
‘আপনি বড় হয়ে কী হতে চান?’
সামাদ আযাদ:
আমরা নিশ্চয় জানি আমাদের রিযিক আল্লাহ নিয়ন্ত্রণ করেন। আমরা বিশ্বাস করি যে, আমাদের জন্য যা কিছু বরাদ্দ তা আমাদের কাছে আসবে এবং যা আমাদের জন্য নয় তা আমাদের কাছে আসবে না তাই আমরা যতই পরিশ্রম করি বা চেষ্টা করি না কেনো।
আমাদের অনেকের ধারণা এরকম যে, আমার ভাগ্য ফিরাতে আমাকে আমার কাজ করতে হবে এবং আমার জীবিকা পেতে ‘আমার উটটি আগে বেঁধে রাখতে হবে’।
আমরা যারা আধুনিক বস্তুতান্ত্রিক পৃথিবীতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছি তাদের একটি সংস্কৃতি কমন হয়ে দেখা দেয় যখন আমাদের তরুণ বয়সে জিজ্ঞেস করা হয় ‘আপনি বড় হয়ে কী হতে চান?’ মজার ব্যাপার হলো উত্তরগুলি হয় চমকপ্রদ এবং এর মধ্যে প্রধানগুলি হয় ভালো উপার্জনের সম্ভাবনা নির্ভর। এসব উত্তরগুলি সরাসরি পিতামাতা, তাদের সহকর্মী এবং সমাজের সদস্যদের দ্বারা প্রভাবিত। কারণ তারা আমাদেরকে এমন একটি ক্ষেত্র বেছে নিতে উৎসাহ দেন যা আমাদের আরামদায়ক জীবন যাপন করার জন্য যথেষ্ট অর্থ উপার্জন করার সম্ভাবনা রাখে।
সমস্যাটা এখানে যে, মূলতঃ আমাদের দক্ষতার বিকাশ একটি ক্যারিয়ার কেন্দ্রিক পরিচালিত হয়। কারণ আমাদের আগ্রহ এবং স্বপ্ন অনুযায়ী আমরা শিক্ষার পথ বেছে নেই এবং তার বিপরীতে একটি ক্যারিয়ার কী হতে পারে তা নির্ধারণ করে নেই। ফলে আমাদের অনেককে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা আইনজীবী হতে উৎসাহিত করা হয় কারণ এসব মর্যাদাপূর্ণ চাকরিতে ভাল উপার্জন করা সম্ভব বলে মনে করা হয়। এমন প্রবনতা এবং চিন্তাধারা, আল্লাহ আমাদের যা বলেছেন সরাসরি তার বিরুদ্ধে যায়, কারণ আমরা আমাদের ভবিষ্যতের অনুমান করা ক্যারিয়ার দিয়ে রিজিকের নিয়ন্ত্রণ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি। এখানে আরো একটা মুশকিল হলো যে, সবচেয়ে বেশি অর্থোপার্জনের জন্য সঠিক ক্যারিয়ার বেছে নিতে গিয়ে আমাদের নিজস্ব পছন্দ এবং আগ্রহকেও জলাঞ্জলি দিয়ে ফেলি।
মনে রাখা দরকার যে, আমাদের প্রত্যেকের মধ্যে একটি বিশেষ সম্ভাবনা রয়েছে যা আল্লাহ আমাদেরকে দান করেছেন। আমাদের প্রধান কাজ হলো সেই আল্লাহ প্রদত্ত বিশেষ সম্ভাবনাটিকে খুঁজে বের করা। আল্লাহ আপনাকে ভালো হওয়ার জন্য যা দান করেছেন তা করুন। তারপর আল্লাহকে বিশ্বাস করুন যখন তিনি বলেন যে তিনি আপনার নির্ধারিত রিযিক দিবেন। এটি ঈমানের পরীক্ষা, এটি আল্লাহর প্রতিশ্রুতির প্রতি আপনার আস্থার প্রদর্শন।
যে কাজ করতে আমাদের ভালো লাগে, যে কাজটি আমরা বিনামূল্যে করতে চাই তার ক্ষেত্রেও একই কথা। সত্যিকারার্থে আমরা যা ভালোবাসি তা করার মাধ্যমে ভালোবাসা ছড়িয়ে দেয়া যায় সবার মাঝে। ভালবাসার জায়গা থেকে কাজ করা এবং জীবনযাপন করা আমাদের একে অপরের সাথে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে আল্লাহর সাথে সংযুক্ত করে দেয়। এই সংযোগটি শয়তান বন্ধ করতে চায় অর্থের ভয় দেখিয়ে । সে আমাদের ভয় দেখায় – আমরা যা পছন্দ করি তা করা অর্থোপার্জনের জন্য খুব ঝুঁকিপূর্ণ, খুব প্রতিযোগিতামূলক, এবং অন্যরা আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে যাবে। এভাবে শয়তান আমাদেরকে দুনিয়ার প্রতি আগ্রহ ও আল্লাহর প্রতি বিরক্ত করে। আপনি এই মুহূর্তে যে কাজই করছেন, যদি আপনি তা পছন্দ না করেন, তাহলে বিবেচনা করুন যে আপনি যা উপভোগ করেন আল্লাহ আপনাকে একই আয় দিতে পারেন- যদি আপনি তাঁর উপর ভরসা করেন।
আমাদের আয়, সম্পদ অর্জন এবং তা সঞ্চয় করার নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে নেই। ফলে জাগতিক ক্যারিয়ার আমাদের সফলতা এনে দেবে এমনটি ভাবা ভুল। এটি আমাদের অযথা চাপ, উদ্বেগ এবং ভয়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। এ প্রবনতার মাধ্যমে শয়তান আমাদেরকে আল্লাহ এবং তাঁর ভালবাসা থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার জন্য ব্যবস্থা করে।
শুধু মনে রাখতে হবে
আল্লাহ আমাদের রিযিক দেন।
আল্লাহ সবার জন্য রিজিক দেন।
আল্লাহতে আপনার জন্য রিজিক!
আমাদের যেটা কাজ সেটা হলো আল্লাহ প্রদত্ত নিজের ট্যালেন্টকে আবিষ্কার করা এবং সেটাকে যথার্থভাবে ব্যবহার করার প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন করা। ইসলামী বিধানের অনুশীলনে নিজেকে গড়ে তোলা এবং নিজে স্বর্ণালী ব্যক্তিত্বের অধিকারী হয়ে সকলকে মুগ্ধ করা।