
শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে সিরাজদিখানে সামাজিক সংগঠনের ভূমিকা :
বিশেষ প্রতিবেদন:
মানসম্মত শিক্ষা বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। গুণগত বা মানসম্মত শিক্ষাকে টেকসই উন্নয়নে শিক্ষার পূর্বশর্ত হিসাবে গণ্য করা হয়েছে। তবে শিক্ষার মান উন্নয়নে কতগুলো বিশেষ পূর্বশর্ত অপরিহার্য। শর্তগুলো হচ্ছে- পর্যাপ্ত শিক্ষক, প্রশিক্ষণ, ব্যবস্থাপনা, তত্ত্বাবধান, নেতৃত্ব, অর্থায়ন ইত্যাদি। শিক্ষার মান উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষা সংগঠনের বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। বিক্রমপুর তথা সিরাজদিখানের প্রেক্ষাপটে শিক্ষার মান উন্নয়নে সামাজিক সংগঠনগুলোর ভূমিকা এই অঞ্চলে মানসম্মত শিক্ষায় বিপ্লব ঘটাতে পারে। সেক্ষেত্রে সামাজিক সংগঠনগুলোর যেসব উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে সংগঠকদের ভাষায় সেগুলো নিম্নরূপ:
১) শিক্ষকদের দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে, প্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষা প্রশাসনের দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্পৃক্ত করা।
২) শিক্ষকতা পেশায় মেধাবীদের আকৃষ্ট করার উদ্যোগ গ্রহণ করা।
৩) প্রত্যন্ত এলাকায় প্রতিষ্ঠানগুলোতে টিফিন প্রোগ্রাম চালুর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে সহায়তা করা।
৪) পরীক্ষার হলে দুর্নীতি বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে কাজ করা।
৫) কোচিং বাণিজ্যের দাপট কমাতে এবং শ্রেণীকক্ষে যথাযথ পাঠদান নিশ্চিতে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা।
৬) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ সমুন্নত রাখার জন্য র্যাগিং, ইভটিজিংসহ অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা।
৭) উপজেলা ও স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা ও ভর্তি সহায়তা কেন্দ্র চালু করা।
৮) শিক্ষার পাশাপাশি কম্পিউটার ও সংস্কৃতিবিষয়ক প্রশিক্ষণ বা দক্ষতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা।
৯) বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ সরবরাহের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে ভুমিকা রাখা।
১০) শিক্ষা সাময়িকী, সৃজনশীল প্রতিযোগিতা, গ্রন্থাগার এবং ডিজিটাল ল্যাবের মত প্রায়োগিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমগুলোর ব্যবস্থা করা।
১১) নেতৃত্ব, যোগাযোগ দক্ষতা, মাধ্যমিকে বিষয় নির্বাচন ও ক্যারিয়ার প্ল্যানিং বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সম্যক ধারণা দিতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা।
১২) সমকালীন চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে প্রথাগত শিক্ষার পরম্পরাগত ঝোঁককে জীবনমুখী কারিগরি শিক্ষার ধারায় চালিত করার উদ্যোগ নেওয়া। কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনে এগিয়ে আসা।
১৩)"সবার জন্য শিক্ষা" প্রচারণা উপজেলাব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া যাতে সর্বস্তরের মানুষ তাদের ছেলেমেয়েদের শিক্ষিত করতে আগ্রহান্বিত হন।
১৪) শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের নিয়ে সাপ্তাহিক বা মাসিক সেমিনার কিংবা শিক্ষা বিষয়ক আলোচনা সভার আয়োজন করা।
১৫) শিক্ষার উন্নয়নে কর্মঠ, সৎ ও গুণী শিক্ষকদের সম্মানিত করার মাধ্যমে শিক্ষকমহলে ব্যপক অনুপ্রেরণার সৃষ্টি করা।
- শোভন সারোয়ার
সদস্য, ঝিকুট ফাউন্ডেশন।
সামাজিক সংগঠন গুলো শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে শিক্ষক, অভিভাবকদের পাশাপাশি অগ্রনী ভূমিকা পালন করে চলছে। সামাজিক সংগঠন গুলো সমাজের সর্ব ক্ষেত্রে অসমান্য অবদান রেখে যাচ্ছে।
