বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম- সকল প্রশংসা মহান আল্লাহর
প্রিয় সূধী,
আপনারা সবাই জানেন মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান বেশ ঐতিহ্যবাহী একটি অঞ্চল। সময়ে সময়ে এই উপজেলা পেয়েছে বহু সৃষ্টিশীল ও মানবদরদি ব্যক্তি, যারা নিজেদের কাজ দিয়ে হাসি ফুটিয়েছেন বহু মানুষের মুখে। পৃথিবী সৃষ্টির শুরু থেকেই একটি বিষয় আমাদের সামনে বারবার তুলে ধরা হয়েছে মহান রাব্বুল আলামিন কতৃক। আর তা হচ্ছে- মহান সৃষ্টিকর্তার ইবাদাত করা। এই প্রক্রিয়ায় আমাদের ইবাদাতের ধরন মোটাদাগে দু'টি ভাগে বিভক্ত। এক, আল্লাহর হক। দুই, বান্দার হক। সালাতসহ বিবিধ ইবাদাত সরাসরি আল্লাহর প্রতি নিবেদন হলেও মানুষের কল্যাণের জন্য বিভিন্ন কাজ করাটাও ইবাদাত হিসেবে গণ্য হয়ে থাকে। মানুষ হিসেবে মানুষের পাশে থাকলে আল্লাহ খুশি হন। বান্দার ওপর সন্তুষ্ট থাকেন। আর এই সন্তুষ্টির কথা চিন্তাভাবনা করেই সামর্থ্যবান সবার উচিত সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
ব্যক্তিগতভাবে আমিও এই কাজে নিয়োজিত। আল্লাহ আমার মতো ক্ষুদ্র মানুষকে অল্পবিস্তর সামর্থ্য দিয়েছেন মানুষের কল্যাণে কাজ করার জন্য। তবে আমি চেষ্টা করছি শুধু ব্যক্তিপর্যায়ে নয়, সামষ্টিক সব মানবদরদি মানুষকে একত্র করে কাজ করার জন্য। এরই ধারাবাহিকতায় তৈরি করেছি এইচ নূর ফাউন্ডেশন। এএমসিবি ফাউন্ডেশন আমেরিকা প্রবাসী জনাব আসাদ চৌধুরীর হাতে গড়াই এই প্রতিষ্ঠান। এই মানবিক প্রতিষ্ঠানের ও প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করছি দীর্ঘদিন যাবত। শিক্ষার প্রসার, দারিদ্র্য বিমোচন, কুরআনিক আদর্শকে সর্বত্র ছড়িয়ে দেবার লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে ফাউন্ডেশন দু'টি। আমাদের উদ্দেশ্য আদর্শবান, দরিদ্রতা ও শোষণমুক্ত মানবসমাজ গড়ে তোলা। এছাড়াও তরুণদেরকে মাদক ও বিপথগামী হওয়া থেকে দূরে সরিয়ে রাখা।
এই মুহূর্তে এইচ নূর ও এএমসিবি ফাউন্ডেশনের পরিচালনা পর্ষদের নেতৃত্বে আমি থাকলেও ফাউন্ডেশনের সাথে জড়িয়ে আছেন মানবদরদি বেশকিছু মানুষ। সকলের নিঃস্বার্থ প্রচেষ্টার ফলে সিরাজদিখান ইছাপুরা অঞ্চলের অগণিত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে সক্ষম হয়েছি আমরা। গত রমজান মাসে বিভিন্ন মাদ্রাসায় সাহায্য প্রেরণ ছাড়াও রমজান জুড়ে ইছাপুরা ইউনিয়নের সকল শ্রমজীবী মানুষদেরকে ইফতার করানোর কার্যক্রম হাতে নিয়েছিলাম আমরা, এইচ নূর ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে। শুধু ফাউন্ডেশনের আন্ডারে নয়, ইতোপূর্বে করোনাকালীন জটিল সময়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়ার কাজ, রোগীদেরকে আর্থিক সাহায্য করার মতো বহুবিধ সমাজকল্যাণমূলক কাজ করেছি। একক দায়িত্বে নয়, বরং নিজের টিমকে সাথে নিয়ে কাজ করেছি। বিস্তৃত পরিসরে কাজ নিশ্চিত করার জন্য আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। বিশেষ করে সকল সময়ে যারা আমার সাথে ছিলো, তাদের প্রতি ভালোবাসা সীমাহীন। যখনই ডেকেছি, সবাইকে সাথে পেয়েছি। এটা আমার জন্য সত্যিই আনন্দের। তাই মানবকল্যাণমূলক সকল কাজের ক্রেডিট টিমের সবার প্রাপ্য। সবাইকে অভিনন্দন জানাচ্ছি আমি, সকল আল্লাহর সৈনিককে।
