1. admin@jhikutpatra.com : সম্পাদক : আশরাফ ইকবাল
  2. atiqnayanmcjdu@gmail.com : atique nayan : atique nayan
  3. sheikhrupu@gmail.com : শেখ রুপু : শেখ রুপু
  4. shahriar40-371@diu.edu.bd : Shahriar Tanvir Refat : Shahriar Tanvir Refat
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ফ্রেন্ডস এসোসিয়েশন অব মালখানগরের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত, সভাপতি সোহেল ও সম্পাদক বাহার পুনর্নির্বাচিত অচেনা সেই আলোর হাত ছটকু আহমেদের সাথে দৈনিক মুন্সিগঞ্জের বার্তার সৌজন্য সাক্ষাৎ ঝিকুট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: তরুণ সমাজকে মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে সামাজিক সংগঠনের ভূমিকা অনস্বীকার্য সাংবাদিক আশরাফ ইকবালের জন্মদিনে শিক্ষার্থীদের গাছের চারা দিলেন তরুছায়া লেখক, সাংবাদিক ও সংগঠক আশরাফ ইকবালের শুভ জন্মদিন এইচনূর ফাউন্ডেশনের সঙ্গে ঝিকুট ফাউন্ডেশনের সৌজন্য সাক্ষাৎ ঝিকুট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন বাহারের শুভেচ্ছা ঝিকুট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এ এন এম হুমায়ূন কবির সাগরের শুভেচ্ছা ঝিকুট ফাউন্ডেশনের নতুন উপদেষ্টা হলেন সৈয়দ হোসেন নয়ন

স্বপ্ন ও শব্দের ফেরিওয়ালা

  • আপডেট সময় : বুধবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৩
  • ১৩৮ বার পঠিত

স্বপ্ন ও শব্দের ফেরিওয়ালা মাহবুবা ফারুক

নাহিদা আশরাফী:

সময়টা ১৯৭৯ এর দিকে। তখন বেগম পত্রিকার সম্পাদিক নূরজাহান বেগম। মেয়েটি ঘুম ভাঙ্গতেই চুপি চুপি গভীর আগ্রহ নিয়ে সকলের অগোচরে বেগম পত্রিকার প্রথম থেকে শেষাবধি এক নিশ্বাসে পড়ে ফেলে। মা-বাবা জানালার শার্শি খুলে সকালের মিঠে রোদের অবাধ আগমন নিশ্চিত করতেন বটে কিন্তু ঘরের ভেতরকার আলোর ফোঁটা ফোঁটা উজ্জলতাকে তখন ও ঠিক বুঝে উঠতে পারেননি। মেয়েটি ও চাপা স্বভাবের। মুখে কিছু বলতো না। খুব গোপনে একদিন তার প্রথম প্রেম সে উড়িয়ে দিল বেগমের ঠিকানায়। তারপর অপেক্ষা আর অপেক্ষা। অপেক্ষা ঠিক-ই একদিন নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্মে থামলো। প্ল্যাট ফর্মে অপেক্ষার ট্রেন থামতেই ঝুড়ি ঝুড়ি আনন্দ নেমে পড়লো। স্টেশন মাস্টার ঝুড়ি ভরা আনন্দ হৃদয়ে নিয়ে মায়ের সামনে দাঁড়ালো। মা বেগম পত্রিকা হাতে নিয়ে যারপর নাই অবাক হলেন। ভেতরে ভেতরে গর্বিত হলেও সামনে তা প্রকাশ না করে দীর্ঘ পথে চলার কিন্তু পাথেয় দিলেন। সেই পাথেয় কি হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়-এক বুক আশির্বাদ। সেই পাথেয় নিয়ে স্টেশন মাস্টার আজও পথ চলছে। সেই আনন্দ নগরের স্টেশন মাস্টার আর কেউ নয়। আমাদের মাহবুবা ফারুক। মানুষ নামের আগে কত বড় বড় বিশেষণ ব্যবহার করে। অথচ এই একটি সর্বনামের কাছে কত বড় বড় বিশেষণ ও কত সহজে হার মেনে যায়। মাহবুবা ফারুক নামের আগে এই যে ‘আমাদের’ শব্দটির এত প্রাণোজ্জল উপস্থিতি এর কারণ কিন্তু একটাই। তার সহজিয়া উপস্থাপন নিজেকে ও তার লেখাকে। দেখা হলেই এই হাসি মুখটাই হয়ে যায় এক অনবদ্য কবিতা। প্রথম দিকটায় তিনি অবশ্য এই নামে লিখতেন না। তখন তিনি লিখতেন তুহিন আহ্মেদ নামে। নাম নিয়ে বেশ পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই গেছেন এই কাশবন কন্যা। তবু বলতেই হয় নামে কিবা আসে যায়? যে নিজেকে প্রমাণ করেছে, স্ব মহিমায় নাম কি তাকে আটকাতে পারে কোনো বন্ধনীতে! আর তাকে যে আটকানো যাবে না তা তার প্রথম কবিতাতেও বেশ বোঝা গিয়েছিলো।

