
মুহাম্মদ জাফর ইকবালের অমর সৃষ্টি টুনটুনি সিরিজ
ঝিকুটপত্র ডেস্ক :
মুহাম্মদ জাফর ইকবাল মানেই জনপ্রিয় শ্রেষ্ঠ কিশোর উপন্যাসিক!
আরো টুনটুনি ও আরো ছোটাচ্চু – বইয়ের ফ্ল্যাপে লেখা কিছু কথা
ঘরের মাঝামাঝি কয়েকটা চেয়ার বসানো হয়েছে, তার একটাতে ফারিহা বসে আছে। টুনি ছোটাচ্চু হাত ধরে তাকে টেনে এনে ফারিহাপুর কাছে আরেকটা চেয়ারে বসিয়ে দেয়। ঘরের বাচ্চা-কাচ্চারা সবাই চোখের কোনা দিয়ে ছোটাচ্চু আর ফারিহাকে লক্ষ করছে কিন্তু আগে থেকে বলে দেয়া আছে কেউ যেন তাদের দিকে সরাসরি না তাকিয়ে থাকে, তাই সবাই বিয়ের হৈ-হুল্লোড়ে ব্যস্ত আছে, এরকম ভান করতে লাগল। ফারিহাপুর কাছে চেয়ারে বসে ছোটাচ্চু গম্ভীর মুখে ফারিহাকে বলল, “কেমন আছ?” ফারিহাপু বলল, “ভালো।” ছোটাচ্চু বলল, “ও।” তারপর দুইজন আর বলার মতো কোনো কথা খুঁজে পেল না। দুইজনই মুখ শক্ত করে সামনের দিকে তাকিয়ে বসে রইল, তাদের দেখে মনে হতে থাকে তারা একজন আরেকজনের চেনে না। টুনি চোখের কোনা দিয়ে দুইজনকে লক্ষ করে তারপর দরজার দিকে তাকায়। সেখানে গুড্ডু দাঁড়িয়ে আছে। টুনি তাকে একটা সিগন্যাল দিল, তখন গুড্ডু ছুটতে ছুটতে ভিতরে ঢুকে চিৎকার করে বলল, “বরযাত্রী এসে গেছে। বরযাত্রী এসে গেছে।”
“আবারো টুনটুনি ও আবারো ছোটাচ্চু” বই এর ফ্ল্যাপ এর কথা:
দূর থেকে টুম্পা আর মুনিয়াকে দেখা যাচ্ছে ছোটাছুটি করে বই কিনছে। বইয়ের বোঝা আর টেনে নিতে পারছে না। – কী আনন্দ! টুনি আশেপাশে তাকাল, বাবা মায়েরা তাদের ছেলেমেয়েদের নিয়ে হাঁটছে। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরা হাত ধরাধরি করে হাঁটছে। চশমা পরা খ্যাপা ধরনের একটা মেয়ে হেঁটে গেল, বাতাসে চুল উড়ছে, কী সুন্দর লাগছে দেখতে। শাড়ি পরা দুজন মেয়ে হাসতে হাসতে কথা বলতে বলতে হেঁটে যাচ্ছে কী সুন্দর কপালে লাল-সবুজ টিপ দিয়েছে। দেখতে কী ভালো লাগছে। টুনি বসে বসে দেখে। তার মনে হয়, আহা বেঁচে থাকাটা কী আনন্দের!
তবুও টুনটুনি তবুও ছোটাচ্চু
“রাত্রিবেলা বাসায় খুবই উত্তেজনা। অনেক দিন পর বাসায় এ রকম উত্তেজনা হয়েছে। ছোটাছু একটা চেয়ারে পিঠ সোজা করে বসে। আছে। তার মোটামুটি বিধ্বস্ত চেহারা। বড় চাচা ঘরে পায়চারি করছেন, একটু আগে অনেক কষ্ট করে বড় চাচা ছোটাছুকে হাজত থেকে ছুটিয়ে এনেছেন ।…” ছোটাছুর জীবনটি হঠাৎ করে ভিন্ন এক দিকে মোড় নিয়েছে। এই বইটি সেই ভিন্ন। ছোটাছুর ভিন্ন জীবনের গল্প।
তবুও টুনটুনি তবুও ছোটাচ্চু -বইয়ের ভূমিকা
আমি যখন টুনটুনি ও ছোটাছু নিয়ে লিখতে শুরু করেছিলাম তখন একবারও ভাবিনি যে এদের নিয়ে দ্বিতীয় একটি বই লেখা হবে। এখন সবিস্ময়ে আবিষ্কার করছি, শুধু দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় নয়, চতুর্থারও লেখা হয়ে গেছে। বলা বাহুল্য, আমার এই লেখালেখি করার কারণ হচ্ছে পাঠকদের চাপ। পাঠকেরা যদি কমবয়সী শিশুকিশোর হয়, তাদের চাপ অত্যন্ত কঠিন, সেখান থেকে বের হয়ে আসা সোজা কথা নয়! আরো লিখতে হবে কি না জানি না-যদি লিখেও ফেলি, সেই বইয়ের নাম কীভাবে দেব?