সাধারণ অর্থে, জ্ঞান বা দক্ষতা অর্জনই হলো শিক্ষা। সহজ ভাষায় বললে আমাদের জ্ঞান লাভের প্রক্রিয়াকেই আমরা শিক্ষা বলে থাকি। শিক্ষার মাধ্যমে আমাদের সম্ভাবনাকে বাইরে বের করে নিয়ে আসতে পারি বা বিকশিত করতে পারে।
তাইতো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন, শিক্ষা হল তাই যা আমাদের তথ্য পরিবেশনই করে না, বিশ্ব সত্তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে জীবনকে গড়ে তোলে।
শিক্ষাই জাতির উন্নতির পূর্বশর্ত। শিক্ষা হলো পরশ পাথরের মত যার ছোঁয়ায় একটি জাতি পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। বর্তমান সময়ে সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। শিক্ষা ক্ষেত্রে উন্নয়ন ছাড়া কোন দেশ ও জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়। শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি করতে গেলে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। আর মানসম্মত শিক্ষা শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অভিভাবক বা শিক্ষকের একার পক্ষে সম্ভব না, তার জন্য প্রয়োজন সমন্বিত প্রয়াস। এই সমন্বিত প্রয়াসের জন্য কাজ করছে সামাজিক সংগঠনগুলো। সমাজ গঠিত হয় সকলকে নিয়েই, আর সমাজ পরিচালিত হয় মূলত যারা সমাজ ব্যবস্থা নিয়ে ভাবে বা কাজ করে। সমাজকে বিকশিত করতে বা সমাজকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে কাজ করছে সামাজিক সংগঠন। সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমেই গড়ে উঠে আধুনিক সমাজ তথা শিক্ষা ব্যবস্থা।
প্রাকৃতিক নিয়মে মানুষ জন্ম গ্রহণ করলেও মূলত শিক্ষার মাধ্যমেই নিজেকে আবিষ্কার করে। আর যারা নিজেকে তুলে ধরতে পারে না বা আবিস্কার করতে পারে না তারাই পিছিয়ে পড়ে। এই পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলোই জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বাঁধা সৃষ্টি করে। কাজেই বলা যায়, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সমানে অগ্রসর প্রতিটি স্তরে শিক্ষা নিশ্চিত করতে এবং মান উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সামাজিক সংগঠন গুলোর ভূমিকা অনস্বীকার্য হতে পারে।
১) মানসম্মত শিক্ষার মাধ্যমে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মানব সম্পদে রুপান্তরিত করা সম্ভব।
বিশ্ব সংস্থা ইউনেস্কো গুণগত শিক্ষাকে টেকসই উন্নয়নে শিক্ষার পূর্বশর্ত হিসেবে গন্য করেছেন "সবার জন্য শিক্ষা" নীতিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। আর এই নীতি বাস্তবায়ন করতে হলে সংগঠন গুলোর ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রতিটি সামাজিক সংগঠন প্রচার এবং প্রসারের মাধ্যমে সকলের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিতে পারে। কারণ সকল সংগঠনেই রয়েছে শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক যারা সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে কাজ করে চলছে অবিরাম।
২) সামাজিক সংগঠন গুলো, সামাজিক দায়বদ্ধতার পাশাপাশি কাজ করছে অবিরাম শিক্ষা ব্যবস্থার মান উন্নয়নে । কারন তারা বিশ্বাস করে শিক্ষাই একটি জাতিকে উপরে নিয়ে যাওয়ার পথ সুগম করে দিতে পারে।
