্যবস্থা করেন, যা পরিবেশ- বান্ধব ও দৃষ্টিনন্দন হয়। এককথায়, তিনি অনেক ভালো ভালো কাজ করায়, সিরজদিখানের মানুষ তাঁর খুব সুনাম করতেন ৷ এতে ঈর্ষান্বিত হয়ে দ্বিতীয় ইউএনও (দু’জন একই ব্যাচের) জনাব ফজলুল হকের গড়া শিশু নিকেতন ও এতিমখানা ইত্যাদি সব বন্ধ করে দেন। যাহোক, তাঁর সামগ্রিক কার্যকলাপের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অসন্তুষ্ট থাকায়, অল্পদিনের মধ্যে, তাঁকে অন্যত্র বদলি করা হয় বলে শুনেছি । পাশাপাশি আমি প্রথমেই উপজেলা পর্যায়ের কয়েকজন অফিসার ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে শিশু নিকেতন পুনরায় চালু করার সক্রিয় উদ্যোগ নেই। শিক্ষক নিয়োগের জন্য প্রাথমিক পদক্ষেপগুলো গ্রহণের অভিভাবকদের কাছে চিঠি পাঠাই এবং মাইক্রোফোনে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির ব্যাপারে প্রচারণার ব্যবস্থা করি। অনুকূল সাড়া পাওয়ায়, আমরাও উৎসাহিত হই। শিশুদের পড়াতে আগ্রহী কয়েকজন অফিসারকে ক্লাস নেয়ার দায়িত্ব প্রদান করি। আমি নিজেও অফিস শুরুর আগে ক্লাস নিতাম। শিশু নিকেতন-তহবিলের জন্য সাব-রেজিস্ট্রার ও উপজেলা রাজস্ব অফিসারকে (পরে সহকারী কমিশনার, ভূমি) যথাক্রমে প্রতিটি দলিল ও অর্পিত সম্পত্তির জন্য বার্ষিক ইজারা বন্দোবস্তের প্রতিটি কেস থেকে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা অনুদান হিসেবে রাখার জন্য ধার্য করে দেই। এই টাকা কাদের কাছ থেকে আদায় হবে, তাদের নাম- ঠিকানাসহ বিস্তারিত তথ্যসম্বলিত রেজিস্টার এ কে এম শামসুদ্দীন এ কে এম শামসুদ্দীন রক্ষণাবেক্ষণের জন্যও অনুরোধ করি। তাঁদের সুবিধার জন্য এব্যাপারে বিস্তারিত উল্লেখ করে আমি একটি পত্র দেই। গোটা বিষয় সম্পর্কে উপজেলা পরিষদ-সভায়ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। যতবড় মহৎ কাজই হোক, একক সিদ্ধান্তে তা করা সমীচীন নয়। আমাদের অদম্য প্রাণশক্তি, কঠোর পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসের ফলে, শিশু নিকেতনের কর্মকাণ্ড পুরোদমে চলতে শুরু করে। ধীরে ধীরে ক্লাসে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। বিএ পাস অকৃতদার প্রবীণ শিক্ষকখান মোহাম্মদ ইউসুফকে শিশু নিকেতনের প্রিন্সপাল পদে নিয়োগ দেয়ার পর, সকলের মধ্যে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা” দেখা দেয়। এ যেন ‘মরাগাঙে জোয়ার আসার’ মতো অবস্থা! প্রতি বছর একটি করে শ্রেণি বৃদ্ধি করা হতো। ১৯৯১ সালের মাঝামাঝি সিরাজদিখান থেকে আমার বিদায়ের আগেই স্কুলটিতে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত খোলা হয়। বর্তমানে এটি হাইস্কুলে উন্নীত হয়েছে এবং এর তিন তলা বিশিষ্ট একটি পাকাভবন নির্মাণ করা হয়েছে। অবশ্য এতিমখানাতে কোনো এতিম না-থাকায়, তা আর পুনরায় চালু করার চেষ্টা করিনি। আমি সিরাজদিখান যোগদানের পর প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে বালুরচর হাট-ইজারা দেয়ার সময় এক বিপদর সম্মুখীন হই। নিলামর জন্য ধার্য তারিখে বেশ ক’জন দরদাতা তাতে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুত ছিলেন। এমন সময় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে কয়েকজন যুবক স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মাননীয় মন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির মহাসচিব জনাব শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের কাছ থেকে একটি চিঠি নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়। চিঠির সারমর্ম আজকের বিক্রমপুর ৬ ছিল, বালুচর হাটটি সিরাজদিখান উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের অনুকূলে ইজারা দিতে হবে, ইত্যাদি। হাট-বাজার ইজারাদান সম্পর্কিত সকল হালনাগাদ নীতিমালা, সরকারি পরিপত্র ও আদেশ পূর্বেই আমি পড়েছি। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কোন হাট, কীভাবে ইজারা দেয়া হবে, তা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের (তখন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সৃষ্টি হয়নি) এ সার্কুলারে এই মর্মে বলা হয়েছে যে প্রতিটি জেলার এজটি হাট জেলা প্রশাসকের প্রস্তাব অনুসারে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের অনুকূলে নির্ধারণ করে দিবে এবং জেলা প্রশাসক, তা নিলামের ব্যবস্থা করবেন। নথির এই পরিপত্রটি মুক্তিযোদ্ধাদের দেখালে, তারা বলে, ‘আমাদের মোয়াজ্জেম ভাই কী আইন জানেন না’? আমি অবশ্য তাঁর প্রতি আমার শ্রদ্ধাবোধ সম্পর্কে অনেক কথা বলি এবং তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে এই দিন ইজারাদান স্থগিত রাখি। আমি নথি থেকে সংশ্লিষ্ট পরিপত্রটির ফটোকপি করে, তাঁদের কাছে দেয়ার ব্যবস্থা করি। তাদের এই বলে অনুরোধ করি, মাননীয় মন্ত্রীকে দিয়ে ফোন করে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি পত্র আনতে পারলে, তাদের অনুকূলে আমি ব্যবস্থা নিতে পারব। ‘এটা কোনো ব্যাপারই নয়’ বলে তারা চলে যায়। আমি মনে মনে হাসি। শেষ কথা হলো, তারা আর এ ব্যাপারে আমার কাছে আসেনি । ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের পূর্ব পাশে কুচিয়ামোড়ার বিক্রমপুর আদর্শ কলেজের ছাদ নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক কাজের চূড়ান্ত বিল, আমার এখানে যোগদানের পূর্বেই পরিশোধ করা হয়। একদিন ওই প্রকল্পের ঠিাকাদার মেসার্স সরকার এন্টারপ্রাইজের পক্ষ থেকে দাখিলকৃত জামানতের অর্থ ফেরৎ পাওয়ার আবেদনপত্র উপজেলা প্রকৌশলীর মাধ্যমে নথিতে আমার কাছে উপস্থাপিত হয়। নথির নোট শীটে উপজেলা প্রকৌশলী লিখেন, ‘কাজটি সুষ্ঠু ও সুন্দররূপে সম্পন্ন হওয়ায়, ঠিকাদারকে জামানতের টাকা ফেরৎ দেয়ার সুপারিশ করছি।’ কাকতালীয়ভাবে কয়েকদিন পূর্বে আমি ওই কলেজের গভর্ণিং বডির সভাপতি হিসেবে একটি সভায় যোগদান করলে, আমাকে দেখানো হয় যে, কলেজ ভবনের ছাদ কিছুটা নিচে হেলে পড়েছে, বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে, দরজা-জানালার কাঠ অত্যন্ত নিম্নমানের, ফ্লোরে ইট ছিয়ে বালূ-সিমেন্ট দিয়ে প্লাস্টার করা হয়ে, ইত্যাদি। সংশ্লিষ্ট নথিতে রক্ষিত প্ল্যান, ডিজাইন ও প্রাক্কলন পর্যালোচনায় দেখি, কঙ্গের কাজ মোটেই যথাযথভাবে করা হয়নি, আমি নোটশীটে লিখি, আমার জানামতে করেভের কাজে অনেক ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলীকে ব্যক্তিগতভাবে পুনরায় কাজ পরিদর্শন করে সুনির্দিষ্ট মতামত দিতে অনুবে করা হলো। দু-তিন দিন পর তিনি পুনর’ লিখেন, কাজের যে সামান্য দোষত্রুটি গ সংশোধন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে আমি অফিসের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার পিআইও- এর ১ মে প্রকল্পের বিষয়ে আরো স্বচ্ছ ধারণা নেই । থটি আমার কাছেই রাখি। একটি দিন ধার্য কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আইউব আলী, কেয়া ইউপি চেয়ারম্যান জনাব মোঃ আমানুল্লাহ, চিত্রকোট ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোহাম্মদ, উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট, সহকারী কমিশনার ও আমি উপজেলা প্রকৌশলীসহ বিক্রমপুর আদর্শ কলেজে যাই। সরেজমিনে উন্নয়ন কাজ পর্যবেক্ষণ ও যাচাই করার পর দেখা যায়, ছাদ কিছুটা হেলে পড়েছে এবং অন্যান্য কাজ অত্যন্ত নিম্নমানের। ছাদের ওপরে ওঠে শাবল দিয়ে গর্ত করলে দেখা যায়, ছাদের ঘনত্ব (Thickness ) কম, রড বাইন্ডিংয়ের রড চিকন ও তা বেশি ফাঁকা করে লাগানো হয়েছে, সিমেন্টের পরিমাণ কম, ছাদের বীমও নির্দিষ্ট পরিমাপের চেয়ে কম, জানালার দরজার কাঠ অত্যন্ত নিম্নমানের । এছাড়াও দু’টি জানালা শিডিউলের চেয়ে কম অর্থাৎ দু’টি জানালা বাস্তবে নেই, যদিও পূর্বে তার চূড়ান্ত বিল পরিশোধ করা হয়েছে। ফ্লোরে আরসিসি ঢালাই দিয়ে এক ধরনের মসৃণ স্টোন (Platent stone) লাগানোর কথা থাকলেও, শুধু ইট বিছিয়ে বালু-সিমেন্ট দিয়ে নামমাত্র মশলার নমুনা নেয়া হয়, যাতে ঢাকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ল্যাবরেটরি টেস্টিং-এর জন্য পাঠানো যায়। সব কাজের পরিমাপ, নির্মাণ সামগ্রীগুলোর নমুনা সম্পর্কে কাগজে লিপিবদ্ধ করে উপস্থিত সকলের স্বাক্ষর গ্রহণ করা হয়। বিষয়টি আমার জন্য ছিল অত্যন্ত বিব্রতকর। কারণ, ঠিকাদার ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের এলাকার ঘনিষ্ঠ লোক ও তাঁর আশীর্বাদপুষ্ট। পরদিন উপজেলা প্রকৌশলীকে কয়েকজন কর্মকর্তার সামনে বলে দেই, এত বড় জঘন্য পুকুরচুরি কীভাবে করা হলো? কাজ সম্পর্কে দুর্নীতি দমন ব্যুরোতে (বর্তমানে কমিশন) অভিযোগ পাঠানোর আগে, তিনি যেন তাঁর টেকনিক্যাল গ্রুপ নিয়ে কলেজ-বিল্ডিংয়ের ছাদ ভেঙে, যথাযথভাবে তা পুনরায় নির্মাণ ও অন্যান্য ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো সংশোধন-পরিবর্তন করে ধার্য তারিখের মধ্যে আমাকে জানান। আমি আবার সকলকে নিয়ে সরেজমিনে কাজ যাচাই করে দেখার পর যথার্থ পেলে, সমস্যা হবে না। আর সঠিক না-পেলে, আমি সকলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব। শেষ পর্যন্ত কলেজের ছাদ ভেঙ্গে আবার নতুন করে নির্মাণসহ অন্যান্য কাজ মোটামুটি সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন করা হয়। আগেই উল্লেখ করেছি যে, কালিয়া থানা ভবনের কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন না হওয়ায়, ঠিকাদারকে দিয়ে তা পুনরায় নির্মাণ করাই । আমি সিরাজদিখানে যোগদান করার পরই যান্ত্রিক নৌকায় বিভিন্ন অঞ্চলে ঘনঘন সফরে যেতাম, যাতে সব ব্যাপারে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারি। তাই ধারাবাহিকতায়, একবার উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট রতন কুমার রায় উপজেলা প্রকৌশলী ও উপসহকারী প্রকৌশলীকে নিয়ে ধলেশ্বরী নদীপথে কেয়াইন ইউনিয়ন হয়ে রাজানগরের সৈয়দপুর যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে নদীর বাম তীরে অবস্থিত গাবেরপাড়া (ইসলামপুর) ফাজির মাদ্রাসায় যাই। অধ্যক্ষ জনাব মাওলানা আব্দুল ওয়াজেদ ও অন্যান্য শিক্ষকের সাথে আলাপের পর মাদ্রাসার অবকাঠামোগত অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে দেখতে পাই, একই লাইন দু’টি একতলা দালানের মাঝখানে বেশ কিছু জায়গা খালি আছে। আমি অধ্যক্ষ সাহেবকে বলি, এই দুই ভবনের মাঝখানে দু’দিকে দু’টি দেয়াল ও ছাদ নির্মাণ করলেই তো একটি বড় কক্ষ হয়ে যায় । তিনি জানালেন, মাদ্রাসার কোনো টাকা নেই ৷ আমি উপজেলা প্রকৌশলীকে এই প্রকল্পের পরিমাপ নিতে বলি । এভাবেই, অন্যান্য প্রকল্পের সাথে এটিরও দরপত্র আহবান করে একটি বড় কক্ষ নির্মাণ করে দেয়া হয় । কালিয়া উপজেলার মতো এ উপজেলার বেশিরভাগ এলাকা ব্যাপক সফর করে প্রায় সব সেক্টরে কী কী কাজ করা প্রয়োজন, তা প্রত্যক্ষভাবে নির্ণয়ের চেষ্টা করি। আমার মতে, মাঠ প্রশাসনে চাকুরেদের ব্যাপকভাবে স্বীয় উপজেলা বা জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল সফর করার কোনো বিকল্প নেই। এতে বিভিন্ন এলাকার সর্বস্তরের মানুষের সাথে জানাশোনা হওয়ার পাশাপাশি, কোথায় কোন ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করা সহজতর হয়। সকল পর্যায়ের মানুষের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও আস্থা অর্জন করতে পারলে, নির্বিঘ্নে প্রশাসন পরিচালনা করা যায়, যা আগেই বলা হয়েছে। ইছাপুরায় বিক্রমপুর কেবি (কুঞ্জ বিহারী) কলেজের (বর্তমানে গভঃ কলেজ) গভর্ণিং বডির সভায় আমি একদিন সভাপতি হিসেবে যোগদান করি। সদস্যদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রবীণ অধ্যাপক ও আজকের বিক্রমপুর ৭ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সকলের পরিচয়পর্বের এক পর্যায়ে অধ্যক্ষ সাহেব প্রবীণ অধ্যাপককে র‍্যাংগস গ্রুপের মালিকের আত্মীয় বলে জানান। আমি বলি যে, ওই ব্যবসায়ীর নাম জানি না বা তাঁকে চিনি না। আমাদের কাছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পদটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তিনি আমাদের সকলের শ্রদ্ধাভাজন। একথাগুলো বলার উদ্দেশ্য হলো, একজন কলেজের অধ্যক্ষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পদকে গুরুত্ব না দিয়ে, একজন বড় ব্যবসায়ীর সাথে তাঁর আত্মীয়তার ওপরই অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন, যা আমার কাছে মোটেই গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। যাহোক, সভায় আমি বলি, সিরাজদিখান থানা থেকে উপজেলায় উন্নীত হয়েছে, থানার সার্কের অফিসার (সিও) দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড অফিসার ছিলেন, বর্তমানে উপজেলার প্রশাসনিক প্রধান হলেন, এডিসি পদমর্যাদার একজন ইউএনও। তাই আমরা বিক্রমপুর কে.