চৈত্র সংক্রান্তির বারুনি
মাহবুবা ফারুক
মেলা থেকে শীতল পাটি কিনবো বলে ঘুরি। প্রখর রোদের কী ঝলমলে হাসি ! রঙ - বেরঙের
জামা কাপড় পরা মানুষের ভীড় । দূরে তাকাই । পাতার বাঁশি খুঁজি ।
প্লাষ্টিকের বাঁশি কিনি। চুড়ি , মালা কিনি । দেব বলে সেই মফস্বলের বালিকাটিকে ডাকি। সে শোনেনা।
অথবা শোনে । আসেনা । সরে যায় । পালিয়ে যায় । শুধু দূরে হারিয়ে যায় । চিৎকার করে ডাকি। বার বার
ডাকি। আমার কী যে ইচ্ছে করে ওকে হাত ভরে নানারকম জিনিস কিনে দিতে !
বালিকা অপেক্ষা করে বারুনির দিনের জন্যে । কত কী কিনবে - মনে মনে ভাবে । এসব আমি জানি ।
তাই ডাকি । কিন্তু সে দূরে চলে যায় । বলি - তোমার যা ইচ্ছে আজ কিনে দেব । দেখি তার হাতে পাঁচ টাকা ।
মেলায় ঘুরে ঘুরে কিনছে ফিতা - ক্লিপ - চিনির খেলনা - মাটির পালকি - পুতুল । এক ফালি লাল তরমুজ -
তোকমা শরবত । ভট ভট শব্দের দড়ি টানা গাড়ি । কলা বাঁশি । মায়ের জন্যে হাত পাখা । একটা পেট কাটা
তেলেঙ্গা ঘুড্ডিও । যেন সাত রাজার ধন আজ তার হাতে ! একবার নাগরদোলায় চড়ে । টিনের বাক্সে বায়স্কোপ দেখে । ছায়া মায়া চুড়ি কিনতে গিয়ে দেখে টাকা শেষ । খুব মন খারাপ হয় । মনে হয় অন্য জিনিস ফেরত দিয়ে আসে । আবার কবে বারুনি হবে ! ততদিনে জমবে টাকা । কিন্তু সিরাজের মায়ের ডালার এই ছায়া মায়া চুড়ি থাকবেতো ? এক টাকা জোড়া । ইচ্ছে করে সিরাজের মাকে গিয়ে বলে - এক জোড়া চুড়ি যেন তার জন্যে রেখে দেয় । সামনের মেলায় সে কিনবে ।
চোখ টলটল পুকুর হয় । পুকুরে বৃষ্টি নামে । রঙ ধনুর মত স্বপ্ন মিলিয়ে যায় ।
আমি তখন বালিকাকে ডাকি -আমি কিনে দেব সব । এসো মেয়ে ।
একটা একটা নিঃশ্বাস ফেলি । আর সে শুধু দূরে হারাতে থাকে। বয়সের তীরে বসে পেছনে ফিরে দেখি হারানো শৈশব।