
ড. পূরবী বসুর সাক্ষাৎকার
ড. পূরবী বসু বাংলাদেশের কথাসাহিত্যে এক ব্যতিক্রমধর্মী লেখক। তাঁর কথাসাহিত্যের জগৎ গড়ে উঠেছে পরিশীলিত মনন ও নিবিড় গবেষণালব্ধ উপাত্তের যূথবদ্ধতায়। তিনি সুপরিচিত তাঁর নিজস্ব সৃজনসম্ভার এবং লিখনকুশলতায়। পেশায় তিনি বৈজ্ঞানিক এবং প্রবাসী। সচেতন পাঠক, যিনি পূরবীর লেখার খোঁজ রাখেন এবং জীবনের ভূগোলকে নানাভাবে দেখতে পছন্দ করেন, তিনি পূরবী বসু যে নিবেদিত নারী- বাদী লেখক সেটি অনায়াসে উপলব্ধি করে থাকবেন। তিনি পরিশ্রমী, সরল সাফল্যে তাঁর অনীহা। বিপন্ন এই সময়ের তিনি প্রতিবাদী ও মনোগ্রাহী রূপকার। নারীদের চিন্তাচেতনা, প্রতিবাদ, নারীত্বের বেদনা ও মানসভুবন তাঁর রচনায় বিশ্বস্ততার সঙ্গে প্রতিফলিত হয়। আমাদের চেনা নারী তাঁর বর্ণনা ও রচনার প্রসাদগুণে দ্যুতিময় হয়ে উঠেছে। পুরুষশাসিত সমাজের নানা অসংগতির তিনি রূপকার। পরিবার ও সমাজে নানাভাবে লাঞ্ছিত ও নিগৃহীত হওয়া সত্ত্বেও নারীদের মানসযাত্রা যে কত অদম্য ও প্রত্যয়দীপ্ত তাঁর লেখায় তা বিধৃত হয়েছে। পূরবীর মতো এত যত্ন ও পরিশ্রম করে আর কেউ এই ভূবন নিয়ে এ- কর্মে ব্যাপৃত আছেন বলে আমার জানা নেই। তাঁর গল্প প্রবন্ধাবলি ও বিবিধ রচনা নারী-ভাবনা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির চেতনায় ঋদ্ধ। অধিকারহীন মানুষের কথকথা মূর্ত হয়ে ওঠে তাঁর লেখায়। তার লেখায় বাংলাদেশ গভীরতর ছায়া বিস্তার করে আছে। জীবনের গভীরতর বোধ তাঁর লেখায় বিস্তৃত । পূরবী বসু ১৯৬৪ সালে স্থানীয় এ.ভি.জে. এম. গার্লস হাই স্কুল থেকে এস এসসি পরীক্ষায় পাশ করে হরগঙ্গা কলেজ ভর্তি হন। পরের বছর ঢাকার বদরুন্নেসা কলেজে চলে যান এবং সেখান থেকেই এইচএসসি পাশ করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শেষ করেছেন ফার্মেসিতে অনার্সসহ স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষা। তারপর বিদেশ যাত্রা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেডিক্যাল কলেজ অব পেনসিলভ্যানিয়া ও ইউনিভার্সিটি অব মিসৌরি থেকে লাভ করেছেন যথাক্রমে প্রাণ- রসায়নে এম. এস. ও পুষ্টিবিজ্ঞানে পিএইচ- ডি। বিজ্ঞানচর্চা তার পেশা। নিউইয়র্কের মেমোরিয়াল স্লোন কেটারিং ক্যান্সার সেন্টারে গবেষণা ও কর্নেল ইউনিভার্সিটিতে অধ্যপনায় কেটেছে বেশ কিছুকাল। অজস্র