1. admin@jhikutpatra.com : সম্পাদক : আশরাফ ইকবাল
  2. atiqnayanmcjdu@gmail.com : atique nayan : atique nayan
  3. sheikhrupu@gmail.com : শেখ রুপু : শেখ রুপু
  4. shahriar40-371@diu.edu.bd : Shahriar Tanvir Refat : Shahriar Tanvir Refat
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০১ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ফ্রেন্ডস এসোসিয়েশন অব মালখানগরের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত, সভাপতি সোহেল ও সম্পাদক বাহার পুনর্নির্বাচিত অচেনা সেই আলোর হাত ছটকু আহমেদের সাথে দৈনিক মুন্সিগঞ্জের বার্তার সৌজন্য সাক্ষাৎ ঝিকুট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: তরুণ সমাজকে মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে সামাজিক সংগঠনের ভূমিকা অনস্বীকার্য সাংবাদিক আশরাফ ইকবালের জন্মদিনে শিক্ষার্থীদের গাছের চারা দিলেন তরুছায়া লেখক, সাংবাদিক ও সংগঠক আশরাফ ইকবালের শুভ জন্মদিন এইচনূর ফাউন্ডেশনের সঙ্গে ঝিকুট ফাউন্ডেশনের সৌজন্য সাক্ষাৎ ঝিকুট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন বাহারের শুভেচ্ছা ঝিকুট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এ এন এম হুমায়ূন কবির সাগরের শুভেচ্ছা ঝিকুট ফাউন্ডেশনের নতুন উপদেষ্টা হলেন সৈয়দ হোসেন নয়ন

হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু ও শোকগাথা আগষ্ট।। আক্তার বিন আমির আহমদ

  • আপডেট সময় : সোমবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৩
  • ৩৮৬ বার পঠিত

হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু ও শোকগাথা আগষ্ট
আক্তার বিন আমির আহমদ

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চিরকালই কোটি বাঙালিদের হৃদয়ে জুড়ে থাকবেন। তিনি বাংলার, বাঙালির। তিনি সবার, সকল দলের, সকল মানুষের। তিনি একক কোন দলের নয়! তিনি নিপীড়িত বাঙালি জাতির জন্য এক বিরাট বট গাছ হয়ে দেব দূতের ন্যায় আবির্ভূত হয়েছেন। তাই তো তিনি বাঙালি জাতির জনক বা অভিবাবক।

আমরা কিছু অকৃতজ্ঞরা মানতেই চাই না, তিনি যে আমাদের অভিবাবক। এখানে আপনি জনক বা অভিবাবক বলতে শুধু জাতির পিতা বুঝলে দোষ তো আপনার? অন্য কারো নয়! জাতির পিতা তো ইবরাহীম ( আঃ) এটা পাগলে ও জানে। সুতরাং বঙ্গবন্ধু আমাদের বাঙালি জাতির জনক । যে ব্যক্তি পরাধীনতার শিকল ভেঙে মুক্তির স্বপ্ন দেখায় সে তো একজন মহা নায়ক-ই। আর মহানায়ক একটা দেশের পিতা বা অভিবাবক হলে দোষ কোথায়!তাই তো মহানায়ক আজীবন অম্লান হয়ে থাকবেন কোটি বাঙালিদের হৃদয়ে।

সৌদি আরবে ইবনে সৌদ কে সৌদির জনক বা অভিবাবক বলা হয়। পাকিস্তানে মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ কে পাকিস্তানের জনক বা অভিবাবক বলা হয়। ভারতে মহাত্মা গান্ধীকে ভারতের জনক বা অভিবাবক বলা হয়। ইরানে আল্লামা আয়াতুল্লাহ খোমেনীকে ইরানের জনক বা অভিবাবক বলা হয়। তুরস্কে কামাল পাশাকে তুরস্কের জনক বা অভিবাবক বলা হয়। এমিনভাবে আরো বিশ্বের মানচিত্রে সাধারণ মানুষের জন্য লড়ে যাওয়া জয়ী বীরকে জনক বা অভিবাবক বললে দোষ কোথায়?

আমরা বাঙালিরা ভারত ( বৃটিশ) থেকে আলাদা হয়ে নতুন রাষ্ট্র পাকিস্তান হলে ও আমরা যেনো আরেক বাঘের মুখে পড়লাম। পাকিস্তানিরা সব সময় বাঙালিদের উপর জুলুম করতো। বিশেষ করে চাকরি ক্ষেত্রে পাকিরা বাঙালির সাথে বিমাতাসুলভ আচরণ করতো। বাঙালিদের প্রতিনিধি হয়ে কেউ কোন কথা বলতে সাহস পেতো না!

