উলুধ্বনি
আব্দুর রহমান সিরাজী
আমি বার বার ফিরে আসি স্মৃতিমন্থর অশোক তলায়
যেখান থেকে খুব কাছে পরশির বাড়ি আড়শিনগর
সন্ধ্যায় তামাটে অন্ধকারে টুংটাং কাশার ঘন্টা
মৃদু লয়ে বয়ে চলে আনন্দবাজার
আমি কান পেতে শুনি পরশিমাতার উলুধ্বনি
কানপেতে শুনি চিরসুন্দর দূর্গাদেবীর কন্ঠস্বর
একদিন এস্বরইতো আমাকে হাওয়ায় ভাসিয়ে নিয়ে ছিল
নিসিদ্ধ মন্দিরে
যেখানে প্রেমলীলা হতো রাধাকৃষ্ণের মতো একাকিত্বে
বুকের জমিনে মাথা নুইয়ে স্বরস্বতী বলতো ‘পাগল কোথাকার’
আহারে আবেগ! আহারে উচ্ছাস!! আহারে...
কোথায় হারিয়ে গেল সোনাফলা সেই দিনগুলো ?
আগের মতো চঞ্চলা নেই গঙ্গার ¯্রােত
জৌলুশ হারিয়েছে ইছামতি
ফটিক জলে ভাসে না আর পূজার রক্তজবা পাপড়ি
অথচ দাড়কাকগুলো এখনো বাসা বাধে
শীর্ণদেহী তেতুলের মগডালে
আমার বেশ মনে পরে রামসুন্দর বাবুর কথা
চিতার আগুনে নাভিফোটার বিকট শব্দে
হঠাৎ উড়ে গেল ছাইরঙ্গে বাদুর গুলো
সেই যে গেল- আর এলো না ফিরে
এখন শুধু স্বরস্বতীর জেঠি সন্ধ্যায় ধূপ জ্বালে
কে রাখে তার খবর
- আগের মতো ভরাট কন্ঠে কেউ ধরে না উলুধ্বনি।
আমি বার বার ফিরে তাকাই স্মৃতিমন্থর অশোক তলায়
মনে হয় তিলের নাড়– হাতে এখনো দাড়িয়ে আছে স্বরস্বতী
চুপি চুপি ডেকে বলত- ‘আবার এসো সন্ধেশ নিতে’
হায় ইশ্বর! হায় ভগবান! আমি কি সন্ধেশ পাগল ?
কতোদিন হলো বাজে না কাশার ঘন্টা, শুনিনা শঙ্খ ধ্বনি
আর কি হবে না দেখা মধুপূর্ণিমায় চম্পাতলায়
আমি অপেক্ষায় থাকি অনন্তকাল
স্মৃতিমন্থর অশোক তলায়
অথচ একি নিয়তি-
শেওলায় ছেয়ে গেছে মুখার্জী বাড়ির তুলশি তলা
এখন আর কেউ আসে না ফুল দিতে।
অলংকরণ: © ঝিকুটপত্র।