গবেষণা- প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে সারা বিশ্বের নানা জার্নালে। দীর্ঘ বিদেশবাসের পর দেশে ফিরে আসেন এক খ্যাতনামা ঔষধ প্রস্তুত প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদে। দেশের সর্ববৃহৎ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক-এ স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালকও ছিলেন। সাহিত্যকর্মের জন্যে ২০০৫-এ তিনি অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। কথাসাহিত্যে ২০১৩ সালে বাংলা একাডেমী পুরস্কার লাভ করেন। বিজ্ঞানী, গল্পকার ও প্রাবন্ধিক পূরবী বসুর সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেন সাংবাদিক ও সংগঠক আশরাফ ইকবাল।
আশরাফ ইকবাল: লেখক জীবনের শুরু…
পূরবী বসু: ছোটবেলা থেকেই লিখি। প্রথম লেখা স্কুলের হাতে লেখা দেয়াল পত্রিকায়। গোয়েন্দা গল্প, ‘অতীন হত্যা রহস্য’। এছাড়া কচিকাঁচার আসর, খেলাঘর, সাত ভাই চম্পা, ইত্যাদি ছোটদের আসরে লিখতাম।
আশরাফ ইকবাল: জীবনে স্মরণীয় ঘটনা, আনন্দের ঘটনা…
পূরবী বসু: এস.এস.সি.’র ফলাফলের দিন। আশাতীতভাবে ঢাকা বোর্ডের কম্বাইন্ড মেরিট লিস্টে মেয়েদের মধ্যে প্রথম হই। ছেলেমেয়েদের মধ্যে চতুর্থ। বাবা এতো বেশি খুশি হলেন যে দুপুরে খেতে ডাকলে বাবা হেসে মাকে বললেন, ‘খাবো কী? মেয়ের রেজাল্টেইতো পেট ভরে গিয়েছে। বাবার পরিতৃপ্ত মুখমন্ডল দেখে, তাঁর কথা শুনে নিজেকে পৃথিবীর সবেচেয়ে সুখী মানুষ বলে মনে হয়েছিলো।
আরও পড়ুন ছড়াসম্রাট জগলুল হায়দারের সাক্ষাৎকার
আশরাফ ইকবাল: প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা…
পূরবী বসু: জীবনের দুই তৃতিয়াংশ কাটলো প্রবাসে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে। এত সময়ের অভিজ্ঞতা কি দু’চার কথায় শেষ করা যায়? তবে এটুকু বলতে পারি প্রবাস জীবনে সবসময়েই মনে হয়েছে বিদেশে আছি। আর প্রায় সব সময়ই দেশে ফিরে আসার প্রতীক্ষাতেই দিন কেটেছে। মানসিকভাবে কখনো দেশ থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন মনে হয়নি।
আরও পড়ুন আপনি কেনো ঝিকুট ফাউন্ডেশনের সদস্য হবেন
আশরাফ ইকবাল: সাহিত্য পাতায় প্রথম প্রকাশিত লেখা…
পূরবী বসু: কাগজে প্রথম প্রকাশিত লেখার কথা স্পষ্ট মনে নেই ।
আশরাফ ইকবাল: লেখার অনুপ্রেরণা কার কাছ থেকে বা কীভাবে পেলেন?
