
একজন গাছপ্রেমী রাতুল ও তার “গুলবাহার তরুকল্প”
শোভন সারোয়ার
পরিচয়টা সামাজিক যোগাযেগের মাধ্যম ফেসবুকের কল্যাণে। তার ফেসবুক ওয়াল জুড়ে দেশি বিদেশি বিভিন্ন ফল ও ফুলের অসাধারণ সংগ্রহ। বারবার দেখে মুগ্ধ হয়েছি। কথায় আছে- বটবৃক্ষের ছায়া যেমন, মায়ের স্নেহ লাগে তেমন। প্রকৃতি বা সবুজের সাথে যার প্রেম, তার অনুভূতি সমগ্র সৃষ্টিকুলের সাথে যুক্ত। হয়তো সেই ভালোবাসা থেকেই গড়ে তুলেছেন রাতুল’স গার্ডেন। মানে রাতুলের বাগান। প্রকৃতির নিরব মায়ায় গড়ে ওঠা রাতুল’স গার্ডেন দুচোখে অবলোকন করা যেন সুন্দর কিছু মুহুর্তের আহবান। অতি অল্প সময়ের পরিচয়ে আমন্ত্রিত হয়ে চলে যাই রাতুল’স গার্ডেন ঘুরে দেখতে।

গাছ, ফুল- বিশেষ করে বিভিন্ন প্রজাতির অর্কিটের ছোট্ট এক রাজ্য গড়ে তোলা এই মানুষটির নাম হাসান ফেরদৌস রাতুল। জন্ম মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুরের সিরাজদিখান উপজেলার খিদিরপুর গ্রামে। তার আঙ্গিনায় প্রবেশ করতেই হাসিমুখে সামনে এগিয়ে এলেন। সৌজন্যতা সেরে বাগানে নিয়ে যান নিজের লাগানো গাছ দেখাতে। চারিদিকে হলুদ, লাল, বেগুনি গোলাপিসহ নানান রংয়ের ফুলের সমারোহ। ঘুরেফিরেও শেষ হয় না সে দেখা।

চলতে চলতে রাতুল ভাই বলতে থাকেন গাছ-জীবনের নানা গল্প। তার পড়াশুনা, পরিবার ও দুই ছেলে জাইন ও আফনানের কথা। ছোট্ট ছোট্ট ছেলেদের সাথে দেখা হয়ে বুঝতে বাকী থাকেনা যে ওরাও বাবার মতই গাছের প্রেমে বেড়ে উঠবে। রাতুল ভাইয়ের আয়ের উৎস পৈতৃক জমি ও কন্টাক্ট কাজ। মাত্র পাঁচ বছর আগে শুরু করা বাগান এখন ফুল ও ফলগাছে ছেয়ে গেছে। তার কাছে রয়েছে অর্কিডের বড় সংগ্রহ। ফুলপ্রেমীদের জন্য সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল অর্কিড গার্ডেন এশিয়ায় অন্যতম সেরা পর্যটনকেন্দ্র। অথচ আমাদের পাশেই রাতুল ভাইয়ের সংগ্রহে রয়েছে ৫০টিরও অধিক প্রজাতির অর্কিড। সংগ্রহ করেছেন থাইল্যান্ড থেকে। অর্কিড জোনের পাশেই ফলগাছের বাগান। দেশি বিদেশি বিভিন্ন ফলগাছের এই উদ্যান যেন এক নিসর্গ অঙ্গন।

গাছপ্রেমী রাতুল ভাই তার বাগানে আরোও গাছ লাগাতে চান। গাছ ও বাগান নিয়ে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা শুনে বেশ অনুপ্রাণিত হই। তার ভাষায়, “গাছের বিকল্প নেই। সকলেরই বেশি বেশি গাছ লাগানো উচিত। সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা সোনার বাংলাদেশের উর্বর মাটি গাছের জন্য খুবই উপযোগী। গাছের প্রতি আমাদের ভালবাসা অপরিসীম। যার ফলশ্রুতিতে বৃক্ষপ্রদানও চলমান আছে।” গাছে গাছে পরিবেশ ভরে দিতে ও মানুষকে গাছপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে রাতুল ভাইয়ের বৃক্ষপ্রদান কর্মসূচি “গুলবাহার তরুকল্প” – যেটি তিনি তার দাদির নামে গ্রহন করেছেন। এ প্রকল্প থেকে গাছ বিনামূল্যে বিতরণ করেন।রাতুল’স গার্ডেন ঘুরে বাড়ি ফেরার সময় অনুভুতিতে থাকে একরাশ শান্তি, এবং সাথে কিছু উপহারের ফুলগাছ।