বি. কলেজকে এইচএসসি পর্যায় থেকে ডিগ্রি পর্যায়ে উন্নীত করতে পারলে, তা-ই হবে যথার্থ। আজকের সভায় আমরা এব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে চাই। সবাই আমার প্রস্তাব সমর্থন করলেও, অধ্যক্ষ আহসান উল্লাহ খান এতে এই বলে আপত্তি উত্থাপন করেন যে, ডিগ্রি কলেজ করা হলে ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হবে। ওই দিন সভায় অধ্যক্ষের নেতিবাচক মনোভাবকে গুরুত্ব না-দিয়ে কলেজকে ডিগ্রি পর্যায়ে উন্নীত করার প্রস্তাব গৃহীত হয়। পরবর্তী সময়ে গভর্নিং বডির আর এক সভায় অধ্যক্ষ সাহেব কলেজ ডিগ্রি পর্যায়ে উন্নীত করার ব্যাপারে ঘোর আপত্তি করেন। আমি তাঁকে সাফ জানিয়ে দেই, তিনি যদি এব্যাপারে ভীত-শঙ্কিত হন, তাহলে আমরা অবশ্যই একজন সাহসী, উদ্যামী ও বিচক্ষণ অধ্যক্ষ নিয়োগ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হব। সভায় উপস্থিত সদস্যবৃন্দ আমার প্রস্তাব সানন্দে সমর্থন করেন। উপায়ান্তর না দেখে অবশেষে অধ্যক্ষ সাহেব অনিচ্ছাকৃতভাবে আমাদের প্রস্তাবে রাজি হন। সিরাজদিখানে আমার চাকরির মেয়াদেই বিক্রমপুর কেবি কলেজটি ডিগ্রি পর্যায়ে উন্নীত করা হয়। কিছুদিনের মধ্যেই সামনের একটি ভবনের ওপর উপজেলা পরিষদ-তহবিল থেকে দোতলায় একটি ফ্লোর নির্মাণ করে দেয়ার ব্যবস্থা করি। এভাবে, শেখরনগর ইউনিয়নের পাউসার নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত করি, বাসাইল ইউনিয়নের একটি এবতেদায়ী মাদ্রাসাকে দাখিল পর্যায়ে উন্নীত করি । উপরন্তু, আরো কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংস্কার ও সম্প্রসারণের ব্যবস্থা করি। আমার মনের ভেতরে একটি মূলমন্ত্র কাজ করতো – আমার কর্মস্থলকে আমি এসে যে অবস্থায় পেয়েছি, এখান থেকে বিদায়ের সময় বা পরে আমি যেন নিজে নিজেই উপলব্ধি করতে পারি বা বলতে পারি যে আমার সময় ওই সব স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজ নির্মাণ ও সম্প্রসারণ করা হয়েছে, বা ওইসব প্রতিষ্ঠান-সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ ধরনের চিন্তা করা শুধু আত্মতৃপ্তিই নয় বরং সৃষ্টি সুখের উল্লাসও বটে, যা আগেও বলেছি। তবে মাঠে প্রশাসনে চারটি উপজেলায় প্রায় সাড়ে আট বছর ইউএনও এবং পাঁচ বছর সিরাজগঞ্জ ও রাজশাহী জেলার ডিসি আর কয়েক মাস সিলেটে বিভাগীয় কমিশনারের দায়িত্ব পালনকালে, বেশ ক’টি নতুন প্রতিষ্ঠান-সংগঠন তৈরি, সংস্কার ও পুনরুজ্জীবিতকরণ এবং কিছু সৃজনশীল কাজ করার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। এগুলোই আমার পরম পাওয়া। ওইসব সংগঠন- প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন উপলক্ষে এখনো আমি আমন্ত্রণ পেয়ে থাকি এবং সুযোগ পেলে সেখানে যাই ৷ একদিন রশুনিয়া ইউনিয়নের নেসারাবাদ দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির কযেকজন সদস্য আমার অফিসে এসে দু’জন শিক্ষকের পাঠদানে অযোগ্যতার কথা জানান। আমি কথিত কামিল পাস শিক্ষককে পরদিন আমার অফিসে দেখা করতে বলি। সেই শিক্ষক পরদিন এলে, শিক্ষার্থীদের পড়াতে তার অদক্ষতার অভিযোগ তাঁকে জানাই। তিনি এর প্রতিবাদ করেন । আমি এব্যাপারে পরদিন তাঁর মাদ্রাসায় যাওয়ার কথা বললে, তিনি আমাকে স্বাগত জানান ৷ তিনি চেয়ার থেকে উঠে দরজার কাছে গেলে, আমি আবার তাঁকে ডাকি। তিনি ফিরে আসার পর, আরবী গ্রামার ও ফাজিলের কয়েকটি কেতাবের নাম উল্লেখ করে, তাঁর কাছে কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে প্রশ্ন জিজ্ঞেস করব বলে জানাই । তখন তাঁর মুখের হাসি ম্লান হয়ে যায়। তাঁকে বেশ চিন্তিত মনে হয়। পরদিন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসার জনাব আশম বাবর আলীকে নিয়ে, তাঁর মোটর সাইকেলে সেই মাদ্রাসায় যাই। উল্লি খত মাওলানা সাতদিনের ছুটি চেয়ে একটি দরখাস্ত মাদ্রাসায় রেখে বাড়ি চলে যান। পরে শুনেছি, তিনি মাদ্রাসার চাকরিতে ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দেন। এবার কথিত অদক্ষ ক্বারী সাহেবের পালা। তাঁকে কোরআন থেকে কিছু আয়াত মুখস্ত পড়ার অনুরোধ করলে, তিনি কোরআন তেলাওয়াত করেন। আমি অনেকগুলো ভুল নোট করে তা উপস্থিত সকলকে দেখাই । এরপর তাঁকে পবিত্র কুরআন শুদ্ধরূপে পঠনপাঠনের জন্য আবশ্যিকভাবে শিক্ষণীয় কিছু প্রশ্ন করি। তিনি মাথায় টুপি পরে তার ওপর পাতরা সাদা কাপড় দ্বারা মুখমণ্ডল প্রায় ঢেকে ‘ রেখেছিলেন। আমি ওই কাপড় সরিয়ে মুখ খোলা রাখতে বলি। উল্লেখ্য, শুদ্ধরূপে কোরআন পড়ার জন্য কমপক্ষে দরকার নুজহাতুল ক্বারী বা জামালুল কোরআন নামক বই সম্পর্কে অবহিত হওয়া। তিনি ওই বই পড়েছেন কিনা, জিজ্ঞেস করি। তিনি হ্যাঁ বা না কিছু বলেননি, সম্পূর্ণ নীরব-নিথর বসে থাকেন। ওই ধরনের বই না পড়লে শুদ্ধরূপে কুরআন পড়া সম্ভব নয়। আমি তাঁকে আরো কিছু প্রশ্ন করলে, তিনি একদম চুপ থাকেন। কিছুক্ষণ পর ধপ্ করে একটি শব্দ হলে – তাকিয়ে দেখি, তার চেয়ার খালি, তিনি বেহুঁশ হয়ে কাঁচা মেঝেতে পড়ে গেছেন। ভাগ্যিস, ফ্লোর পাকা ছিল না। পাকা থাকলে আমি খুনের মামলায় আসামি হতাম! এ ধরনের অদক্ষ- অযোগ্য শিক্ষক নিয়োগের কারণ খোঁজলে দেখা যায়, নিয়োগ কমিটি অজ্ঞাত বা রহস্যজনক কারণে প্রভাবিত হয়ে জেনেশুনেই এসব অদক্ষ শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে থাকেন। বর্তমানের অবস্থা আরো ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। কয়েক বছর আগে সরকার ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি বাদ দিয়ে জাতীয় শিক্ষক