পূরবী বসু: সর্বপ্রথম আমার বাবা, মুন্সিগঞ্জের তৎকালীন খুব জনপ্রিয় ডাক্তার তরণী রঞ্জন বসুর কাছে। পরে স্বামী প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক জ্যোতিপ্রকাশ দত্তের কাছে। আর সাহিত্যপাতার সম্পাদকদের কাছে, বিশেষ করে সম্পাদক আবুল হাসনাতের কাছে।
আরও পড়ুন ঝিকুট ফাউন্ডেশন
আশরাফ ইকবাল: অবসরের সময় কাটে…
পূরবী বসু: বই পড়ে, লিখে, গান শুনে, ছায়াছবি দেখে আর বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে সরাসরি, অথবা টেলিফোনে।
আশরাফ ইকবাল: লেখালেখি ছাড়া অন্যান্য পছন্দ-অপছন্দ…
পূরবী বসু: অপছন্দ করি স্বার্থপরতা, সাম্প্রদায়িকতা, কুসংস্কার ও ভণিতা। পছন্দের আছে অনেক কিছুই।
আশরাফ ইকবাল: প্রিয় কিছু সাহিত্যিকদের কথা…
পূরবী বসু: যাঁদের কথা সবাই বলবেন তাঁদের কথা ছাড়াও কয়েকজন প্রিয় লেখক যেমন- সমরেশ বসু, মানিক বন্দোপাধ্যায়, জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত, হাসান আজিজুল হক, জেমস ম্যাককোর্ট, এডুইক ডান্টিকাট, ব্রিটি উরমিগর ।
আশরাফ ইকবাল: খুব কাছের সাহিত্যিক বন্ধু…
পূরবী বসু: প্রচুর সাহিত্যিক বন্ধু আছে, নাম বলা সম্ভব নয়।
আশরাফ ইকবাল: সামাজিক দায়িত্বে লেখকের দায়িত্ব…
পূরবী বসু: লিখতে হবে। লেখকের দায়িত্বশীলতা রচনার মাধ্যমে।
আশরাফ ইকবাল: লেখক হিসেবে সফলতার মাপকাঠি …
পূরবী বসু: পাঠক ও সমালোচক লেখাকে কীভাবে গ্রহণ করলেন, লেখা সময় উত্তীর্ণ কিনা। এগুলো মাপকাঠি হতে পারে।
আশরাফ ইকবাল: ব্যর্থতা…
পূরবী বসু: আরো ভালো ও উন্নতমানের লেখা লিখতে না পারা।
আশরাফ ইকবাল: আপনার না পাওয়া…
পূরবী বসু: না-পাওয়ার অনেক কিছু রয়েছে, যেমন আছে পাওয়ার অনেক কিছুই।
আশরাফ ইকবাল: সাহিত্যে স্বীকৃতি…
পূরবী বসু: অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার (২০০৫), কথাসাহিত্যে বাংলা একাডেমী পুরস্কার (২০১৩), অগ্রসর বিক্রমপুর থেকে জ্ঞানলোক পুরস্কার (২০১৭) এইতো। লিখে যাচ্ছি।
আরও পড়ুন ঝিকুট ফাউন্ডেশনের কর্মসূচি।
আশরাফ ইকবাল: আপনার প্রতি পাঠকের আকৃষ্টতার কারণ…
পূরবী বসু: বলতে পারি না। আদৌ আকৃষ্ট হয়েছেন, তার-ও কোন প্রমাণ নেই। বেশি আকৃষ্টের প্রসঙ্গ তাই ওঠে না। আমার কিছু কিছু বই যদিও ভালো বিক্রি হয়, সেটা বইটির জন্যে, তার অঙ্গসজ্জা, শিরোনাম না বিষয়, নাকি আমার জন্যে, না উভয়ের জন্যেই তা আমি জানিনা; পাঠক বলতে পারবেন। যাচাইয়ের মাপকাঠি আমি বুঝি না।
আরও পড়ুন একাকিত্ব
আশরাফ ইকবাল: প্রকাশিত বই এর সংখ্যা ও একুশে গ্রন্থমেলা-২০২৪ এ বই…
