
তারুণ্য
নাজির আহমাদ মিয়াজী
তারুণ্য এটা নিছক একটা শব্দ মাত্র, তবে এর অন্তর্নিহিত বিপুল সম্ভাবনা কিংবা গতিময় প্রবাহ
তাকে স্থান দেয় সময়ের মিছিলের একেবারে সম্মুখভাগে।
তারুণ্য নিয়ে আপনি কী ভাবছেন?এক বেদুইন আমার কাছে জানতে চায়!
বললাম-তারুণ্য সেতো কোনো কারণ ছাড়াই হেসে উঠা কিংবা ঠুনকো অনুরাগে অভিমানে গরগর করা এক উর্মিমালা।
তারুণ্য, কালের কলসে আবদ্ধ কোনো আখ্যান নয়,
নয় ঘড়ির কাঁটায় আটকে থাকা সময়ের কোনো ফ্রেম,
এতো প্রত্যয়দীপ্ত একটা অনুভূতির নাম।
কখনো বেপরোয়া লাগামহীন দুর্বার ছুটেচলা
এক অশ্বারোহী,
কখনোবা প্রেয়সীর খোপায় তারার ফুল গেঁথে দেয়া এক নিপাট প্রেমময়ী।
তারুণ্য,সেতো অপরাজেয় এক শেরপা
বারংবার পিছলে যাবে তবুও আশাহত নয়।
তারুণ্য-এযে দিনবদলের তাবৎ বিপ্লবে সর্বাগ্রে এগিয়ে আসা এক যোদ্ধা অথবা রাত-দূপুরে পথচেয়ে থাকা মমতাময়ী মায়ের চোখের শীতলতা কিংবা অবিশ্রান্ত বাবার পরমযতনে আগলে রাখা এক স্বপ্ন।
তারুণ্য- এতো শুধু টিকটকের মোহনায় অবগাহন কিংবা দিনরাত ফেইসবুকে বুদ হয়ে থাকা অথবা ছলছল চোখে প্রিয়ের চির আকাংখিত একটি ক্ষুদেবার্তার অপেক্ষায় থাকার নাম নয়,
বরং কখনো সখোনো একচ্ছত্র প্রতিপালকের সামনে সেজদায় নত হয় পরম ভালোবাসায়।
তারুণ্য, এটা শুধু প্রিয়ের হাতধরে ঝুমবৃষ্টিতে ভেজা কিংবা হুডখোলা রিকশায় চেপে শহর নগর অলিগলি মেঠোপথ ঘুরে বেড়ানো নয়,
এরা তো মানবতার ফেরিওয়ালা- মানবতা বিলি করে বেড়ায় দিগ থেকে দিগন্তে,
জনপদের কল্যাণে বিরামহীন ছুটেচলা এক অকুন্ঠচিত্ত অভিযাত্রী তারুণ্য।