প্রচন্ড ঝড়ের তান্ডব নৃত্যে ভাবুকের শান্ত মন
মায়ের আঁচলের ছায়ার প্রশান্তি
চাঁদনী সন্ধ্যায় বালুচরে হেঁটে কথা বলা
হঠাৎ তড়িতাহত হয়ে ঝুলে থাকা
বাদুড়ের কচি বাচ্চার অন্তিম চিৎকার
তুমি কি কখনও শুনেছ? … (কথা বল)

কিছু দিন আগে চোখে পড়লো দৈনিক আমাদের সময়ে লেখা তার ছোট একটি কবিতার দিকে।

এতটা পথ আসবো
ভাবিনি-আসব যে তা
জানা ও ছিলো না
এতটা পথে এসেছি
কতটা পথ বাকী জানি না। … (পথ)

শুরু হয়েছিলো ‘কথা বল” দিয়ে। আজ সময়ের সম্ভাবনায় উত্তীর্ণ কবির স্বগতোক্তি ‘‘কতটা পথ বাকি জানি না।” এই যে নিরন্তর পথ চলা, কখনও হেসে, কখন ও প্রবল বেগে কখনও খেয়ালে বা বেখেয়ালে কখন ও আনন্দে কখনও বিষাদে তাঁর শেষ কোথায় কবি নিজেও কি জানেন? কবিকে তো একা হতে হয়। সরব পারিপার্শ্বিকতা থেকে বৈরাগ্য সাধন করতে হয়। সেই বৈরাগী একলা ঘরে বসে প্রকাশ করেন তার অবস্থান, উপলব্ধি আর চেতনার আক্ষরিক রুপ।

হাঁটতে হাঁটতে যে নদীর কাছে থেমে যায় পথ।
সে নদী আমার মা-নদী মা।
পুড়ে পুড়ে অবশেষে যে বটের ছায়া চিনে নেই,
সে বটগাছ আমার বাবা। … (একাকীত্ব পাঠ)