পূরবী বসু: ষাটটার মতো হবে। ২০২১ ফেব্রুয়ারীতে অন্যপ্রকাশ থেকে আমার বহু পরিশ্রমের বই “বাংলায় নারীবান্ধব পুরুষ” এবং ২০২২ সালে “আমার পাঠ প্রতিক্রিয়া” শিরোনামে আমার পঠিত এবং মনে দাগ কাটা কয়েকটি বই নিয়ে আলোচনা প্রকাশ করেছি। পুথিনিলয় এই বইয়ের প্রকাশক। এছাড়া আমি ও পপি চৌধুরেী (নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত “নারী” ম্যাগাজিনের সম্পাদক) যৌথ সম্পাদনায় ইংরেজিতে বের করেছি “The Golden Leaves” নামক একটি বিরল সংকলন। আমেরিকায় বসবাসরত ৩৬ জন অনাবাসী বাঙালি নারী লিখিত গল্পে ব্যক্তি নারীর সুখ, দুঃখ, হতাশা, পরিশ্রমের বিবিধমুখ নিজস্ব গল্প সংকলন। এই বছরটা মেডিকেল সমস্যা নিয়ে বড়ই বিপন্ন ও জর্জরিত। তাই এতোদিন পরে আমি আমার নির্বাচিত গল্পের সংকলন ও আমার আত্মকথায় মন দেবো।
আরও পড়ুন স্বপ্ন
আশরাফ ইকবাল: সম্প্রীতির জন্যে শব্দাবলি সম্বন্ধে…
পূরবী বসু: সাধারণ হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে জানাশোনা, বোঝা, সম্প্রীতি বাড়াবার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে বইটি রচিত। এটি একটি অভিনব ও মৌলিক গ্রন্থ বলে আমি মনে করি, যার পরিবর্ধন-পরিমার্জন এর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন সফলতা
আশরাফ ইকবাল: বিক্রমপুর নিয়ে আপনার ভাবনা ও দায়িত্বানুভূতি…
পূরবী বসু: অনেক ভাবি। আমার সাধ্যমতো কিছু করার কথা ভাবি, করার চেষ্টা করি।
আশরাফ ইকবাল: বিক্রমপুর কেন্দ্রিক পছন্দের লেখা এবং বিক্রমপুরের প্রিয় লেখক…
পূরবী বসু: এতো বিস্তৃত উত্তর এতো অল্প সময়ে!! পরে কখনো বলবো। তবে অনেক লেখা ও অনেক লেখক পছন্দের…
আশরাফ ইকবাল: বর্তমানে বিক্রমপুরের যারা লেখালেখিতে আছেন তাদের সম্পর্কে…
পূরবী বসু: সবার কথা তো জানি না। বিশেষ করে দেশের বাইরে থাকায়। তবে প্রথিতযশা লেখক, কবিদের লেখা পড়েছি-পড়ি। গর্ববোধ করি। এই প্রজন্মের ভেতর বিক্রমপুর নিয়ে নতুন উদ্দীপনা ও তাঁদের সাহিত্যানুরাগ আমায় মুগ্ধ করে।
আরও পড়ুন আমার বিক্রমপুর
আশরাফ ইকবাল: অতীতের ধারাবাহিকতা রক্ষায় বিক্রমপুরের সৃজনশীল ব্যক্তিত্ব ইদানীং আসছে না, কারণ…
পূরবী বসু: একেবারে আসছে না একথা বলা যায় কি?
আশরাফ ইকবাল: কখন থেকে বিক্রমপুরের সাহিত্য জগতে সাহিত্য চর্চায় ধস্ নামে?
পূরবী বসু: আমাদের সময়-ই বিক্রমপুরের অধপতন শুরু হয়েছে। এক সময় হয়ত বিক্রমপুরের ইতিহাস-ঐতিহ্য অনেকেই জানবে না। লেখক ফোরামকে হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা ও তুলে ধরার লক্ষে আন্তরিকতা সাথে কাজ করতে হবে।
আশরাফ ইকবাল: আপনার লেখা আপনার পছন্দের গ্রন্থ কোনটি ? কেন?