নিয়োগ কর্তৃপক্ষ (NTRCA) নামীয় একটি কর্তৃপক্ষ গঠন করেছে। দেখা যাক, এর ফল কী হয়। আমি যে ক’টি উপজেলায় ইউএনও হিসেবে চাকরি করেছি, তার মধ্যে সিরাজদিখানের পরিবেশ-প্রতিবেশ ও সার্বিক অবস্থা, সর্বোপরি সেখানকার মানুষকে আমার বেশি ভালো লেগেছে। সেখানে কোনো দলাদলি, মারামারি, উচ্ছৃঙ্খলতা, হিংসা-বিদ্বেষ, প্রশাসনের বিরুদ্ধাচারণ ইত্যাদি ছিল না বললেই চলে। এককথায়, সেখানে অনুকূল, শান্ত ও স্বাভাবিক পরিবেশ ছিল সর্বদা বিরাজমান। তাই গঠনমূলক কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে কখনো কোনো বাধার সম্মুখীন হইনি। এজন্য আমি উপজেলার যেকোনো অরাজনৈতিক সংগঠন, সংস্থা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগদান করেছি। যার জন্য আমাকে কখনো সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয়নি। ওই সময় উপজেলায় ফৌজদারি ও দেওয়ানি কোর্ট পুরোদমে পরিচালিত হতো । অনেক দূরে অবস্থিত জেলা সদরের কোর্টে যেতে হলে, মামলার পক্ষগুলোকে বহু টাকা ও সময় ব্যয় করতে হতো। তবে উপজেলা পর্যায়ে মামলা রুজু ও বিচার চলার কারণে প্রাথমিকভাবে অযথা অনেক মামলা-মোকদ্দমা দায়ের করা হতো। অভিজ্ঞ এ্যাডভোকেট ও কোর্ট পুলিশেরও অভাব ছিল। পরে অবশ্য এসব সমস্যার সমাধান হয়। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, উপজেলা পর্যায়ে কোর্টকাচারি পরিচালিত হওয়া, বিভিন্ন বিভাগের সিনিয়র কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকা এবং উন্নয়ন কার্যক্রম চলতে থাকার ফলে উপজেলা হয়ে ওঠে সকল কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু (hub) । আজকের বিক্রমপুর ৮ অফিস সময়ে সর্বদা সেখানে মানুষ গমগম করতো। জনগণ প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের সুফল পেতে থাকে। কারণ, বাইরের কোনো দৃশ্যমান হস্তক্ষেপ সেখানে ছিল না। পরবর্তী সরকার উপজেলা পরিষদ পদ্ধতি উঠিয়ে দেয়. এবং উন্নয়ন সমন্বয় কমিটি গঠন করে এবং উপজেলা পরিষদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা একেবারে সীমিত করে। উপজেলা পরিষদের বর্তমান আইনে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের উপজেলা পরিষদের উপদেষ্টা করা হয়, যাদের উপদেশ গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক। জেনারেল এরশাদের সকল কাজই যে খারাপ ছিল, তা আমার মনে হয় না। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়ে ব্রিটিশ আমল থেকেই চিন্তা-ভাবনা করা হয়। পাকিস্তান আমলে রাষ্ট্র বিজ্ঞানের ছাত্র থাকা অবস্থায় ন্যাশনাল ইন্সিটিটিউট অব পাবলিক এ্যাডমিনিস্ট্রেশন (NIPA) ভবনে অনুষ্ঠিত একটি সেমিনারে যোগদান করি, যাতে রেহমান সোবহান, অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ চৌধুরী, ড. নাজমুল করিম, প্রফেসর এমএন হুদাসহ দেশের অনেক বরেণ্য শিক্ষাবিদ ও চিন্তাবিদ মহকুমাকে জেলায় উন্নীতকরণ এবং স্থানীয় সরকারের ক্ষমতায়নের ওপর জোর দেন। সেমিনারে সকল ক্ষমতা ঢাকায় কেন্দ্রীভূত না-করে জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারি সমন্বয়ে কার্যকর স্থানীয় সরকার গঠনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। মুন্সীগঞ্জ জেলায় বেশিরভাগ অঞ্চলই অত্যন্ত নিচু হওয়ায় সামান্য বন্যার পানিতে অনেক স্থান জলমগ্ন হতো। ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় সিরাজদিখানের প্রায় সমগ্র এলাকা ডুবে যায়। উপজেলা পরিষদ অফিস, ইউএনও-এর বাসভবনসহ সকল বাসা, রাস্তাঘাট তিন-চার ফুট পানির নিচে চলে যায়। সরকারি ত্রাণ বরাদ্দ পাওয়ার জন্য বহু টেলিগ্রাম, ফ্যাক্সবার্তা ও চিঠিপত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাই । উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জনাব আবদুস সালাম সরকারের স্বাক্ষরে প্রেসিডেন্ট, মন্ত্রী ও সচিবদের কাছে চিঠি পাঠাতে থাকি। সরকারি সাহায্য পাওয়া সময়সাপেক্ষ বলে উপজেলা পরিষদ-তহবিল এবং স্থানীয় দ্বারা কিছু চাল, ডাল, আ সংগৃহীত অর্থ ও লবণ নিয়ে যন্ত্রচালিত নৌকায় প্রায় যন্ত্রচালিত নৌকায় প্রায় দিন পিআইও, উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট-সহক, ী কমিশনারকে নিয়ে বিভিন্ন এলাকার বাড়ি বড় গিয়ে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে তা প্রদান করি। প্রত্যন্ত এলাকা চেনানোর জন্য উপজেলা সদরের রশুনিয়া ইউপি চেয়ারম্যান জনাব আবদুল মান্নান সিকদারকে সাথে নিতাম। আমাদের জন্য বন রুটি, বিস্কুট, বিস্কুট, কম্প ইত্যাদি সাথে রাখতাম । প্রতিদিন সকালে বের হয়ে বাড়ি বাড়ি ত্রাণ বিতরণের পর অনেক রাতে বাসায় ফিরে আসতাম । একদিন চিত্রকোট ইউনিয়নের শেষপ্রান্তের তুলসিখালী, গোয়ালখালী ইত্যাদি গ্রামের মতো প্রত্যন্ত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করে রাতে ফেরার পথে খালের একটি বাঁশের আঘাতে ইউপি চেয়ারম্যান আঃ মান্নান সিকদার আহত হন। মারাত্মক কিছু না-ঘটায় অল্পতেই উপজেলা সদরে ফিরে আসতে পারি। এভাবেই চলে অনেক দিন। ইতোমধ্যে অসচ্ছল ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের ডিপি (Distressed Persons ) লিস্ট তৈরি হয় এবং সরকার থেকে ত্রাণ বরাদ্দ পাওয়া যায় । সরকারি নির্দেশে সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ ত্রাণ বিতরণ করতে থাকেন। প্রতি ইউনিয়নের জন্য উপজেলা থেকে একজন নিয়োজিত অফিসার (ট্যাগ অফিসার বলা হতো) ত্রাণ বিতরণের সময় উপস্থিত থাকতেন। এসব কাজে সামান্য ত্রুটি- বিচ্যুতি হলে, সেনাবাহিনীর সদস্যরা অনেকের সাথে খারাপ আচরণ করতেন। তবে একথা মানতেই হবে যে, এই ব্যবস্থায় রিলিফ চুরি বা আত্মসাতের কোনো অবকাশ প্রায় ছিল না। আমার অফিস থেকে ত্রাণ বরাদ্দ ও বিতরণ কাজ সমন্বয় করা হতো। আমি একদিন উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে সাথে নিয়ে উপজেলার মধ্যপাড়া ইউনিয়নের একেবারে পূর্ব সীমানার একটি গ্রামে ত্রাণ বিতরণের জন্য যাই। কিছু সময়ের মধ্যে একটি স্পীডবোটে করে মুন্সীগঞ্জ থেকে সেনাবাহিনীর এক মেজর সেখানে আসেন। তার কাছে কে বা