দেশ ভাগের প্রথম পাঁচ বছরের মাথায় পাকিরা প্রথমেই ভাষার উপর বদ নজরে তাকায়! বাংলা ( পূর্ব পাকিস্তান) রাষ্ট্র ভাষা হবে উর্দূ। কিন্তু বাংলার জনগণ মানতে নারাজ। ৫২ ‘ র ২১ শে ফেব্রুয়ারি দুপুর বেলায় আমার ভাইয়ের রক্তে রঞ্জিত হলো রাজপথ। খইয়ের মতো ফুটে উঠলো বাংলা বর্ণমালা। আমার ভাইয়ের প্রতিটি রক্তের ফোটা- ই আমার বর্ণমালা।

আমরা বাঙালিরা নিজ দেশেই যেনো পরবাসী! এত জুলুম, অত্যাচারে ও মুখ বুজে সহ্য আর কতদিন! ৫২- ই আমাদের মুক্তির স্বপ্ন দেখায়।

পরবর্তী ৬২, ৬৬ ছয়দফা, ৬৯ গণআন্দোলন ৭০ এর নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু ৭০ নির্বাচনে আমরা বাঙালিরা নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর ও পাক শাসকগোষ্ঠীর নানান টালবাহানা, একটার পর একটা ইস্যু সামনে নিয়ে আসে। মোটকথা বাঙালিদের কিছুই ওরা সহ্য করতে পারবে না।

আর কত জুলুম সহ্য করবে বাঙালিরা! দেয়ালে একেবারেই পিঠ ঠেকে গেছে। ৭১’ র ৭ ই মার্চ বঙ্গবন্ধু মুক্তির ডাক দিলেন। সবাই রেসকোর্সের ময়দানে উপস্থিত হলেন। কানায় কানায় পূর্ণ হলো রেসকোর্সের ময়দান! ঠিক এমন সময় কবি আসলেন। তার স্ব রচিত কবিতা খানি পাঠ করলেন।

এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম
এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম…।

হঠাৎ একদিন ২৫ শে মার্চে রাতে ঘুমন্ত ও নিরস্ত্র বাঙালিদের উপর পাকিরা ঝাঁপিয়ে পড়লো। বঙ্গবন্ধু কে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে গেলো। দীর্ঘ নয় মাস তুমুল যুদ্ধ হলো! ত্রিশ লাখ শহীদ আর দুই লক্ষ মা- বোনদের সম্ভ্রমের বিনিময় বাঙ্গালিরা স্বাধীনতা পেলো। জয়োল্লাস হলো গ্রাম – বাংলার মেঠো পথ থেকে শহরের পিচ ঢালা পর্যন্ত। আজ বাঙালিরা মুক্ত আকাশের পাখির মতো মুক্তি! কিন্তু আমাদের নেতা!

অবশেষে ৭২ ‘র ১০ ই জানুয়ারি বীরের বেশে ফিরে আসলেন সদ্য ফোঁটা স্বাধীন দেশে। যুদ্ধ বিধ্বস্ত একটি দেশকে সোনার বাংলা করার জন্য তিনি প্রস্তুত। তিনি সবসময়ই সাধারণ মানুষের কথা ভাবতেন, মানুষের অধিকারের কথা বলতেন। সমাজের খেটে খাওয়া মানুষের কথা বলতেন। কল রেডির সাউন্ডে এখন ও রেকডিং আছে, তোমরা যারা উচ্চপদস্হ আছো কখন ও শ্রমিকের উপর জুলুম করবা না। তারা তোমাদের ভাই, তাদের পরিশ্রমের পয়সায় তোমাদের বেতন মাইনে চলে। তাদের সম্মান করে কথা বলো। কিন্তু আজ দুঃখের সাথে বলতে হয় বঙ্গবন্ধুর তিল তিল গড়া আদর্শ দলটি আজ আর তার মত করে নেই! গরীবের ত্রাণ চুরি, গরীবের নামে রিলিফ কার্ড কতিপয় নেতার নামে লিখে তাদের পেট ভরে! প্রতিটা স্তরে দূর্ণীতি! বঙ্গবন্ধুর সম্মানি পোশাক মুজিবকোট পরিধান করে শুদ্ধ হতে চায়! অথচ শুদ্ধ হতে লাগে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, সকল মানুষ এক সমান। আইন সবার জন্য এক, শ্রমিকদের সম্মান তাদের অধিকার পাই টু পাই করে বুঝিয়ে দেওয়া। আর এমন অসংখ্য ন্যায় নীতি বাক্য।

বঙ্গবন্ধু ছিলেন মানবতার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। ওপার বাংলায় অযত্নে, অবহেলায় পড়ে থাকা কাজী নজরুল ইসলামকে ৭২ ‘র মাঝামাঝি সময়ে এপার বাংলায়, বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। তিনি কবি কে বাসস্থান, সুচিকিৎসা সহ অবশেষে বাংলাদেশের জাতীয় কবি উপাধিতে ভূষিত করেন। ইহার চেয়ে উত্তম মানবতা আর কী হতে পারে। এই জন্য বঙ্গবন্ধু সকল কবিদের চোখের মণি!

শোকগাথা আগষ্ট! ভাবতে খুব কষ্ট হয়, আমরা নিজেরাই আবার আমাদের অভিবাবক কে নির্মম ভাবে হত্যা করে ফেলি!! কেন আমরা এত পাষাণ!
৭৫ ‘র ১৫ই বাঙালি জাতির জন্য এক কলঙ্ক অধ্যায়।
তাই শোকের দিনে মহা নায়কের জন্য দোয়া করবো। আর অন্যান্য বছরগুলোর মতো বর্জন করবো অপসাংস্কৃতি নাচ – গানের আয়োজন। কী অসভ্য আমরা! শোক দিবসে নাচ- গানের আয়োজন কীভাবে হয়?


লেখক: সদস্য, ঝিকুট ফাউন্ডেশন


 

Facebook Comments Box
এ জাতীয় আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫ ঝিকুটপত্র
Theme Customized By Shakil IT Park