
বিক্রমপুরের তরুণ প্রজন্মের প্রতি
মুহিব বিন ইসহাক:
করুণাময়, অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ তায়ালার সৃজন- মহাবিশ্বের অতি ক্ষুদ্রতম উপাদান হল- আমাদের বেঁচে থাকার অবলম্বন দিবাকর। পৃথিবী সেই সূর্যের একটি গ্রহ মাত্র। এখানেই কেবল মানুষের অস্তিত্ব তথা বসবাস রয়েছে। তাই একে বলা হয়- আদর্শ গ্রহ। আর এই পৃথিবীতে বাস করছে- ছোট- বড়, সাদা-কাল, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অসংখ্য জাতি।
কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও একথা সত্য যে, বাঙালি জাতির ইতিহাস তাদের সবার চেয়ে একটু হলেও ভিন্নতর।
আমরা বাঙালি। আমরা পৃথিবীর শত শত জাতি ও দেশকে বারবার বুঝিয়ে দিয়েছি যে, বাঙালি কারো কাছে হার মানে না, কারো পায়ে পড়ে না অথবা আত্মসমর্পণ করে না। আমাদের আছে গৌরব, আমদের আছে বলার মত ইতিহাস। আমাদের আছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট ও ভাষা। আমরা ছিলাম পরাধীন। আমাদের ছিল না মুখ ফুটে মায়ের ভাষায় বাক্য বিনিময়ের এততুকু মানবিক অধিকার। কিন্তু কালের পালাবদলে আমরা হয়েছি মান্য, পেয়েছি সম্মান। আমরা এসেছি বহুদূর, কুড়িয়েছি সুনাম।
এই বাংলা ও বাঙালি জাতির সোনালি-রুপালি খ্যাত, প্রকৃতির এক বিরাট অসামান্য দান, পুণ্য ভূমি বিক্রমপুর। এখানকার মাটি নির্মল-পবিত্র। এই পবিত্র মাটির কোল ছুঁয়ে, গ্রাম্য মায়ের উদরে- যারা জন্য নিয়েছে এবং আগামী দিনে যারা পৃথিবীর আলোয় দৃষ্টি মিলাবে, তাদের সবার প্রতি জানাই- বিশাল মহাজগতকে সাক্ষী রেখে- শান্ত, সুশীতল, মনোমুগ্ধকর শোভিত ফুলের মতো অকৃত্রিম, স্নিগ্ধ চন্দ্রের জোছনার মতো পবিত্র, পদ্মার জলস্রোতধারায় সিক্ত, গভীর ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা।
হে অভিযাত্রী, বিক্রমপুর তথা বাংলার বীর সন্তানেরা! তোমরা জেনে নাও, তোমাদের ইতিহাস শুধু পার্থিব বা আর্থিক নয়। জাগতিক ছাড়াও আত্মিক তথা মনোজগতের সাথে এখানকার পূর্ব পুরুষ বা মনীষীদের ছিল উত্তরোত্তর যোগসাজোস ও মিলবন্ধন। আমরা জগদীশচন্দ্রের কথা এক্ষেত্রে সগর্বে সুউচ্চে তুলে ধরতে পারি। একবিংশ শতাব্দির এই আধুনিকায়নের যুগে বিশ্ববাসী যখন শিক্ষা, জ্ঞান, সভ্যতা ও উন্নয়নের প্রতিযোগিতায় মগ্ন, তখন কিশোর কবি সুকান্তের মতো আমিও তোমাদের পদাঘাতে পাথর ভেঙে, সম্মুখে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই:-
"ভেবনা ভেবনা বন্ধু পুরানো সে কথা,
জেগে ওঠো ঊর্ধ্ব পানে ছাড় এ জড়তা।
সততা মমতা দিয়ে ধরণী সাজাও,
তোমার ছোঁয়ায় জীর্ণবনে অমর ফুল ফোটাও।"
হে তরুণ পথিকেরা, তোমাদের মেধা, শ্রম ও কৃতিত্ব নিয়ে জগতের পথ-প্রান্তর, দেশের উজ্জ্বল আগামী সাজাতে আমরা 'মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর লেখক ফোরাম' ও 'ঝিকুট ফাউন্ডেশন' এর পথে নেমেছি। আমরা আশা করছি এমন এক ভোরের- যা শুধু স্বপ্নে নয় বাস্তবেও সম্ভব। আমরা প্রহর গুণছি এমন এক দিনের- যার সফলতা শুধু বিক্রমপুর বা বাংলাদেশ নয়, সারা পৃথিবীই উপভোগ করবে।
আমরা বিক্রমপুরের অধিবাসী। আমাদের জ্ঞান দৃঢ়। আমাদের পূর্ব পুরুষরা ছিলেন জাতি তথা বিশ্বের পথপ্রদর্শক। আমরা সেই গৌরবোজ্জ্বল ভবিষ্যৎ পুনঃ পুনঃ দেখতে চাই, আমাদের তরুণ প্রজন্মকে আরেকবার নতুন ভোরের, নতুন দিনের নতুন দিগন্তের শক্তি- সাহস জাগিয়ে ও স্বপ্ন দেখিয়ে ইতি টানছি আজকের ক্ষুদ্র নিবন্ধের।
তোমরা হও- জগদীশচন্দ্র বসু, ড. হুমায়ূন আজাদ, অতীশ দীপংকর, বুদ্ধদেব বসু ও মানিক বন্দোপাধ্যায়সহ অসংখ্য কীর্তিমানদের মত ভাবুক, সৃষ্টিশীল ও মুক্ত চিন্তায় আলোড়ন সৃষ্টিকারী এক নবীন, স্বচ্ছ ও প্রকৃত নমুনা।
আমাদের তরুণদের এই প্রার্থীত বিষয়ের অভাব পূরণের মত মন এবং যোগ্যতা যেন প্রভু নিরঞ্জন দান করেন। সেই কামনায়-
লেখক: মুহিব বিন ইসহাক
কবি ও কথাসাহিত্যিক
বি.এস.এস. (অনার্স), এম.এস.এস.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।