তার ভাবনার আড়ালে লুকিয়ে থাকা পৃথিবীর অপার সৌন্দর্য্য তার আড়াল উম্মোচন করে ধরা দেয় সেই নিরালা নিঝুম অন্তরাত্মায়। তেমনি উপলব্ধি নিয়েই হয়তো কবি মাহবুবা ফারুকের লেখায় জেগে ওঠে এমন সত্য ভাষণ- যেখানে প্রকৃতি ধরা দেয় আপনার রুপে। আর আপনার মন হয়ে ওঠে প্রকৃতি। ভেঙে চুড়ে প্রতিনিয়ত নিজেকেই পরিপূর্ণ করা, আয়নার ওপারের আর এপারের সত্ত¡াকে একাকার করে বিলীন করা এই তো একজন কবির পক্ষেই সম্ভব। বাস্তবতা আর স্বপ্নকে মিশিয়ে মাখিয়ে নতুন এক আদল দাঁড় করিয়ে সেই আদলকে জীবন সুরা পান করিয়ে সঙ্গী বানাতে সবাই পারে না। ছোট ছোট দুঃখ ব্যথার কিছু নিঃসঙ্গ মুহূর্তে, বর্ষা ভেজা শালিকে, কিংবা রিক্সার প্যাডেলে পেশিবহুল পায়েও কবিতা খুঁজে ফেরেন একজন কবি। মাহবুবা ফারুক তেমনি এক কবি। তার ‘‘পথ” কথা বলবেই।
নেত্রকোনার বারহাট্টায় সেই সবুজ প্রকৃতি ও নীলিমার বেড়ে ওঠা কাশবন কন্যাটির পথ আর থেমে থাকেনি। একে একে বিভিন্ন পত্রিকায় তার লেখা প্রকাশ হতে থাকলো। তার আত্ম বিশ্বাস এভাবেই বেড়ে গেল। এখানে উল্লেখ্য যে মেয়েটি বেড়ে উঠেছিল কবিতার ছায়াতেই। এই বারহাট্টাতেই বাড়ি কবি নির্মলেন্দু গুণের। কবি মাহবুবা ফারুক তাঁর স্নেহ ও আশীর্বাদ লাভ করেছেন এবং এখনও করছেন। কলেজ জীবন পার হতে না হতেই তিনি সংসার জীবনে পা রাখলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। সংসার, লেখাপড়া সামলিয়েও কবিতার পথচলা থেমে থাকেনি। এরই মাঝে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও সাহিত্য পত্রিকায় তার লেখা তাকে আরও এগিয়ে নিলো কয়েক ধাপ। লেখার ব্যাপারে যতটা উৎসাহী ছিলেন কবি লেখাকে মলাটবদ্ধ করে বই আকারে প্রকাশ করার ব্যাপারে আগ্রহ ছিল ততটাই কম। তাই বই আকারে লেখাগুলো পাঠকের কাছে পৌঁছুতে কিছুটা সময় লেগে গেল। এর মধ্যে তার লেখা একটি নাটক বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত হয়েছে। প্রচারের অপেক্ষায় আছে আরও কয়েকটা নাটক। প্রতিভার বহুমাত্রিকতা আরো প্রকাশ পেল তার লেখা গানে। তিনি বিটিভির তালিকাভুক্ত গীতিকার। ব্যক্তিজীবনে ব্যাংকার স্বামী ফারুক খান এবং একমাত্র সন্তান সারিয়াত খানকে নিয়ে তার সুখের সংসার।

সত্য প্রকাশে দুরন্ত সাহস সবার থাকে না। কবি মাত্রই ‘শব্দের অবগুন্ঠনে লুকিয়ে থাকা সত্য’ উপলব্দিতে নিজেকে দাঁড় করান নিরপেক্ষতার কাঠগড়ায়। সত্যের কাছে প্রকাশে প্রতিনিয়তই তাকে যুদ্ধ করতে হয় তার দেখা পূর্ব পৃথিবীর নিয়ত নিষ্ঠুরতার সাথে। কখন ও সরাসরি কখন ও রূপকের আশ্রয় নিয়ে একজন কবি তার কলমকে আশ্রয় করে ফুটিয়ে তুলেন কবিতার শাশ্বত ও শরীরিরূপ। যেখানে বেদনার দানা ঝড়ে পড়ার দৃশ্য সুষ্পষ্ট।

কৈলাশ
মরে গেল কৈলাশ?
লাশ কই? কই লাশ?
আরে আমি জ্যান্ত
গায়ে হাত দেন তো?
বলি আমি কৈলাশ,
আমারি যে ওই লাশ। … (কৈলাশ)

কবির লেখার নিজস্ব গতিতেই তার প্রকৃতি ধরা পরে। শিশু সাহিত্যে তার নিজস্ব আবেগ ও ইচ্ছের যত সুচারু সম্পাদনা চোখে পরে তা অন্তত আমার কাছে ঈর্ষণীয়। ছোটদের জন্যে কিছু লিখতে গেলে ছোটদের মত করেই লিখতে হয়। বেড়ে যাওয়া বয়সী শরীরে মনটাকে শিশুর মতো রাখা বড় দুঃসাধ্য। অথচ এই কাজটি কত সহজিয়া সুরে বেধে গান গাইলেন কবিতা ও গল্পের প্রতি পংক্তিতে। চমৎকার সব উপমা ও আঙ্গিকে তিনি দেখালেন কি করে মনের মধ্যে দেশ প্রেমকে ধারন করতে হয়, মানুষকে ভালোবাসতে হয়। তার ‘এক ভাগ মোকাদ্দেস চাচা’- গল্পে মোকাদ্দেস চাচার মত একটি চরিত্রের মাধ্যমে কত বড় একটি ম্যাসেজ যে পৌঁছে দিলেন। মোকাদ্দেস চাচার মত একটি চরিত্রের মাঝে আমরা খুঁজে পেলাম ভালোবাসার এক সার্বজনীন রূপ। সবাইকে ভালোবাসতে গিয়ে নিজে সংসারী হবার সময়ই পেলেন না। সমাজের এই চরিত্রগুলো অলংকারের মত। যাদের ছাড়া প্রকৃতির ও তার সন্তানরা পরিপূর্ণ নয়। সহজ রুপকের মাধ্যমে শিশুমনে এঁকে দিয়েছেন আরও কত ক্ষুদে বার্তা। আনন্দের সাথে শিক্ষা বোধ হয় একেই বলে। সাবলীল উপস্থাপনায় শিশুদের কাছে দেশ ও মানুষের প্রতি, ভালোবাসা, পরিবার ও প্রিয়জনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া। অসহায় ও সুবিধা বঞ্চিতদের প্রতি সামাজিক দায়িত্ব চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। আর এ কারণেই বোধ হয় একে একে প্রকাশিত হতে থাকলো সব সুন্দর শিশুতোষ বই গুলো। প্রজাপতি, ভূতের বাড়ি কয়েকদিন, মা পাখি বাচ্চা পাখি, পরিবিবির সাথে দেখা হয়েছিল, ভূতের বংশধর। আর বেশ কিছু শিশুতোষ লেখার মাধ্যমে তিনি শিখিয়ে দিলেন কি করে স্বপ্ন দেখতে হয়। দেখাতে হয়। কি মায়াময় ছন্দ কথনে ফুটে ওঠে তার ভেতরের ঘুমন্ত শিশুটি।

একা একা কেমন করে থাকিস?
বল শুনি মা কাকে এখন বকিস?…(মা পাখি বাচ্চা পাখি)

আবার সেই শিশুটি এক পলকে মাতৃরূপ নিয়ে ধরা দেয় আমাদের সামনে। মায়ের উৎকণ্ঠা।

পথ চেয়ে রই আসবি কখন?
সূর্য যদি ডুবে তখন,
আঁধার হলে পরে?
ছোট্ট দুটি ডানায় করে
আসবি তখন উড়ে উড়ে
কেমন করে ঘরে?… (মা পাখি বাচ্চা পাখি)