৩) শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে প্রতিটি সামাজিক সংগঠনের ভূমিকা বা দায়িত্ব রয়েছে। বিবেক-জ্ঞান-বুদ্ধি ও মনুষ্যত্বের কারণেই মানুষকে বলা হয় থাকে শ্রেষ্ঠ জীব। আর এগুলোকে বিকশিত করার জন্য প্রয়োজন সকলের জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করা। আমাদের সমাজে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীরা রয়েছে যারা আর্থিকভাবে স্বচ্ছল না হওয়ার কারণপ শিক্ষা জীবন থেকে ছিটকে পড়ছে। এই ক্ষেত্রে সামাজিক সংগঠন গুলো পাশে এসে দাঁড়ায়। সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করতে সামাজিক সংগঠন গুলো দায়বদ্ধতা থেকে এগিয়ে আসলেও অনেক সময় দেখা যায় বিত্তবানরা পিছিয়ে থাকেন।
৪) বৈষম্যহীন সমন্বিত শিক্ষা - এই নীতিকে সমানে রেখে কাজ করছে সামাজিক সংগঠন গুলো। গুণগত শিক্ষা ও টেকসই শিক্ষা অর্জনে বৈষম্যহীন শিক্ষার উপর জোড় দিতে হবে। আর এই কাজে সামাজিক সংগঠনের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
৫) প্রশিক্ষণ কর্মসূচি - সংগঠন গুলো প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার মান উন্নয়নে যথেষ্ট ভূমিকা পালন করতে পারে। এই কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার মান উন্নয়নে এবং টেকসই উন্নয়ন ধরে রাখতে প্রশিক্ষণের বিকল্প কিছু নেই। প্রতিটি সংগঠন যদি এমন কিছুর উদ্যোগ হাতে নেয় তাহলে শিক্ষা ব্যবস্থা বহুদূরে এগিয়ে যাবে।
৬) শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষক ও অভিভাবকদের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন গুলোরও দায়িত্ব রয়েছে। আমাদের দেশে শিক্ষার্থীদের বিষয় নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে অভিভাবক বা শিক্ষকদের উপর। কোন শিক্ষার্থাী কোন বিষয়ে পড়তে চায় বা কি হতে চায় সেই বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। আমার মনে হয় এই বিষয় গুলোকে ফোকাস করে আলোচনা করার উদ্যোগ নিলে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে। যার মাধ্যমে মান উন্নয়নে আমরা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবো। এমন গুরু দায়িত্ব কেবল মাত্র সংগঠন গুলোই আয়োজন করতে পারে।
৭) শিক্ষা সামগ্রী বিতরণে সামাজিক সংগঠন গুলো এগিয়ে যাচ্ছে দিনের পর দিন। এতে করে শিক্ষার প্রতি সকলের আগ্রহ তৈরি হয় এবং এই উপকরণের সঙ্গে সঙ্গে টেকসই শিক্ষা উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে সামাজিক সংগঠন গুলো।
৮) অর্থায়ন - স্বল্প আয়ের মানুষের পাশে মানবতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে তাদের সন্তানদের পড়াশোনা খরচ বহন করে, তাদেরকে শিক্ষায় সম্পৃক্ত করে এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে অংশ গ্রহণ করতে পারে।
৯) উপস্থিতি নিশ্চিত করণ - শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সকল ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুলে আসার প্রবণতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অভিভাবকদের মতো সামাজিক সংগঠন গুলোও বিশেষ অবদান রাখতে পারে। আর এতে করে সকলের শিক্ষা নিশ্চিত হবে এবং টেকসই শিক্ষা অর্জনে সহায়ক হবে।
১০) শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনে সামাজিক সংগঠন ব্যাপক সহযোগিতা করে আসছে বিগত দিনগুলো থেকে। যেখানে স্বল্প আয়ের মানুষের বসবাস এবং প্রত্যন্ত অঞ্চল রয়েছে সেই জায়গা গুলোতে কিন্তু এগিয়ে আসে বিভিন্ন সংগঠন। আর প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের মাঝে মানসম্মত শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে কাজ করছে সামাজিক সংগঠন গুলো।
১১) লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করা - আমাদের দেশের মত উন্নয়নশীল একটি রাষ্ট্রে লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা পড়াশোনার দিক দিয়ে খানিক পিছিয়ে আছে। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সামনে নিয়ে আসার জন্য সরকারের পাশাপাশি কাজ করছে সামাজিক সংগঠন গুলো। তারা বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে অভিভাবকদের বুঝাচ্ছেন, যার ফলে শিক্ষা নিশ্চিত করার সঙ্গে সুফল বয়ে আনতে পারে শিক্ষার মান উন্নয়নে।
