মা’হাদুস সুফারা কী ও কেন?
ঝিকুটপত্র ডেস্ক: বাংলাদেশ পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। এই দেশে শিক্ষার্থীদের জন্য নৈতিক শিক্ষা ও সময়ের প্রয়োজনীয় আধুনিক শিক্ষার সমন্বিত একটি সফল শিক্ষা ব্যবস্থার খুব প্রয়োজন। কারণ শিক্ষার মাধ্যমেই একটি জাতি গঠন হয়। সমৃদ্ধ ও সুষ্ঠু সমাজ গঠনে সঠিক পূর্ণাঙ্গ শিক্ষার বিকল্প নেই। একটি সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ধর্মীয় শিক্ষা, কৃষ্টি-কালচার ত্যাগ করে সমৃদ্ধ ও সুষ্ঠু সমাজ গঠন কোন ভাবেই সম্ভব নয়। শিক্ষা যদি জাতির মেরুদন্ড হয় তাহলে সে মেরুদণ্ডের সঠিক যত্ন নিতে হবে।
এই বাস্তবতাকে উপলব্ধি করে প্রতিভাবান উলামাদের এক তরুণ দল দেশের সর্বোচ্চ ইসলামী শিক্ষা সমাপ্ত করে আন্তর্জাতিক পর্যায় আরও উচ্চ শিক্ষার লক্ষ্যে মিশরের আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে গমন করেন। সেখানে উচ্চ শিক্ষা সম্পন্ন করে তাঁরা দেশে শিক্ষা খাতে সেবা করার জন্য আত্ননিয়োগ করেন। বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতা সামনে রেখে যুগের চাহিদা ও মৌলিক ইসলামী শিক্ষার মধ্যে সমন্বয় করে নতুন প্রজন্মকে সঠিক ভাবে গড়ে তুলা তাঁদের মূল লক্ষ্য নির্ধারণ করেন। যেই শিক্ষার আলোকে শিক্ষার্থীরা চরমপন্থা ও ব্যখ্যার বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত থেকে সঠিক ঈমান আক্বিদার উপর গড়ে উঠবে। সাথে জাগতিক শিক্ষার প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোর সর্বাধুনিক পদ্ধতিতে মানসম্পন্ন ভাবে শিক্ষা দেয়া হবে। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত সকলের শিক্ষা-ই থাকবে এক ও অভিন্ন। উচ্চমাধ্যমিকের পর প্রত্যেক শিক্ষার্থী তাঁর আগ্রহ ও লক্ষ্য অনুযায়ি স্নাতক ও স্নাকোত্তর শিক্ষা নির্ধারণ করবে। উচ্চমাধ্যমিকের পর যারা আলিম হতে চায় তাঁরা শরিয়া বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পড়াশোনা করবে। এই ভাবে একটি অভিন্ন ও গ্রহণযোগ্য সমন্বিত শিক্ষা ব্যাবস্থার সুদূরপ্রসারি লক্ষ্য নিয়ে দেশের ও মিশরের বরেণ্য শীর্ষস্থানীয় অভিজ্ঞ শিক্ষাবিদ উলামাদের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশের তরুণ উদ্যোগী আযহারী স্কলারগণ মা’হাদুস সুফারা বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেন। মা’হাদ প্রাথমিক ভাবে মাদানী নেসাব, আদব বিভাগ ও উলূমুল হাদীস বিভাগ নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছে। মাদানী নেসাবের সাথে বৃটিশ এডেক্সেল কারিকুলাম/জাতীয় শিক্ষা বোর্ডের স্কুল কারিকুলাম সমন্বয় করার প্রয়াস অব্যাহত আছে। আর অন্যান্য বিভাগে ইংলিশ সহ প্রয়োজনীয় সমকালীন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও শিক্ষা দিয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন আলেম ও দায়ী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে মা’হাদ কাজ করে যাচ্ছে। প্রত্যেক বিভাগের মান নিশ্চিত করে তার লক্ষ্যে পৌছার জন্য পর্যাক্রমে অন্যান্য শিক্ষা কর্মসূচীও শুরু করা হবে ইনশাল্লাহ। আল্লাহ তায়ালা মা’হাদকে কবুল করেন।
মাদানী নেসাবের বৈশিষ্ট্য :
• ১০-১৪ বছরের হাফেজ/গায়রে হাফেজ প্রাইমারী পাশ ছাত্রদের ভর্তি করা হয়।
• মাদানী নেসাবের সাথে ইংলিশ মিডিয়ামের এডেক্সেল/জাতীয় শিক্ষা বোর্ড কারিকুলাম সমন্বিত সিলেবাস।
• কোরআন-সুন্নাহর নুসুস মুখস্থে গুরুত্বারোপ ও নুসুস ভিত্তিক আরবী চর্চার পরিবেশ।
• হাদীস ও কোরানিক আরবী ভাষার সাথে সাথে আধুনিক আরবী ভাষার সমন্বয়।
• বলা, শোনা, পড়া ও লেখা- এই চার দক্ষতাকে সমান বিকশিত করার পদক্ষেপ।
পরিচালনায়ঃ মুফতি আরীফ মুহাম্মদ আল-আযহারী,
পিএইচডি গবেষক (হাদীস ও উলূমুল হাদীস) আল-আযহার মিশর।
মাদানী নেসাবের সার্বিক তত্ত্বাবধানেঃ
মাওলানা হাবীবুর রহমান মুনীর নদভী
পরিচালক, মা’হাদুল লুগাহ আল-আরাবিয়াহ, কাম্রাঙ্গীরচর।
মাওলানা আরীফ হক্কানী কাসেমী (ঢাকার হুজুর)
পরিচালক আজমপুর দারুল উলূম মাদরাসা, উত্তরা, ঢাকা।
নিচের লিংকে ফরম পূরন করে আপনার ভর্তি রেজিষ্ট্রেশন নিশ্চিত করুন।
https://forms.gle/JBb23zPXkc5mpx4FA