কারা অভিযোগ করেছে যে, এলাকার লোক কয়েকদিন ধরে না-খেয়ে বা আধাপেট খেয়ে অতি কষ্ট- ক্লেশের মধ্যে দিনাতিপাত করছে। সরকারি কোনো রিলিফ তাদের কাছে এখনো পৌছায়নি । আমাদের সামনেই ওই এলাকার ইউপি সদস্যকে তিনি যাচ্ছে তাই বকাঝকা করছেন। হাত উঁচিয়ে তাকে রাগতস্বরে পিটোনি দেবেন বলেও শাসাচ্ছেন। আমার পরিচয় পেয়ে, ইংরেজিতে তিনি আমার সাথেও উত্তেজিত হয়ে কৈফিয়ৎ চান যে কেন এখানে রিলিফ পৌঁছানো হয়নি ইত্যাদি। যা আমার কাছে অবমাননাকর মনে হচ্ছিল। তবুও কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে আমি অত্যন্ত ধৈর্যসহকারে তাঁর কথা শুনি। পরে আমিও ইংরেজিতে শান্ত অথচ দৃঢ়তার সাথে জিজ্ঞেস করি তাঁর বক্তব্য শেষ হলে আমি কিছু কথা বলতে পারি কিনা। তিনি আমাকে কথা বলার সুযোগ দিলে, আমি বলি যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে সম্মানসহ এমএ পাস করে এলএলবি ডিগ্রি লাভ করি। তারপর পিএসসি-এর মাধ্যমে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া গভঃ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে নিয়োগ পাওয়ার পর, সেখানে অধ্যাপনা করি। তবে জংশনের সেবা শের সেবা : করার জন্যই বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে প্রশাসন ক্যাডারের চাকরিতে যোগদান করি। বিগত কয়েকদিনে উপজেলার চৌদ্দটি ইউনিয়নে ম্যাজিস্ট্রেটসহ আমি ত্রাণ বিতরণ করছি। এই গ্রামটি একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায়, আজি এখানে এসেছি। এই ভদ্রলোক আপনার কাছে না-গিয়ে আমার কাছে গেলে, আমি বিশেষ ব্যবস্থা নিতে পারতাম। আমি উপজেলার আয়তন, লোকসংখ্যা, গ্রামের সংখ্যা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, ভৌগোলিক অবস্থান, ইত্যাদি তথ্য বর্ণনা করে জানাই যে আমাদের সরকারি কোনো জলযান নেই; অনেক ভাড়ায় এই যন্ত্রচালিত নৌকায় চলাচল করছি। অথচ এখাতে কোনো অর্থ বরাদ্দ নেই এবং সরকারি ত্রাণ আমরা এখনো পাইনি । আমার কথা ধৈর্যসহকারে শুনে তিনি শেষ পর্যন্ত ‘অত্যন্ত দুঃখিত’ বলেন । ওই ভয়াবহ বন্যার সময় একদিন খবর পাই, সৈয়দপুর খাদ্যগুদামের ধান-চাল বন্যার পানিতে ডুবে যাচ্ছে। আমি উপজেলা ম্যাজেস্ট্রেট, সহকারী কমিশনার, থানার ওসি, উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তাসহ কয়েকজন স্টাফ সঙ্গে নিয়ে কয়েকটি টর্চ লাইট, হ্যাজাক লাইট ইত্যাদি সংগ্রহ করে যান্ত্রিক বোটে সৈয়দপুর যাওয়ার প্রস্তুত নেই । উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানও আমাদের সাথে সৈয়দপুর যান। ইতোমধ্যে, চৌদ্দজন ইউপি চেয়ারম্যানকে বড় নৌকায় লোকজন নিয়ে’ ভেজা চাল নিতে খাদ্যগুদামে আসতে খবর পাঠাই। গুদামে গিয়ে দেখলাম, স্রোতের টানে পানি ভেতরে গিয়ে কোমর থেকে বুক পর্যন্ত রাখা চালের বস্তা ভিজিয়ে দিয়েছে। ‘আগে আসলে আগে পাবেন’ নীতিতে আলাদা আলাদা তালিকা করে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি নৌকায় ভেজা চালের বস্তা দিতে থাকি। চেয়ারম্যানগণ আমাদের এবং গুদামের খাতায় স্বাক্ষর করে চাল নিতে থাকেন। আমাদের কাগজে দাতা হিসেবে গুদামের ওসির স্বাক্ষর এবং সাক্ষী হিসেবে উপজেলা পরিষদ-চেয়ারম্যান, ম্যাজিস্ট্রেটদ্বয়, থানার ওসি, ইউপি চেয়ারম্যান এবং আমার স্বাক্ষর থাকে। আমাদের এই কাজের কোনো আইনগত বৈধতা না থাকলেও আমরা অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে বুভুক্ষ-নিরন্ন-হতদরিদ্রদের প্রাণ বাঁচানোর জন্য ভিজা চাল বিতরণ করি। অবিতরণকৃত বেশির ভাগ চালই সর্বনাশা “বন্যার পানিতে ডুবে পচে-গলে সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়ে যায়। অনেক রাতে বাসায় ফিরে টেলিফোনে জেলা প্রশাসক মহোদয়কে ঘটনা অবহিত করি। তিনি অবশ্য বলেন যে, কাজটি আইনসম্মত হয়নি। পরদিন বিস্তারিত উল্লেখ করে, এব্যাপারে জেলা প্রশাসককে চিঠি লিখে, তার কপি খাদ্য সচিব, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং মাননীয় খাদ্যমন্ত্রী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের কাছে তাঁর আজকের বিক্রমপুর ৯ একান্ত সচিবের মাধ্যমে পাঠাই। কয়েকদিন পর আমি জেলা প্রশাসকের কাছে যাই । তারপর মাননীয় মন্ত্রী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের সরকারি বাংলাতে গিয়ে তার সাথে দেখা করে ঘটনার প্রেক্ষাপট, বন্যার ভয়াবহ অবস্থা, উপজেলার হাজার হাজার মানুষের খাদ্যাভাব ও চরম দুরবস্থার কথা বর্ণনা করি । মন্ত্রী মহোদয় আমার সাহসিকতাপূর্ণ এই কাজের জন্য আমাকে ধন্যবাদ জানিয়ে দুশ্চিন্তামুক্ত থাকার পরামর্শ দেন। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে, আমার অবৈধ ও ক্ষমতাবর্হিভূত কাজের জন্য আমি খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে কারণ দর্শানো নোটিশ পাই। আমি মোটেই সৎ সাহস হারাইনি। হাজার হাজার নিরন্ন মানুষকে বাঁচাতে গিয়ে চাকরি হারালে এ্যাডভোকেট হিসেবে ঢাকা কোর্টে প্রাকটিস করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারব, এ বিশ্বাস আমার ছিল । এ্যাডভোকেটশিপ সনদ এ জন্যই নিয়েছিলাম যে, কোনো কারণে চাকরি হারালে বা আমি নিজেই সরকারি চাকরিতে ইস্তফা দিলে, এটি তখন আমার কাজে লাগবে। তবে কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দেয়ার পর, আমার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। অত্যন্ত পরিহাসের বিষয় যে কয়েকশত মন চাল ক্ষুধার্ত মানুষকে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে দেয়ায়, আমার বিরুদ্ধে শো-কজ নোটিশ হলেও ওই গুদামের হাজার হাজার মন চাল-ধান সম্পূর্ণ পঁচে নষ্ট হওয়ার পর, কারো বিরুদ্ধে কোনো কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়া হয়েছে বলে আমার জানা নেই। আমলাতন্ত্রের অন্যতম কাজ হলো, ছিদ্রান্বেষণ করা। এব্যাপারে সবাই ঐকমত্য পোষণ না-ও করতে পারেন। উপজেলার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে কালিয়া শিক্ষা ট্রাস্ট্রের ন্যায় উপজেলা পরিষদ- সভায় ১৯৮৮ সালে সিরাজদিখান শিক্ষা ট্রাস্ট গঠন করি। এটি ছিল একটি অরাজনৈতিক, অসাম্প্রদায়িক, অলাভজনক