- সামাজিক সংগঠন গুলো শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে শিক্ষক, অভিভাবকদের পাশাপাশি অগ্রনী ভূমিকা পালন করে চলছে। সামাজিক সংগঠন গুলো সমাজের সর্ব ক্ষেত্রে অসমান্য অবদান রেখে যাচ্ছে।
– মাহমুদ হাসান 
সংগঠক ও এডভোকেট
জেলা ও দায়রা জাজ আদালত, ঢাকা।
আগের বিশেষ প্রতিবেদন পড়ুনসামাজিক সংগঠন নিয়ে সংগঠকদের ভাবনা
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার সামগ্রিক আলোচনায় এটা প্রতীয়মান, দেশের সমাজ কাঠামোর আমূল পরিবর্তনে সামাজিক সংগঠনের বিকল্প নেই। সুশিক্ষিত নবীন প্রজন্ম এবং আধুনিক সমাজ বিনির্মাণের স্বার্থে স্বাধীনতার পর থেকে রাষ্ট্রীয় যতগুলো উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তার অনেকগুলোই গ্রামবাংলার ক্ষেত্রে তেমন সফলতার ছাপ রাখতে পারেনি। ফলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোর তরুণসমাজ অবক্ষয়ের পথে ধাবিত হচ্ছে । এ অবস্থায় সচেতন ছাত্ররা গড়ে তুলেছে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, যার মূল লক্ষ্য বিপথগামী তরুণদের স্কুলমুখী করা, বাল্যবিয়ে রোধে সচেতনতা তৈরি করা, কম্পিউটার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, সামাজিক কুসংস্কার রুখতে সামাজিক সচেতনতা তৈরি করা, বৃক্ষরোপণ করা, উচ্চশিক্ষার প্রতি তরুণদের আগ্রহ বাড়ানো ইত্যাদি। গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র ছাত্রছাত্রীদের জন্য এসব স্বপ্রণোদিত সামাজিক কার্যক্রম প্রশংসনীয়। এসব সংগঠনের কর্মীরা ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে তাদের লালীত স্বপ্ন বাস্তবায়নের উৎসাহ দেয়ার পাশাপাশি দেশপ্রেমে জাগ্রত করে তোলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সুশিক্ষিত নতুন প্রজন্ম, দায়িত্বশীল সমাজ আর নিরক্ষরমুক্ত রাষ্ট্র গঠন করাই এসব সংগঠনের মুখ্য উদ্দেশ্যে।
সরকারের উচিত, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি ফান্ড গঠন করে সংগঠনগুলোকে সহযোগিতা করা। এতে তারা উৎসাহিত হবে এবং তাদের কাজের গতি বাড়বে। এভাবেই আমরা পেতে পারি একটি সুশিক্ষিত ও কর্মঠ র্জাতি।
শিক্ষা বিস্তারে ফ্রেন্ডস এসোসিয়েশন অব মালখানগর এর যুগোপযোগী কিছু পদক্ষেপ সমূহ নিম্নরূপ :
১) প্রভাতী মডেল কিন্ডারগার্টেন স্কুল প্রতিষ্ঠা : ২০২১ সালে বর্তমান প্রজন্মকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে শিক্ষা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির জনপদ মালখানগর এর প্রাণ কেন্দ্রে মালখানগর হাইস্কুল এবং মালখানগর ডিগ্রী কলেজ এর দক্ষিন পাশে গড়ে তোলা হয়েছে প্রভাতী মডেল কিন্ডারগার্টেন স্কুল। প্রতিষ্ঠার পর থেকে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা প্রদান, খেলাধুলা চর্চা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগ্রহণের পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সাবলীলভাবে অংশ গ্রহণের উপযোগী করে গড়ে তোলা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি সিরাজদিখান এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