কল্পনার লাল নীল মেঘে ভেসে যেতে যেতে রূপ কল্পের বাস্তবায়নে যে পারদর্শিতা বা সুচিন্তার পরিচয় তিনি দিয়েছেন তা বুঝতে ‘পরিবিবির সাথে দেখা হয়েছিলো’ গল্প গ্রন্থটিই যথেষ্ট। একদল ৫ম শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রী লালবাগ কেল্লায় শিক্ষা সফরে যাওয়া, সেখানে গিয়ে শুদ্ধ ও করবী নামের দুই ছাত্র-ছাত্রী হারিয়ে যাওয়া এবং সর্বোপরি হারিয়ে যাবার উদ্দেশ্য আবিষ্কৃত হতেই আমরা এক মুহূর্তেই এক সামাজিক প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড়াই। শিশুরাও যে সামাজিক সমস্যা ও অসংগতিগুলো নিয়ে ভাবে ও তাদের মত করেই তা সমাধানের চিন্তা ভাবনা ও করে। সেই বার্তা কত সাবলীল ভাবেই তুলে ধরলেন। একি শুধু শিশুদের মত করেই ভাবনা? নাকি তার অন্তরালে ঘূণে ধরা সামাজিক জীবন কাঠামোর প্রতি আমাদের উদাসীনতার এক পরোক্ষ চিত্র? দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির উত্তাপ পরিবার ছুঁয়ে যে শিশুদের গায়েও আঁচ লাগায় এতো তারই ভাষাচিত্র।
কবিতার ছন্দতত্ত্ব, নন্দন তত্ত্ব নিয়ে চুলচেরা হিসেব নতুন নয়। ছন্দ, মাত্রাকে যথাযথ প্রয়োগের ছাঁচে ফেলে শ্রুতিমধুর শব্দাবলীকে যখন পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জন করা হয় তখনই কবিতা জীবন্ত হয়। নইলে আতুর ঘরেই বিকলাঙ্গ হয় কবিতার শিশু সৈনিকটি। বিশ্লেষণে, চিন্তনে একজন লেখক যখন পাঠক মনে সেই আলোর প্রতিফলন ঘটাতে পারেন, যা সেই পাঠকের কাম্য ছিলো, তখনই সে হয়ে ওঠে সর্বজন প্রিয় ও গ্রাহ্য। ধারাবাহিকতা না থাকলে শিল্পের ইতিহাস যেমন সমৃদ্ধ হয় না, একজন লেখকের লেখায় ধারাবাহিকতা না থাকলে তার লেখাও বলিষ্ঠ হয় না। মাহবুবা ফারুক তার শিল্পের শিল্পিত চিত্রায়নে দিন দিন আরও উজ্জল হয়ে উঠুক, তার প্রতিটি কালির আঁচড় হেসে কেঁদে উঠুক, জীবন্ত হয়ে উঠুক পাঠক মনে। কেন জানি আমার সব সময় মনে হয় লেখক মনের মাধুরী কি রংঙধনুর মত নয়? এক এক লহমায় এক এক রং বিকিরণ করে। শুধু কালির আঁচড়ে সময়কে ফুটিয়ে তুলে সে আরাধ্য রং এর প্রলেপ সঠিক মাত্রায় বোলাতে পারাটাই একজন লেখকের সার্থকতা। লেখক মাহবুবা ফারুক তার কলমের তুলি চালিয়ে যান। নিজেকে নিজে প্রতিনিয়ত পেছনে ফেলুন ভেঙ্গে, গড়ে, বিন্যাসে, নিজেকে বিকাশ করুন শতরুপে। কাল কে জয় করুন তার মত করে। রহস্যময় কিন্তু ঘোলাটে নয়, চিত্রকল্পের মায়াজাল কিন্তু ধোয়াটে নয়-স্বচ্ছ স্বপ্নবুনন আর স্বতস্ফূর্ত নিবিড় বাক্য বপনে যে কবিতার মহীরুহ তিনি পাঠকের হৃদয়ভূমিতে সৃজন করে চলেছেন প্রতিনিয়ত তাঁর ছায়া ও মায়ায় পাঠককূল তাদের আশ্রয় খুঁজে পাক। তার ভাবনা আর উপলব্ধির সততা তাকে আর এগিয়ে নিয়ে যাক প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে, এ টুকুই আশা।
ভবিষ্যতে কবি ও শিশু সাহিত্যিক মাহবুবা ফারুককে নিয়ে আরও লিখার ইচ্ছে রইল। আশা করি সে আনন্দটুকু আমার হবে। ভালো থাকুন প্রিয় লেখক।

সোনা
জেনায়েদ মানসুর
(উৎসর্গ মাহবুবা ফারুক)

সোনার হাতে সোনার ফসল
সোনার আলোর দেশ
সোনা ফলাই সোনাই গড়ি
শেষ হবে না শেষ
সোনা নিয়ে ভাবছি আমি
সোনা নিয়ে ভাবছ তুমি
গলায় কানে হাতে আছে
সোনার বরণ বেশ।

মাহবুবা ফারুক
জাকির মজুমদার

রূপে গুণে চন্দ্রাবতী
বয়স যতই বাড়ুক।
কর্মে কাড়ে সবার মন
কবি মাহবুবা ফারুক।

Facebook Comments Box
এ জাতীয় আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫ ঝিকুটপত্র
Theme Customized By Shakil IT Park