ও জনকল্যাণমূলক সংগঠন। এর প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের মধ্যে ছিল, দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত সিরাজদিখানের অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি হিসেবে মাসিক/এ লীন আর্থিক সহায়তা, শিক্ষা উপকরণ, পরি, সংবর্ধনা ও সনদপত্র ইত্যাদি প্রদান, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আবসাবপত্র ও শিক্ষা উপকরণ দেয়া, উপজেলায় শিক্ষার সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ করা, উপজেলার শিক্ষার্থীদের মনে সাহিত্য, শিল্প, সংস্কৃতি, মেধা ও মননের চায় সহযোগিতা প্রদান, শিক্ষার মনোন্নয়নে না কা রাখা ইত্যাদি। উপজেলার চৌদ্দজন ইউপি চেয়ারম্যানই গঠনতন্ত্রের বিধানমতে সর্বা পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে আজীবন সদস্য হলের প্রতিশ্রুতি দেন। কে কত টাকা দেবেন, তা এই দিন নিরূপণ না- করে বিশেষ উদ্দেশ্যে আলাদা আলাদাভাবে টাকা আদায় করি। ফলে, মধ্যপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জনাব খবির উদ্দিন মিয়অ ২৫,৫০১/- টাকা ট্রাস্ট তিহবিল প্রদান করেন । অনুরূপ আরো কয়েকজন চেয়ারম্যান ৫,০০০/- টাকার বেশি পরিমাণ অর্থ জমা দেন। ট্রাস্ট ফান্ডে সর্বোচ্চ ৬৫,০০০/- টাকা প্রদান করেন আমেরিকা প্রবাসী কুসুমপুর গ্রামের সৈয়দ টিপু সুলতান। এব্যাপারে তাঁর ছোটো ভাই সৈয়দ সাইফুল ইসলাম যুবরাজ মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। এরপর শিয়ালদি গ্রামের হাজী ফারুক হোসেন ৪০,০০১/- টাকা, খালপার গ্রামের মধুসুদন দাস (দুলু) ৩০,১০১/- টাকা, বেজেরহাটি গ্রামের অধিবাসী বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সভাপতি হাজী এসএম হাবিবুল্লাহ প্রদান করেন ২৫,০০০/- টাকা। শেখরনগরের এমএম আজিজুল হক দেন ২৫,০০০/- টাকা। আমার আগের উপজেলার মতো সিরাজদিখানেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের মাসিক সমন্বয় সভায় সুযোগ পেলেই যোগদান করতাম। আমি একদিন তাঁদের সকলকে শিক্ষা ট্রাস্টে অনুদান দেয়ার জন্য আহবান জানালে, ১০৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রত্যেক পর্যায়ের শিক্ষক নির্ধারিত হারে অনুদান প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন । এভাবে, উপজেলার ১৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৫টি মাদ্রাসা ও ২টি কলেজের ছাত্র-ছাত্রীর ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিয়ে আলাদা আলাদাভাবে সভা করলে, সকলেই নির্ধারিত হারে শিক্ষা ট্রাস্ট- তহবিলে অনুদান প্রদান করেন। উল্লেখ্য, মধুসুদন দাসের (দুলু) ঢাকার মালিবাগে অবস্থিত রড- সিমেন্ট বিক্রির দোকানে বসে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সম্ভাব্য দাতাদের সাথে তারই টেলিফোনে যোগাযোগ করি। তখন কারো কোনো মোবাইল ফোন ছিল না। মধুসুধন দাস তাঁর পরিচিত বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও অফিসারদের কাছে আমাকে নিয়ে গিয়ে বহু আজীবন সদস্য সংগ্রহ করে দেয়। এভাবে জনাব এমএম আজিজুল হক আমাকে বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীর কাছে ট্রাস্টের অনুদানের জন্য নিয়ে যান। ঢাকায় বসবাসরত ও কর্মরত সিরাজদিখানের সচ্ছল ব্যক্তিদের কাছ থেকে ট্রাস্ট-তহবিলের জন্য অর্থ আদায় করা হয়। আমার কাছে অফিসের বিভিন্ন কাজে যারা আসতেন তাঁদের অনেকের কাছ থেকেও অনুকূল সাড়া পাই । উপজেলার সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ স্বেচ্ছায় তাঁদের একদিনের বেতন ট্রাস্ট-তহবিলে জমা করেন। উপজেলা পরিষদের সকল ঠিকাদারও নির্ধারিত হারে ট্রাস্টে অনুদান প্রদান করেন। এভাবে ১৯৯০ সালের মধ্যে সকলের · স্বেচ্ছা-প্রদত্ত অনুদানের মাধ্যমে প্রায় বিশ লক্ষ টাকার ট্রাস্ট তহবিল গঠিত হয়। ও এখানে আমি একটি বিষয় স্পষ্ট ভাষায় বলতে পারি, আমার কাছে অফিসের সকল কাজ আন্তরিকতা, কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা নিরপেক্ষতার সাথে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করাই ছিল মুখ্য বিষয়। অফিসের কাজের ফাঁকে ফাঁকে যখন সুযোগ হয়েছে, তখনই শিক্ষা ট্রাস্টের কাজ করেছি। এব্যাপারে আমার শ্রদ্ধেয় জেলা প্রশাসক জনাব সৈয়দ আহমেদ ও জনাব মোঃ আবদুল হক (উভয়ে প্রয়াত)—এঁদের সানুগ্রহ অনুমতি নিয়েই অবসর সময়ে শিক্ষা ট্রাস্ট্রের কাজ করেছি। তাঁদের পূর্ব অনুমতি ব্যতীত কখনো ঢাকা বা অধিক্ষেত্রের বাইরে কোথাও যাইনি। তাঁরা আমার সরকারি কাজ সম্পাদনের ব্যাপারে সন্তুষ্ট ছিলেন, যা আমার বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনে (এসিআর) প্রতিফলিত হয়েছে বলে শুনেছি। আমি সংশ্লিষ্ট সকলকে শিক্ষা ট্রাস্ট্রের গুরুত্ব ও তাৎপর্য বুঝিয়ে-শুনিয়ে সম্পূর্ণ আস্থার ভিত্তিতে স্বেচ্ছাপ্রদত্ত অনুদান জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার সাথে গ্রহণ করেছি। আমি এ ব্যাপারে কাউকে বাধ্য করিনি । শিক্ষা ট্রাস্টের জন্য আমার অনুসৃত পদ্ধতি সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোকপাত করা যেতে পারে। সিরাজদিখানের কৃষি ব্যাংকে “শিক্ষা ট্রাস্টের জন্য একটি সঞ্চয়ী হিসাব খোলা হয়, যা সভাপতি ও সদস্য-সচিবের যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালত। আমি ট্রাস্ট-তহবিলে অনুদান পাওয়ার সাথে সাথে যতদূর সম্ভব দাতার সামনেই নির্ধারিত ছকে প্রস্তুতকৃত রেজিস্টারে লিপিব্ধ করার পর, তা ব্যাংকে জমা করাতাম ৷ রেজিস্টারের ছকে ছিল, ক্রমিক নম্বর, দাতার নাম, পিতার নাম ও ঠিকানা, প্রাপ্ত টাকার পরিমাণ, ব্যাংকের নাম ও হিসাব নম্বর, জমা করার স্লিপ নম্বর ও তারিখ, মন্তব্য ইত্যাদি কলাম। ব্যাংকের অনেকগুলো জমা বহ এক সাথে ট্যাগ করা ছিল। এছাড়া, ১৯৯০ সালে প্রকাশিত ট্রাস্টের স্মরণিকায় কার কাছ থেকে এবং কোন প্রতিষ্ঠান-অফিসের কাছ থেকে কত টাকা পাওয়া গেছে, তা-ও ছাপানো হয়। ১৯৯০ সালে আমরা ট্রাস্টের পক্ষ থেকে বৃত্তি প্রদানের যে অনুষ্ঠান আয়োজন করেছিলাম, তাতে ট্রাস্টের কোনো অর্থ আনুষঙ্গিক খাতে