২) মালখানগর হাইস্কুলে ছাত্র বৃত্তি প্রদান ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ: মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা বিস্তারের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে ফ্রেন্ডস এসোসিয়েশন অব মালখানগর এর উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা বৃত্তি ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হচ্ছে। এখানে উল্লেখ্য যে জাতীয় পর্যায়ে এথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় ২০২২ ও ২০২৩ সালে মালখানগর হাইস্কুলের ছাত্রী জাকিয়া সুলতানা জাতীয় পর্যায়ে এথলেটিক্স ও বর্ষা নিক্ষেপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় এইচএসসি পাশ করা পর্যন্ত প্রতি ৩ মাস অন্তর অন্তর সংগঠন এর প্রবাসী কমিটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক শুভ সাথীর সৌজন্যে তার পড়াশোনার ব্যয় নির্বাহের জন্য আর্থিক সহযোগীতা অব্যাহত রয়েছে। তাছাড়া আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের ছেলে মেয়েদের জন্য স্কুল ব্যাগ,স্কুল ক্যাডস ও পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হচ্ছে। প্রতিবছর সংগঠন এর আয়োজনে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জিপিএ ৫ (A+) পাওয়া শিক্ষার্থীদের মাঝে সম্মাননা ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়ে থাকে।
৩) মালখানগর ডিগ্রী কলেজ এর শিক্ষার্থীদের জন্য পদক্ষেপ: মালখানগর ডিগ্রী কলেজের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বিস্তারে ফ্রেন্ডস এসোসিয়েশন অব মালখানগর বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে। বিভিন্ন পদক্ষেপ গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো :
ক) জিপিএ ৫ প্রাপ্তদের মাঝে সম্মাননা ও নগদ অর্থ প্রদান।
খ) শিক্ষা বৃত্তি প্রদান।
গ) শিক্ষা উপকরণ বিতরণ।
ঘ) বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন ও পুরষ্কার বিতরণ।
উপরিউক্ত পদক্ষেপ সমূহ পর্যায়ক্রমে শুধু মালখানগর নয় পুরো সিরাজদিখান উপজেলাব্যাপী গ্রহণ করা র পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।
পরিশেষে বলা যায় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এর যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ততা গ্রামীণ জনপদের শিক্ষা বিস্তারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে যা ঝড়ে পড়া রোধসহ শহর ও গ্রামের মধ্যে শিক্ষার গুণগত মানের পার্থক্য নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে স্বক্ষম হবে।
- বাহাউদ্দীন বাহার 
সাধারণ সম্পাদক
ফ্রেন্ডস এসোসিয়েশন অব মালখানগর।
১) প্রতিটি স্কুলে শিক্ষার্থীদের নিয়ে মাদক বিরোধীসহ বিভিন্ন সচেতনতামুলক (মোটিভেশনাল) অনুষ্ঠান, সাথে খেলা-ধুলা এসব নিয়ে অনুষ্ঠান।
২) সিরাজদিখান শিক্ষার অবস্থা খারাপ এর জন্য বেশীর ভাগ দায়ি শিক্ষক আর অভিভাবক। শিক্ষকরা ছাত্রদের দিয়ে দোকান থেকে সিগারেট আনায়। আর বাবা মা জমি বিক্রি করে মোটারসাইকেল কিনে দেয়। এসব না করলে অনেকটা শিক্ষার মান বেড়ে যাবে।
- ইমতিয়াজ উদ্দিন বাবুল 
সাবেক সভাপতি
সিরাজদিখান প্রেসক্লাব।
প্রতিটি সংগঠন তৈরি হয় তরুণ এবং যুবকদের সমন্বয়ে, তাই ইচ্ছে করলেই যুবকরা পারে শিক্ষার মান বাড়াতে।
যেমন:-
১) বিদ্যালয়ে গিয়ে সপ্তাহে দুই এক দিন ক্লাশ নিতে পারে, তাদের শিক্ষা জীবনের অভিজ্ঞতা সুনাতে পাড়ে।
২) প্রতি দুই বা তিন মাস পর পর অভিবাবক ডেকে তাদের নিয়ে স্কুলে মিটিং করা যেতে পারে।
৩) প্রতি বছর ছাএ ছাএীদের রোল নাম্বার 1,2,3, তাদেরকে সম্মামনা দেয়া, সেইটা যে ভাবেই হউক।
৪) ছাত্র ছাত্রীদের খেলাধুলার ব্যবস্থা করা, তাহলে শারীরিক ও মানুষিক দিক ভালো থাকবে।
- ফাহাদ
প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক
নয়াগাঁও মানবকল্যাণ সংস্থা।
আধুনিক রাষ্ট্র গঠন এবং আদর্শ নাগরিক তৈরিতে মানসম্মত শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠনগুলো শিক্ষা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
