1. admin@jhikutpatra.com : সম্পাদক : আশরাফ ইকবাল
  2. atiqnayanmcjdu@gmail.com : atique nayan : atique nayan
  3. sheikhrupu@gmail.com : শেখ রুপু : শেখ রুপু
  4. shahriar40-371@diu.edu.bd : Shahriar Tanvir Refat : Shahriar Tanvir Refat
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ফ্রেন্ডস এসোসিয়েশন অব মালখানগরের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত, সভাপতি সোহেল ও সম্পাদক বাহার পুনর্নির্বাচিত অচেনা সেই আলোর হাত ছটকু আহমেদের সাথে দৈনিক মুন্সিগঞ্জের বার্তার সৌজন্য সাক্ষাৎ ঝিকুট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: তরুণ সমাজকে মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে সামাজিক সংগঠনের ভূমিকা অনস্বীকার্য সাংবাদিক আশরাফ ইকবালের জন্মদিনে শিক্ষার্থীদের গাছের চারা দিলেন তরুছায়া লেখক, সাংবাদিক ও সংগঠক আশরাফ ইকবালের শুভ জন্মদিন এইচনূর ফাউন্ডেশনের সঙ্গে ঝিকুট ফাউন্ডেশনের সৌজন্য সাক্ষাৎ ঝিকুট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন বাহারের শুভেচ্ছা ঝিকুট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এ এন এম হুমায়ূন কবির সাগরের শুভেচ্ছা ঝিকুট ফাউন্ডেশনের নতুন উপদেষ্টা হলেন সৈয়দ হোসেন নয়ন

সমাজ, সামাজিক সংগঠন ও তরুণ প্রজন্ম

  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ১ জুন, ২০২৩
  • ১৪৯ বার পঠিত

আকিব হোসাইন:

বর্তমানে আমাদের দেশের মোট জনসংখ্যার সিংহভাগই হচ্ছে তরুণ প্রজন্ম। আর এ তরুণ প্রজন্মই প্রতিটি দেশ, জাতি ও রাষ্ট্রের মূল হাতিয়ার। যে দেশের তরুণ প্রজন্ম যত দক্ষ, সে দেশ তত উন্নত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণরা দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তরুণদের হাত ধরে বিশ্বের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রের ব্যাপক বিকাশ ঘটেছে। বিশেষ করে বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির যুগে তরুণরা ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। আগামীর সম্ভাবনা ও দেশের কাক্সিক্ষত উন্নয়নে তরুণরাই যেন আশার প্রদীপ। সৃজনশীলতা চর্চার মাধ্যমে তরুণরা দক্ষ ও সুনাগরিকে পরিণত হচ্ছে।

সামাজিক উন্নতির লক্ষ্যে তরুণরা বেশ ভূমিকা রাখছে। বিভিন্ন ধরনের সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। তরুণ প্রজš§ ও সমাজ একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত। সমাজকে কেন্দ্র করে বর্তমানে বিভিন্ন সংগঠনের জন্ম হচ্ছে। প্রতিটি সামাজিক সংগঠন দেশের তরুণ প্রজন্মের রজন্য আশীর্বাদস্বরূপ। কেননা এসব সংগঠনে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে একজন নাগরিকের মাঝে দায়িত্বশীলতা ও সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সঙ্গে এসব সংগঠন দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য সহশিক্ষা হিসেবে কাজ করছে। দেশের বিভিন্ন সংকটে সামাজিক সংগঠন ব্যাপক তাৎপর্য ভূমিকা রাখছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, বর্তমানে সমাজে রয়েছে অসংখ্য নামে-বেনামে সামাজিক সংগঠন। প্রতিটি সংগঠনের থাকে বেশকিছু নীতিমালা কিংবা লক্ষ্য-উদ্দেশ্য। এসব শর্ত যতটা পূরণ করা হচ্ছে, তার বেশিরভাগই যেন কল্পনার সাগরে। বিশেষ করে বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় এসব ব্যাপকভাবে প্রচারিত হচ্ছে। অমুক-তমুক সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, কিংবা সদস্য দায়িত্ব পাওয়ার পর সবাই তাদের একাধারে ‘অভিনন্দন ও শুভকামনা’ এমন মন্তব্যের সাগরে ভাসিয়ে দেন। পরে দেখা যায়, অধিকাংশই সংগঠনের প্রতি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। নৈতিকতা, মানবিকতা ও সেবার দোহাই দিয়ে পরে যেন তা অলীক কল্পনায় পরিণত হয়। এভাবেই সমাজে বিভিন্ন সংগঠনের প্রচার অব্যাহত রয়েছে। শুধু তাই নয়, সামাজিক সংগঠন এখন রাজনৈতিক সংগঠনে আবর্তিত হচ্ছে। নামে সামাজিক সংগঠন হলেও প্রকৃতপক্ষে রাজনৈতিক পরিচয়ের ব্যক্তিরা এসব সংগঠনে যুক্ত হচ্ছেন। রাজনৈতিক পরিচয়ে পদ-পদবি দেয়া হচ্ছে। ফলে সামাজিক উন্নয়নে এক ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। সমাজসেবাকে উপেক্ষা করে আত্মসেবাকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। সামাজিক সংগঠনগুলোর সিংহভাগই হচ্ছে কাগজে-কলমে। কোনোভাবেই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জিত হচ্ছে না। ফলে এসব সংগঠনের প্রভাব-প্রতিপত্তি নিয়ে বিভিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা হয়ে থাকে, যা কখনোই কাম্য নয়। এসব বিষয় সামাজিক উন্নয়নে বাধা হিসেবে কাজ করে।

সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণ সবাই কামনা করে; কিন্তু প্রকৃত কল্যাণ তখনই সম্ভব, যখন সেখানে সেবাই হবে মুখ্য উদ্দেশ্য। সমাজের উন্নতির জন্য শ্রম, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে হবে। সামাজিক সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে প্রতিটি সংগঠককে ব্যাপক ভূমিকা পালন করতে হবে। সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে। দায়িত্বশীল ও দক্ষ নাগরিক হতে হবে। সমাজে আজও সেই বাল্যবিয়ে, যৌতুক প্রথা, নারী নির্যাতন, শিশু নির্যাতন, কিশোর অপরাধ, বিচারহীনতার সংস্কৃতি, বৈষম্য এবং অশিক্ষিত লোকদের প্রাধান্য যেন বেড়েই চলছে। এসব সংকট কাটিয়ে উঠতে হবে। তরুণদের হাত ধরে সামাজিক উন্নয়ন সম্ভব। সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন অসংগতি দূর করার পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য উদ্যমী ও পরিশ্রমী হতে হবে। যেমন সমাজে সব ধরনের বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে সেখানে সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কিশোর অপরাধ বন্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা ও পথশিশুদের পাশে দাঁড়াতে হবে।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে সমাজকল্যাণে এগিয়ে আসতে হবে। স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি গ্রহণ এবং সমাজে অন্যায়ের প্রতিবাদসরূপ মানববন্ধন, আন্দোলন, সভা-সেমিনারের আয়োজন করা, সমাজে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রচার ও প্রসারে ভূমিকা রাখা, পাঠাগার স্থাপন, তরুণদের কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করার উদ্যোগ নেয়া, দেশে উচ্চ পর্যায়ের শিক্ষার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং সমাজের গরিব ও অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন। অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাসামগ্রী প্রদান করতে হবে, যেমন একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষা উপকরণ থেকে শুরু করে টিউশনি ফি বহন করা এবং সম্ভাবনাময় তরুণদের জন্য এগিয়ে আসা জরুরি। এসব কর্মোদ্যোগের মাধ্যমে একটি সুন্দর ও উন্নত সমাজ বিনির্মাণ করা সম্ভব।

সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে প্রকৃত উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য তরুণদের দায়িত্ববান, সৎ, সুদক্ষ, চৌকস, পরিশ্রমী, কিংবা আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। সমাজকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম চলমান রাখতে হবে। তবে এটা সত্য, এখন সমাজের উন্নতির সিংহভাগই তরুণ প্রজন্মের হাত ধরে চলমান। তরুণদের দায়িত্বশীল সদস্যরা কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সমাজকল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে, যেজন্য বিভিন্ন আঙ্গিকে সামাজিক উন্নয়ন সম্ভব হচ্ছে। বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে সমাজে বিদ্যমান অসংগতি দূর করা সম্ভব হচ্ছে। বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে অন্যায়-অবিচার দূর হচ্ছে। সমাজ ও রাষ্ট্রকে ঘিরে আবর্তিত এসব সংগঠন না থাকলে হয়তো সমাজ কখনও প্রদীপের আলোয় চকচক করত না।

এসব সামাজিক সংগঠন দেশের তরুণ প্রজন্মের সুদক্ষ নেতৃত্বে এগিয়ে যাক। সমাজের জরাজীর্ণ অংশকে উপড়ে ফেলে নতুনত্ব সৃষ্টি করতে হবে। তারুণ্যের শক্তিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসুক প্রতিটি দেশে। সামাজিক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকুক যুগ যুগ ধরে। দেশের উন্নতির লক্ষ্যে প্রতিটি সামাজিক সংগঠন ব্যাপক অবদান রাখুক। তারুণ্যের কর্মে, ধর্মে, ভাবনায় ও চিন্তা-চেতনায় আলোকিত হোক প্রতিটি সমাজ ও রাষ্ট্র। পরিমার্জিত ও চৌকস নেতৃত্বের মাধ্যমে একটি সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠা হোক। আগামীর সমাজ হোক তরুণ প্রজন্মের হাতে গড়া। তরুণ প্রজন্মের মাধ্যমে এগিয়ে যাক দেশ, সমাজ ও রাষ্ট্র।

শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ ঢাকা কলেজ

সৌজন্যে : শেয়ার বিজ

Facebook Comments Box
এ জাতীয় আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫ ঝিকুটপত্র
Theme Customized By Shakil IT Park