পূরবী বসু: নিজের বইতো নিজের কাছে সন্তানের মতো। চট করে একটি বই বেছে নেওয়া সহজ কাজ নয়। আমি মূলত ছোটগল্প লিখি। এছাড়া বিভিন্নরকম গদ্য রচনা করি। ছোটগল্প ও প্রবন্ধ। দু’জায়গাতেই আমার নিজস্ব ও মৌলিক কিছু বলার থাকে, তাই লিখি। প্রবন্ধ/নিবন্ধ রচনার সময় বিভিন্ন চিন্তা- চেতনা ও প্রচলিত জ্ঞানের সঙ্গে নিজের যৌক্তিক বিশ্লেষণ, মন্তব্য, বিশ্বাস, অনুভব ও দৃষ্টিভঙ্গি মিলিয়ে কোন বিষয়ে নিজের মতো করে, সহজ করে কিছু বলার চেষ্টা করি। গল্প লেখার সময়-ও আমি যা লিখতে চাই তা কীভাবে পরিবেশন করবো তা নিয়ে কম ভাবি না। আমার লেখা প্রিয় মৌলিক বইয়ের মধ্যে গদ্য রচনায় প্রাচ্যে পুরাতন নারী ও সভ্যতা নির্মাণে নারী এবং গল্পে প্রথম বই পূরবী বসুর গল্প ও পরের দিকের বই দিনরাত্রির ছায়াঘর ও সম্ভব অসম্ভবে পারাপার বিশেষ প্রিয়। তাই বলি অন্যগুলোর প্রতি দূর্বলতা কম নয় ।
আশরাফ ইকবাল: আপনার লেখায় কোন বিষয়টি বেশি প্রাধান্য দেন বা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেন?
পূরবী বসু: লেখার বিষয় বেছে নিয়ে সবসময় লিখতে বসি না। তবু লেখা শেষে আজ দেখি, দুটো বিষয় সবচেয়ে গুরুত্ব পায় আমার লেখায়: ১. নারীর অধিকারহীনতার কথা; তাঁদের প্রতি বৈষম্য, অনাচারের কথা। ২. হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতির কথা। এছাড়া প্রান্তিক জনগণের কথা, বিশেষত বিত্তহীন লোকের জীবনকথাও প্রচুর বলেছি। আত্মকথন, স্মৃতিচারণও করেছি কিছু।
আশরাফ ইকবাল: মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর লেখক ফোরাম সম্পর্কে কিছু…
পূরবী বসু: কেউ নাটক করবে, গান করবে, লেখালেখি করবে, গবেষণা করবে সেটি তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। কিন্তু বিক্রমপুরের ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনার জন্য সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে ভাল কিছু করা যায়। একটি লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে লেখক ফোরামকে। আন্তরিকতার সহিত কাজ করতে হবে। তিনি সব লেখকদের একটি প্লাটফর্মে কাজ করার জন্য পরামর্শ দেন। হোক সেটি মুন্সিগঞ্জ- বিক্রমপুর লেখক ফোরাম।
আশরাফ ইকবাল: একজীবন চর্চায় নিমগ্ন থেকে সাহিত্য সম্পর্কে আপনার উপলব্দি…
পূরবী বসু: সাহিত্য আমাকে জীবনের একঘেঁয়েমী থেকে মুক্তি দেয়। আমার নান্দনিক বোধ উজ্জীবিত করে। আমাকে চিন্তার খোঁড়াক যোগায়।
আশরাফ ইকবাল: ব্যক্তিগত প্রসঙ্গে সংসার…
পূরবী বসু: আমার স্বামী কথাসাহিত্যিক জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত। আমাদের এক কন্যা জয়ীষা। পরিবেশ সচেতনতা সম্পর্কিত একটি এন.জি.ও এর কর্মকর্তা। পুত্র দীপন একজন অ্যাটর্নী।
আশরাফ ইকবাল: তরুণ লেখকদের প্রতি…
পূরবী বসু: বলার আছে। অনেক পড়তে হবে দেশি ও বিদেশি সাহিত্য। আমি নিজেও যথেষ্ট পড়াশোনা করি। লেখার মান উন্নয়নে এক একটি লেখাকে ঘষে মেজে পরিশীলিত করার চেষ্টা করা দরকার, বার বার দরকার। কম্পিউটারে লিখতে শিখলে এটা সহজতর হয়। সমালোচনা সইবার ও গ্রহণ করার উদারতা থাকা দরকার। আর দরকার তাড়াহুড়া করে বই প্রকাশ করার প্রবণতা রোধ করা।