১) শিক্ষার মান উন্নয়নে ছাত্র- ছাত্রী এবং অভিভাবকদের মাঝে সচেতনতা তৈরি করা।
২) শিক্ষাকে সহজ এবং আনন্দময় করে গড়ে তুলতে তাদের মধ্যে শিক্ষা বৃত্তি চালু করা এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা।
৩) বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উচ্চতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
৪) অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
৫) বিভিন্ন ক্রীড়া এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা।
- মোহাম্মদ আলী হৃদয় 
সাধারণ সম্পাদক,
আলোর পথে মানবকল্যাণ সংগঠন।
১) সেচ্ছাসেবীরা বিভিন্ন স্কুলে ক্যাম্পিং করে শিক্ষা বিষয়ক কর্মসূচি পালন করতে পারে।
২) তাদের পড়ালেখায় মনোযোগী হতে বিভিন্ন লিফলেট বিতরণ করা যেতে পারে।
৩) শিক্ষার্থীদের মেধার ভিত্তিতে পুরুষ্কৃত করবে। (একটি ছোট পরিক্ষার মাধ্যমে)
৪) শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরন বিতরন করা যেতে।
৫) বির্তক প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে তাদের মেধাকে ফুটিয়ে তোলা যেতে পারে।
- কে এম সবুজ আহমদ 
সাধারণ সম্পাদক
বিক্রমপুর রক্তদান সংস্থা।
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার সামগ্রিক আলোচনায় এটা প্রতীয়মান, দেশের সমাজ কাঠামোর আমূল পরিবর্তনে সামাজিক সংগঠনের বিকল্প নেই। সুশিক্ষিত নবীন প্রজন্ম এবং আধুনিক সমাজ বিনির্মাণের স্বার্থে স্বাধীনতার পর থেকে রাষ্ট্রীয় যতগুলো উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তার অনেকগুলোই গ্রামবাংলার ক্ষেত্রে তেমন সফলতার ছাপ রাখতে পারেনি। ফলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোর তরুণসমাজ অবক্ষয়ের পথে ধাবিত। এ অবস্থায় সচেতন ছাত্ররা গড়ে তুলেছে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, যার মূল লক্ষ্য বিপথগামী তরুণদের স্কুলমুখী, বাল্যবিয়ে রোধ, কম্পিউটার শিক্ষার ব্যবস্থা, সামাজিক কুসংস্কার রুখে বৃক্ষরোপণ করা, উচ্চশিক্ষার প্রতি তরুণদের আগ্রহ বাড়ানো ইত্যাদি। গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র ছাত্রছাত্রীদের জন্য এসব স্বপ্রণোদিত সামাজিক কার্যক্রম প্রশংসনীয়। ঝিকুট ফাউন্ডেশনের কর্মীরা ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে স্বপ্ন বাস্তবায়নের উৎসাহ দেয়ার পাশাপাশি দেশপ্রেম জাগ্রত করে তোলে। সুশিক্ষিত নতুন প্রজন্ম, দায়িত্বশীল সমাজ আর নিরক্ষরমুক্ত রাষ্ট্র গঠন করাই, সামাজিক সংগঠনের ভূমিকা অপরিসীম। শিক্ষার মান উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের সহায়তা করাই ঝিকুট ফাউন্ডেশনর মুখ্য উদ্দেশ্যে। ইতোমধ্যে সীমিত আকারে ঝিকুট শিক্ষা বৃত্তি, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ চলমান রয়েছে। ভবিষ্যতে এর পরিধি বাড়বে বলে আশা করা যাচ্ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ ও
সরকারের উচিত, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি ফান্ড গঠন করে সংগঠনগুলোকে সহযোগিতা করা। এতে তারা উৎসাহিত হবে এবং তাদের কাজের গতি বাড়বে। এভাবেই আমরা পেতে পারি একটি সুশিক্ষিত জাতি।
- মো. শরিফ দেওয়ান
সাবেক কোষাধ্যক্ষ, জাগরণী সংসদ।
১) বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা, গতানুগতিক ধারা বাদ দিয়ে সঠিক পরিকল্পনা করা এবং অভিভাবকদের অংশীদারত্ব বাড়িয়ে তাঁদের আরও সচেতন করে তোলা।
২) মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া।
- আশরাফ ইকবাল 
শিক্ষক, সাংবাদিক ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি
মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর লেখক ফোরাম।
সংকলনে : আশরাফ ইকবাল
সম্পাদক ও প্রকাশক
![]()