
মোহাম্মদ আলী হৃদয়
বর্তমানে সময়ে মুর্তমান এক আতংকের নাম হচ্ছে কিশোর গ্যাং। উঠতি বয়সী স্কুল পড়ুয়া এবং কলেজগামী কিশোরদের সমন্বয়ে প্রতিটা পাড়া মহল্লায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরিসরে গড়ে ওঠে এই গ্যাং বাহিনী।
প্রথমে ভারতীয় হিন্দি সিরিয়াল, একশন থ্রিলার মুভি এবং পাবজি, টিকটক, ফ্রী ফায়ারের মতো অনলাইন গেইম দেখে তাদের মনে কৌতুহল সৃষ্টি হয়।
কিশোর গ্যাং গড়ে ওঠার পিছনে যাদের প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে
হাত রয়েছে , তারা হলো উদীয়মান গ্রাম্য মোড়ল, কিছু নব্য রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের কারনে।
প্রথম শুরুটা হয় কোন ছোটখাটো মিছিল মিটিং কিংবা কোন ফেস্টিভ্যালে রাতের উৎসবের মাধ্যমে।
পরবর্তীতে মহল্লায় অথবা বাইরে ছোটখাটো অপরাধের মাধ্যমে, যেকোন অপরাধে মহল্লার বড় ভাই, রাজনৈতিক নেতা তাদের সাইড নিয়ে তা মিমাংসা করে দিয়ে আসে।
এরপর থেকেই ওই কিশোর মহল্লায় একটা "হনু" হয়ে যায়। কারন, তার বড় ভাই আছে না! কিছু হলেই বড় ভাই। শুরু হয় মহল্লায় বড়দের সাথে বেয়াদবি, নিরীহ মানুষের উপর জুলুম, অত্যাচার।
এরপর ওই বেয়াদব কিশোর কে এলাকায় আর কেউ কিছু বলতে পারেনা। এমন কি তারা পিতা-মাতা'র ও নাগালের বাইরে চলে যায়।
লাগামহীনভাবে অন্যায়, অবিচার চলতে থাকে বড় ভাইদের ছত্র-ছায়ায় থেকে। এরপর লেখাপড়া আর ভালো লাগেনা । বাইক নিয়ে ঘোরাঘুরি, মহল্লার মোড়ে মোড়ে আড্ডা, শুরু হয় স্কুল কলেজের মেয়েদের ইভটিজিং, সাথে সাথে দল ভাড়ী করার পক্রিয়া চলে তাদের।
তারপর এক মহল্লা থেকে অপর মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার। একটু ভিতরে চলে গেলে দেখা যায় মাদক সেবন এবং মাদক নিয়ে কারবারও থাকে ওদের। এরপর তাদের কাছে চলে আসে অস্ত্র। এতোদিনে তারা অনেক দূর এগিয়ে যায়। মহল্লায় ছোটখাটো বিষয় নিয়ে ঝগড়া হলেই চলে অস্ত্রের মহড়া। তাদের মতের বিরুদ্ধে গেলেই শুরু হয় সংঘর্ষ।
পরিশেষে... মৃত্যু
এই কিশোর গ্যাং গড়ে ওঠার মূলে রয়েছে অভিভাবকদের অসচেতনতা এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার। কিছু সুবিধাবাদী রাজনৈতিক নেতা তাদের খারাপ উদ্দেশ্য চরিতার্থের লক্ষ্যে এই কোমলমতি কিশোরদের বিপথগামী করে তুলেছে।
অভিভাবকদের সবসময় খেয়াল রাখা উচিত তাদের সন্তানরা কখন কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে। স্কুল থেকে বাসায় ফিরতে দেরি হলে জবাবদিহিতা করা এসময়টুকো সে কোথায় ছিলো, কার সাথে ছিলো।
তাদের সন্তান মোবাইল আসক্ত কিনা, সে কখন কোন সাইটে ভিজিট করছে, কাদের সাথে চ্যাটিং করছে এসব বিষয়ে নজরদারি রাখা। তাদের মাঝে ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগিয়ে তুলা এবং যার যার ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা।
মোহাম্মদ আলী হৃদয়
সাধারণ সম্পাদক
আলোর পথে মানবকল্যাণ সংগঠন
মোবাইলঃ ০১৯১২-৬২৮০৮০