দু'টি ফাউন্ডেশনের আন্ডারে আমাদের নিয়মিত চলতে থাকা মানবিক কাজের কার্যক্রমের সংখ্যাও বিস্তৃত। শুধুই মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমি কাজ করি। ভবিষ্যতে সিরাজদিখান ইছাপুরা অঞ্চলের সার্বিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে কাজ করে যাবো। এটাই আমার স্বপ্ন এবং মূল লক্ষ্য। সিরাজদিখানের মাটিতে আমার জন্ম। এই মাটির প্রতি আমার ভালোবাসা। মানুষের জন্য ভালোবাসা। মানুষকে দেওয়ার মতো অনেক কিছু আছে, করার আছে বহু কাজ।। নিজে তা করে যাবো আমৃত্যু। এমনকি সবাইকে আহ্বানও করছি একই কাজ করার জন্য।
এইচ নূর ও এএমসিবি ফাউন্ডেশন কেবল মানবকল্যাণেই নয়, পৃষ্ঠপোষক হিসেবেও কাজ করছে। বিবিধ উদ্যোগ, আয়োজন, সৃষ্টিশীল প্রতিযোগিতা সম্পন্ন করতে পৃষ্ঠপোষকতার করি আমরা। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন টুর্নামেন্ট, ইভেন্ট আয়োজন করা হয় ফাউন্ডেশন কতৃক। এছাড়াও তরুণদেরকে ঐক্যবদ্ধ করতে তৈরি করা হয়েছে সামাজিক সংগঠন। সংগঠনের নানা কর্মকান্ডে পৃষ্ঠপোষকতা করি আমরা। কখনো ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে, কখনো আবার ব্যক্তি উদ্যোগেই পৃষ্ঠপোষকতার চেষ্টা অব্যাহত রাখি আমি। আমাদের আরেকটি যুব সংগঠন হচ্ছে লালবাড়ী যুব সংঘ। মাদক প্রতিরোধ, উজ্জীবিত তরুণ সমাজ তৈরি, তরুণদের স্পৃহা তৈরিতে সংগঠনের পক্ষে সকল কাজ চলমান রয়েছে, নেয়া হচ্ছে বিবিধ উদ্যোগ।
এভাবেই এইচ নূর ফাউন্ডেশন ও এএমসিবি ফাউন্ডেশন কাজ করে যাচ্ছে সিরাজদিখান ইছাপুরা অঞ্চলের অগ্রগতি নিশ্চিত করার জন্য। একক ক্ষেত্রে নয়, বরং সার্বিক সবদিকে নজর দিয়ে কাজ করছি আমরা। কাজ করে যাচ্ছে অন্তরালে থাকা মানুষজন। ভবিষ্যতকেও আরো সুন্দর করার জন্য আমরা আশাবাদী। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন। আমরা নিজেদের কার্যক্রমের উত্তরোত্তর উন্নতির চেষ্টা করছি, আরো বিস্তৃত পরিসরে কাজ করাই আমাদের স্বপ্ন। নিশ্চিত করেই বলতে পারি, এইচ নূর ফাউন্ডেশন এবং এএমসিবি ফাউন্ডেশনের হাত ধরে সময়ের পরিক্রমায় এগিয়ে যাবে সিরাজদিখান, এগিয়ে যাবে ইছাপুরা, গড়ে উঠবে সুষ্ঠু এক সমাজব্যবস্থা। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে আদর্শিক সমাজ বিনির্মাণে বদ্ধপরিকর আমি। যতদিন দেহে প্রাণ থাকবে, ততদিন কাজ করে যাবো সবার জন্য, ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক সামর্থ্য ব্যবহার করার মাধ্যমে, ইনশাআল্লাহ।
সবাই ভালো থাকুন। মানুষের পাশে দাঁড়ান। হাত বাড়িয়ে দিন আরেকজন মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য। নিশ্চয়ই মানবকল্যাণেই রয়েছে মুক্তি।
শুভকামনা সবার জন্য। আল্লাহ সহায় হোক!
এ এন এম হুমায়ূন কবির সাগর
সভাপতি
এইচ নূর ফাউন্ডেশন ও এএমসিবি ফাউন্ডেশনধ