ব্যয় করা হয়নি। কারণ, কয়েকজন আজীবন’ সদস যেমন, সাইফুল ইসলাম যুবরাজ, মধুসুদন দাস দুলু, হাজী ফারুক হোসেন, রশুনিয়া ইউপি চেয়ারম্যান জনাব আঃ মান্নান সিকদার প্রমুখ স্বেচ্ছায় অনুষ্ঠানের যাবতীয় ব্যয় করেছিলেন। স্মরণিকা প্রকাশের ব্যয় নির্বাহ করা হয় প্রাপ্ত বিজ্ঞাপনের অর্থ দ্বারা। তখনকার সিরাজদিখানের মতো একটি অনগ্রসর ও আজকের বিক্রমপুর ১০ বহন অসচ্ছল উপজেলার মানুষের কাছ থেকে একটি ছোট পদে চাকরি করে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করার কৃতিত্ব আমার নয়, বরং ট্রাস্টের প্রতি, হয়তো আমার প্রতিও, সকল পর্যায়ের মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস সৃষ্টি হওয়ার কারণে এ অসম্ভব কাজ সম্ভব হয়েছে। ১৯৯০ সালে শিক্ষা ট্রাস্টের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক (কলেজ ও মাদ্রাসা), স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে মেধাবী ও অসচ্ছল মোট ১৮৭ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি ও পরীক্ষা কেন্দ্রের জন্য জোড়া বেঞ্চ প্রদানের জন্য মোট ১,৬০,৯০০/- টাকা প্রদান করা হয় । ওই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যথাক্রমে সিরাজদিখানের কৃতী কৃতী সন্তান ও বাংলাদেশ সরকারের তখনকার তথ্যমন্ত্রী ড. মীজানুর রহমান শেলী এবং সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের সচিব কে এম রব্বানী। উপজেলা পরিষদ-ভবনের সামনের চত্বরে বিরাট প্যান্ডেল ও মঞ্চ তৈরি করা হয়, যাতে হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক ও সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত হয়। বেশি দূরের কয়েকটি বিদ্যালয় ব্যতীত, প্রায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকমণ্ডলী এই অনুষ্ঠানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মিছিল করে যোগদান করেন। অনুষ্ঠান-মাঠ ও রাস্তা এবং পুকুর পার ছিল লোকে লোকারণ্য। সে এক অপুর্ব ও মনোমুগ্ধকর দৃশ্য, যা আজও আমার চোখে ভাসছে। যেহেতু সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষার্থীগণ শিক্ষা ট্রাস্টে অনুদান দিয়েছে, তারা তাই স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে নিজেদের অনুষ্ঠান মনে করে উপস্থিত হয়েছে। শভাগ সফলতার সাথে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয় বলে সবার ধারণা। উল্লেখ্য, জীবনে সর্বদা আমি সাফল্য সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসী হয়েই কাজ করেছি। কখনো কোনো কাজে অফসল হলেও, তা সহজে মেনে নেয়ার মানসিকতা আমার ছিল। আমি অতীতের ভুল-ভ্রান্তি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে, নব উদ্যমে আবার সফল হওয়ার সাধনা করেছি। আমি নিজের জীবনেই শিখেছি যে নিরবিচ্ছিন্ন সফলতা বা ব্যর্থতা বলে কিছু নেই। এটাই চিরন্তন সত্য, যার মুখোমুখি হয়েছি জীবনে বহুবার, থাকে বলা যায়, জীবন থেকে নেয়া। এ ব্যাপার, আর একটি ছোট্ট ঘটনা স্মর্তব্য। শিক্ষা ট্রাস্টের স্মরণিকা প্রকাশের পূর্বে উপপ্রধান মন্ত্রী শাহ মোয়াজ্জে : হোসেন, নৌ-পরিবহন মন্ত্রী এম কোরবান অা, তথ্যমন্ত্রী ড. মিজানুর রহমান শেলী, সংস্থান সচিব, শিক্ষা সচিব প্রমুখের বাণী সংগ্রহের পর জাঁদরেল সিএসপি অফিসার মন্ত্রীপরিষদ এটির এনকে আনোয়ারের (পরে মন্ত্রী) কাছে বাণী আনার জন্য, তাঁর অফিস কক্ষে যাই। আমি তার অনুমতি নিয়ে য় lo , সামনা-সামনি বসে সিরাজদিখান শিক্ষা ট্রাস্টের গঠনতন্ত্রের একটি কপি তাঁকে দেই। এরপর স্মরণিকার জন্য তাঁর বাণী চেয়ে ট্রাস্ট-ফান্ডে প্রায় বিশ লক্ষ টাকা আদায় হয়েছে বলে জানাই । আমি এত টাকা কোথায় পেয়েছি, তিনি তা জিজ্ঞেস করেন। আমি সরলমনে বলি, বলি, উপজেলার সকল স্তরের মানুষ স্বেচ্ছায় ট্রাস্ট- তহবিলে অনুদান প্রদান করেছেন। সাথে সাথে তিনি টাকা তোলার ব্যাপারে আমাকে জেরা শুরু করেন। সরকারি কর্মচারি (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ৯ বিধি অনুসারে স্বীয় কর্মস্থলে সরকারি কর্মচারী কোনো উদ্দেশ্যেই কোনোরূপ তহবিল সংগ্রহ করতে পারবে না। Excuse me, Sir, বেয়াদবি নেবেন না, স্যার, অপরাধ হলে ক্ষমা করবেন, স্যার, ইত্যাদি বলে আমি বিনয়ের সাথে জনাব দেই যে ছাত্র-ছাত্রীদের কল্যাণে ও শিক্ষার সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণে আমি এ প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছি। তিনি বলেন, উদ্দেশ্য যত ভালোই হোক, সরকারের নিয়ম- নীতির মধ্যেই, তা করতে হবে। আমি জবাব দেই, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে এ কাজটি আমি করেছি, এখানে আমার ব্যক্তিস্বার্থের কোনো অবকাশ নেই। তিনি আবার বলেন, যত যুক্তিই প্রদর্শন করুন না কেন, এটা সরকারি বিধির পরিপন্থি ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আমি আবার বিনীতভাবে বলি, স্যার, আপনি আমাদের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ, কলমের এক খোঁচায় আমাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করতে পারেন। কিন্তু আমার সনির্বন্ধ অনুরোধ, আপনি উপযুক্ত মনে করলে, শিক্ষা ট্রাস্টের ব্যাপারে সরেজমিনে একটি তদন্ত করালে ভালো হয়। আমি আরো বলি, প্রশাসন ক্যাডারে আমাদের শ্রদ্ধেয় পূর্বসুরিগণ মহকুমা ও জেলায় সরকারি বরাদ্দ না থাকায় স্থানীয় মহৎপ্রাণ ও দানশীল ব্যক্তিদের সহায়তায় অনেক স্কুল-কলেজ, পাঠাগার, স্টেডিয়াম, মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা ইত্যাদি নির্মাণ করেছেন। একটু সাহস সঞ্চয় করে নিবেদন করি, স্যার, মানুষ আমাকে টাকা দেয়নি, দিয়েছে আমার চেয়ারকে । এই চেয়ারকে নিজের জন্য অপব্যবহার না করে, শিক্ষার কল্যাণে তথা জনকল্যাণের কাজে আমি অর্থ সংগ্রহ করেছি। এজন্য, আমাকে আপনি যেকোনো শাস্তি দিতে পারেন। আমি তখন ভুলে যাই যে তিনি মন্ত্রিপরিষদ সচিব আর আমি সামান্য একজন ইউএনও । আমি মনে করেছি যে তিনিও মানুষ, আর আমিও মানুষ। যা হবার, তা-ই হবে। শেষ পর্যন্ত তিনি বলেন, ‘do appreciate your work, but I’m shy of publicity, আমি বাণী দিতে পারছি না’। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে, সেখান থেকে চলে আসি । শিক্ষা ট্রাস্টের স্মরণিকার সম্পাদক ছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও গবেষক ড. মোহাম্মদ আপন; আর আহবায়ক ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক শেখেরনগর ইউনিয়নের জনাব এম. এম আজিজুল হক। বিশিষ্ট সাহিত্যিক, কবি ও অনুবাদক আশম বাবর আলী তখনকার বহুল প্রচারিত দৈনিক আজাদ, দৈনিক খবর, দৈনিক ইনকিলাব, দৈনিক জনতা এবং কযেকটি গুরুত্বপূর্ণ সাপ্তাহিক ও মাসিক ম্যাগাজিনে সিরাজদিখান শিক্ষা ট্রাস্ট সম্পর্কে আমার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে, তা প্রকাশের ব্যবস্থা করেন। ফলে, সিরাজদিখানের অনেকেই শিক্ষা ট্রাস্ট সম্পর্কে জেনে, এ প্রতিষ্ঠানের প্রতি আকৃষ্ট ট্রাস্ট সম্পর্কে জেনে, এ প্রতিষ্ঠানের প্রতি আকৃষ্ট হন । ১৯৯১ সালের ৮ই মার্চ সিরাজদিখান উপজেলার ইছাপুরা হাইস্কুল-মিলনায়তনে (বর্তমানে গভঃ হাইস্কুল) আমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় সিরাজদিখান উপজেলা বুক ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করি। সভায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ, শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গ ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন। সভায় সবদিক বিবেচনা করে ইছাপুরাতে বুক ব্যাংকের কার্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বুক ব্যাংকের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছে, সিরাজদিখান উপজেলার বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত অসচ্ছল, মেধাবী ও প্রতিশ্রুতিশীল শিক্ষার্থীদের পূর্ণ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রয়োজনীয় পাঠ্যপুস্তক ঋণ হিসেবে প্রদান করা, বুক ব্যাংক কার্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বই পড়ার সুযোগ সৃষ্টি করা । উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে সভাপতি করে মোট ১৫-১৭ সদস্য সমন্বয়ে একটি নির্বাহী কমিটি গঠিত হয়। বিক্রমপুর চাঁদের হাটের সম্পাদক পদাধিকারবলে বুক ব্যাংকের সদস্য- সচিব হন। পদাধিকারবলে প্রথম সদস্য-সচিব হন জনাব এমদাদুল হক পলাশ, যিনি বর্তমানেও এর সদস্য-সচিব আছেন। আমি সিরাজদিখানে কর্মরত থাকাকালে উপজেলা বুক ব্যাংক, থেকে একবার শিক্ষার্থীদের পূর্ণ শিক্ষাবর্ষের জন্য পাঠ্যপুস্তক ঋণ হিসেবে দেয়া হয়। সবদিক বিবেচনা করে ১৯৯১ সালের এপ্রিল মাসে আমারই সাংবাদিকদের নিয়ে আমারই উপজেলার উদ্যোগে ও সভাপতিত্বে ইছাপুরা হাইস্কুলে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় সিরাজদিখান প্রেসক্লাব গঠন করি। বর্তমানে এর আলাদা ভবন নির্মিত হয়েছে। একই বছর মে মাসে আমাকে প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে বিদায় সংবর্ধনা দেয়া হয় । ১৯৯১ সালে আমাকে বাগেরহাট জেলা পরিষদের সচিব হিসেবে বদলি করা হয়। তখন আমার ছেলে ঢাকা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। তাই আমি ঢাকার আশেপাশের কোনো উপজেলা বা ঢাকায় বদলির আবেদন করি। আমি সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের (বর্তমানে আজকের বিক্রমপুর ১১ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়) সাবেক সচিব কেএম রব্বানীর সাথে দেখা করে, তাঁকে আমার বদলির ব্যাপারে অনুরোধ জানাই। তিনি তখন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ছিলেন। তিনি আমাকে ভালোভাবে চেনেন এবং শিক্ষা ট্রাস্ট্রের অনুষ্ঠানে তাঁর বক্তৃতায় আমার কাজের জন্য তিনি সার্ভিসের সদস্য হিসেবে নিজেকে গর্বিত মনে করেন বলে মত প্রকাশ করেন । তিনিও সিএসপি অফিসার আর সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের সচিবও সিএসপি অফিসার। অথচ তিনি তাঁর সাথে টেলিফোনে আমার ব্যাপারে কথা বলতে সম্মত হননি। আমার তখন পূর্ব পাকিস্তানের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও বিশিষ্ট আইনজীবী জনাব আতাউর রহমান খানের ওজারতির দুই বছর নামীয় বইয়ের কথা মনে পড়ে। ওই বইয়ের এক স্থানে তিনি লিখেছেন, দু’জন সিএসপি অফিসার বছরের পর বছর একই ভবনে বা ফ্লোরে পাশাপাশি কক্ষে থাকলেও, প্রয়োজনে কোনো বিষয়ে চিঠির পর চিঠি লিখেন। কিন্তু হয়তো অহংবোধের কারণে, কেউ কারো কাছে যান না বা টেলিফোনেও কথা বলেন না। এটাকেই বলে ঔপনিবেশিক আমলের আমলাতন্ত্র। তাঁদের বেশিরভাগই অন্য কোনো সার্ভিসের কর্মকর্তাদের সাথে তো বটেই, আবার কেউ কেউ নিজেদের মধ্যেও এরূপ আচরণ করতেন। তবে বেশিরভাগ সিএসপি অফিসার সাধারণত নিজেদের মধ্যে এরূপ আত্মগর্ব দেখাতেন না। একজন সিএসপি শিক্ষানবিশ অফিসার যে-কোনো পর্যায়ের সিএসপি কর্মকর্তার সাথে অবাধে মেলামেশা করতে পারতেন। কেননা, তাঁরা তো সবাই কুলীন (Elite) সার্ভিসের সদস্য। অবশ্য অনেক সিএসপি অফিসার সম্পর্কে জানি যে তাঁরা অবাধে সবার সাথে মেলামেশা করতেন। তাঁরা ছিলেন অমায়িক, নিরহংকার ও সহজগম্য। শেষ পর্যন্ত আমার ব্যক্তিগত চেষ্টায় নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলায় আমাকে বদলি করা হয় । সিরাজদিখান থেকে চলে আসার আগে আমার বিদায় উপলক্ষে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সংগঠন, অফিস থেকে অনেকগুলো বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এখানে প্রায় সাড়ে চারবছর সর্বস্তরের জনগণের এক হয়ে চাকরি করেছি, সবার কাছ থেকে ভালোবাসা, সম্মান ও আন্ত৷ করেছি, আমিও সকলকে ভালোবেসেছি। তাই এখানকার এজন্য নিখাদ শ্ৰদ্ধা লাভ সর্বান্তঃকরণে ও আনুষকে ছেড়ে যেতে আমার দারুণ সাপ লাগছিল। তারপরও রূঢ় বাস্তবতাকে মেনে ১৯৯১ সালের ৬ই জুন সিরাজদিখান থেকে বিদায় নেই। সর্বশেষ বিদায় সভায় আম। বক্তব্যের শেষে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের ভাষায় – ত হোক, ‘মোর নাম এই বলে আমি তোমাদেরই লোক।

Facebook Comments Box
এ জাতীয় আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫ ঝিকুটপত্র
Theme Customized By Shakil IT Park