
ফোরাতের কান্না
নাজির আহমাদ মিয়াজী
ফোরাত প্রকৃতির আর দশটা নদীর মতো নয়,
সেতো স্বর্গ থেকে উৎসারিত নিরবে বয়ে চলা এক শাশ্বত প্রবাহ।
ইতিহাস গবেষক আমার এক প্রফেসর বলেছেন-
তাবৎ দুনিয়ার প্রথম সভ্যতা ফোরাতের সন্তান,
হা-আমি মেসোপটেমিয়ার কথাই বলছি।
সে যাই হোক।
মানবতার আলখেল্লায় মোড়ানো যুগের এজিদদের বাম চোখে রক্তের হোলি উৎসব,
আবডালে অট্টহাসে আজ উদ্যত সিমার,
মানব হত্যায় পৈশাচিক উল্লাসে ফেটে পড়ে আজও
বাগদাদের কসাই যামানার দুর্ধর্ষ হালাকু।
ইতিহাসের স্যেঁতস্যেঁতে পাতাগুলো আজ বড়ই
ধূলোমলিন।
তবুও ফিরে ফিরে আসে কারবালার রক্তাক্ত দৃশ্যপট।
আহ!!! ছোট্ট আজগর, বয়স কত হবে আর! একরাজ্য পিপাসা তার।
অথচ শাহাদাত অংগুলির ডগায় একরত্তি জলেই তৃষ্ণা মিটে যার!
নির্দয় সামন্তের করুণার দেয়াল টপকাতে পারেনি
অবুঝ শিশু,
ছোট্ট বুকটায় এফোঁড়ওফোঁড় হয়ে ঝাঁঝরা করে দিল তীর,
বাবার কোলেই শাহাদাতের পেয়ালা আস্বাদন।
কী আজীব নির্মমতা!!
গোলাপের পাপড়ি ঝরার মতোই
নিঃশব্দে ঘুমিয়ে পড়লেন আজগর।
হা-আমি আলী আজগরের কথাই বলছি।
চাঁদ দ্বিখন্ডিত হয় যার মোবারক তর্জনীর ইশারায় সেই প্রিয়তম আহমদ মোস্তফার দৌহিত্র সাইয়্যেদিনা হোসাইনের পুত্র।
শহীদশিশু আজগরের ঠোটে আজ মুচকি হাসি,
বেহেশতি সে হাসি অমলিন।
আচ্ছা,আমার ছোট্টভাই আজগর কি বুঝতে পেরেছিলেন যে,
রক্ত পিচ্ছিল কারবালার বিষাদসিন্ধু পেরুলেই দিগন্তজোড়া সবুজ মাঠ,যেখানে জ্যোৎস্নার আলো বিছিয়ে থাকে অম্লান হয়ে কিংবা
যার পাদদেশে প্রবাহিত হয় সুমিষ্ট ঝরনাধারা!!!
শুনেছি, প্রচুর কাঁদলে নাকি চোখের জল শুকিয়ে যায়,
তবে কি ফোরাতের তাই হলো?
আগের সেই নাব্যতা নেই,
মাগরিব গগনে টকটকে লাল সূর্যাস্ত দেখতে এখন আর কেউ ফোরাতের ধারে আসে কিনা,জানিনা।
তবে, ক্রমশ শুকিয়ে যাওয়া অযুত রাতের কান্না হয়ে আজো ফোরাত বয়ে চলেছে কালের সাক্ষী হয়ে।।