প্রতিবছরই বর্ষার পর মশাবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়ে। চলতি বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। চিকিৎসকেরা বলছেন, দু’দিন ধরে জ্বর, মাথাব্যথা, সারা শরীরে ব্যথা এবং গায়ে র্যাশ থাকলে সাধারণভাবে তা ডেঙ্গুর লক্ষণ বলেই ধরে নেয়া হয়।
তবে রক্ত পরীক্ষার প্রয়োজন অবশ্যই রয়েছে। ডেঙ্গু বা কোভিড, যা-ই হোক না কেন, জ্বর হলে শরীর বেশ দুর্বল হয়ে পড়ে। শরীরে পানির ঘাটতি দেখা যায়।
রক্তে প্লেটলেটের মান অস্বাভাবিক হারে কমতে থাকে ডেঙ্গু হলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বরের সময়ে তো অবশ্যই, তারপরের বেশ কিছু দিন পর্যন্ত শরীরে বিভিন্ন রকম জটিলতা দেখা দিতে পারে। দুর্বলতা কাটতে অনেক সময় লাগে। তাই ওই সময়ে খাওয়া-দাওয়ার ওপর বেশি করে নজর দিতে হয়। প্রোটিন জাতীয় খাবার বেশি করে খাওয়ার পাশাপাশি শরীরে বিভিন্ন খনিজের মাত্রায় যেন ঘাটতি না পড়ে, সে দিকেও নজর রাখা প্রয়োজন।
ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হওয়ার পরে নিয়মিত কোন কোন খাবার খেতে হবে?
কাঠবাদাম :
বিভিন্ন রকম অ্যামাইনো অ্যাসিড, ভিটামিন, প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাটে ভরপুর কাঠবাদাম শরীরের জন্য অনেক উপকারী। ডেঙ্গুর পর শরীর যথেষ্ট দুর্বল থাকে। ওই সময়ে শক্তির জোগান দিতে সাহায্য করে কাঠবাদাম। তাছাড়া, ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণেও সাহায্য করে।
কলা :
মানবদেহের বেশির ভাগটাই পানি। তাই কোনোভাবেই যেন পানির ঘাটতি না হয়, সে দিকে নজর রাখতে বলেন চিকিৎসকেরা। পানি বা তরলজাতীয় খাবার খাওয়ার পাশিপাশি, কলা খেতে বলছেন পুষ্টিবিদরা। এছাড়াও, রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা ঠিক রাখতে কলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ডাবের পানি :
ডেঙ্গু হলে শরীরে যে যে খনিজের ঘাটতি দেখা যায়, তার বেশির ভাগটাই পূরণ হয়ে যেতে পারে ডাবের পানিতে। তবে ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে শুধু ডাবের পানি খেয়ে গেলেই যে কাজ হবে, এমন নয়। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন।
পেঁপে :
অনেকের ধারণা প্লেটলেটের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে বিশেষ কিছু খাবার খেয়ে। তবে চিকিৎসকেরা বলেন, এই ধারণার তেমন কোনো ভিত্তি নেই। বরং প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলার জন্য নিয়মিত পাকা পেঁপে খাওয়া যেতেই পারে।
বেদানা :
প্রতিরোধ শক্তি এবং রক্তে লোহিত কণিকার পরিমাণ বাড়িয়ে তোলার জন্য খাওয়া যেতে পারে বেদানার রস। তবে অনেকেরই বেদানা বা ডালিম খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বেড়ে যায়। তাই যথাযথ প্রতিরোধ ব্যবস্থাও নিতে হবে।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা







