
ঈষৎনীল কষ্ট
নাজির আহমাদ মিয়াজী
নগরীর নিয়ন আলোয় জেগে থাকা পথশিশুর একটা গাঢ় সবুজ কষ্ট আছে,
কষ্ট আছে পথঘাটে গোলাপ বিক্রী করা নিটোল বালিকার মলিন চোখেও।
সোনার চামচ মুখে দিয়ে বেড়ে উঠা আহ্লাদে বালকটির একটি আলগোছে অপ্রাপ্তির আফসোস আছে।
গলির সবচেয়ে সুদর্শন লোকটার খুব যত্নে চেপে রাখা একটা দীর্ঘশ্বাস আছে।
সদ্য বিবাহিত যুগলের আছে নীল অভিমানে দগ্ধ হবার আলো -আধারী কষ্ট কিংবা
পহেলা ফাগুনের ঝকঝকে প্রভাতে চারুকলার বকুলতলায় শব্দহীন বসে থাকা দুজনার চোখেও আছে জ্যোৎস্নার ফুল ছুয়ে না দেখার কষ্ট।
তাবৎ ইউরোপের সেনাপতি ভ্লাদিমির পুতিনেরও পার্সোনাল মিউজিয়ামে রাখা কষ্টের একটা
লাল আলখেল্লা আছে,
জাস্টিন ট্রুডোর মিষ্টি হাসির আড়ালে মুখথুবড়ে পড়ে আছে সাদাকালো কষ্টের একটি আহত পেঙ্গুইন,
তাছাড়া অবিশ্বাসের দেয়ালে আছড়ে পড়ছে আজ অভিশপ্ত আসাদ নূরদের অযাচিত কষ্টেরা।
পার্থিব বিলাসিতার চূড়ায় থাকা মানুষটির করোটিতেও অপ্রত্যাশিত কষ্টের একটি দহন আছে।
ধবধবে সাদা কষ্ট,লালনীল হলুদ কষ্ট,বেগুনী আর আকাশনীল কিংবা ধূসরনীল অথবা নিকষ অন্ধকার কষ্ট।
মমতাময়ী মায়ের দগদগে কষ্টের একটা ক্ষত আছে,
ছলছল কষ্টের একটা ছোট্ট নদী আছে, যা দিনরাত টলমল করে।
ফসলের মাঠে অকৃত্রিম হাসিমাখা কৃষকেরও গোলাভরা একটি কষ্ট আছে।
আশৈশব লালিত স্বপ্ন ছুয়ে দেখা হয়নি যার,
তার আছে জীবনঘনিষ্ঠ অনন্তনীল কষ্ট।
দূর প্রবাসে থাকা ছেলেটার আছে ঈষৎনীল কষ্ট।
পাড়া মাতিয়ে রাখা দূরন্ত আর বেখেয়ালী তরুনটা আজ খুব যত্নে আকাশ দেখে,নির্বাক চোখে ব্যলকনির বৃষ্টি দেখে,মাঝরাত্তিরে জ্যোস্নাভরা রাতে ধূসর মরুভূমিতে নিঃশব্দে হেটে চলে,
দুঃখিনী মায়ের হাতে মাখা লোকমাটি আজ খুব করে মনে পড়ছে বেহিসেবি লোকটার।
সাতদুপুরের গনগনে গরমে অগভীর ধলেশ্বরীতে দলছুট তরুণটির ঝাপিয়ে পড়ার উদ্দাম সময়গুলো বড্ডবেশি পীড়া দেয় আজ।
যাপিত জীবনের কার্নিশে হরেকরকম কষ্টেরা এসে ফানুস উড়ায়।
তবে আমার দেখা একজন মানুষের কোনো কষ্ট নেই,হলফ করে বলছি।
মহাসত্য প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে গিয়ে আর ফেরেনি যার সন্তান,সে বাবার চোখ ক্ষণে ক্ষণে ভিজে এলেও তার কোনো কষ্ট নেই।
হা,তার কোনো আফসোস কিংবা আক্ষেপ নেই।
যা আছে সেটা -এক চিলতে মিষ্টিরোদের অনির্বাণ আলোক।